Main Menu

কেশবপুরে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষ্যে দোয়া মাহফিল

অলিয়ার রহমান, কেশবপুর ( যশোর) প্রতিনিধিঃযশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদার বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী চিন্তা ও সাহসী পদক্ষেপের কারণেই বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। তার সুদক্ষ নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোলমডেল হয়েছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা’র সু স্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে কেশবপুর উপজেলা আওয়ামীলীগ” আওয়ামী যুবলীগ”মহিলা আওয়ামী লীগ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ” ও ছাত্রলীগের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত।জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা,বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা’র ৭৪ তম জন্মদিনে সু স্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে আজ বিকালে কেক কাটা সহ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা’র সু স্বাস্থ্য দীর্ঘায়ু ও সহযোগী সংগঠনের অসুস্থ সকল নেতাকর্মীদের  সুস্থতার জন্য মহান সৃষ্টিকর্তার নিকট প্রার্থণা করেন।
১৯৪৭ সালের ২৮শে সেপ্টেম্বর, বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতার ঘর আলো করে টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম হয় বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার।টুঙ্গিপাড়ায় বাল্যশিক্ষা অধ্যয়নরত শেখ হাসিনা ১৯৫৪ সালে পরিবারের সাথে ঢাকায় চলে আসেন। ১৯৫৬ সালে তিনি টিকাটুলির নারীশিক্ষা মন্দির বালিকা বিদ্যালয়ে ভর্তি হন।১৯৬৫ সালে আজিমপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন। ১৯৬৭ সালে গভর্নমেন্ট ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজ(ইডেন কলেজ) থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন।শেখ হাসিনা ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। ১৯৬২ সালে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন ।১৯৬৬ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রার্থী হিসেবে ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রসংসদ নির্বাচনে ভিপি নির্বাচিত হন। তিনি এই কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং পরের বছর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।শেখ হাসিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় সদস্য এবং ১৯৭৩ সালে রোকেয়া হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।১৯৬৭ সালের ১৭ই নভেম্বর বিশিষ্ট পরমানু বিজ্ঞানী ডঃ এম. এ ওয়াজেদ মিয়ার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। সাংসারিক জীবনে তিনি ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ও প্রখ্যাত অটিজম বিশেষজ্ঞ সায়মা ওয়াজেদ পুতুল এর গর্বিত মা।১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘৃন্য খুনি চক্র শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানাকে ছাড়া পরিবারের সকল সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করে।স্বামীর চাকুরীসূত্রে পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করায় বেঁচে যান তাঁরা।১৯৮১ সালের কাউন্সিলে সর্বসম্মতিক্রমে শেখ হাসিনাকে তাঁর অনুপস্থিতিতেই আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।দীর্ঘ ছয় বছরের নির্বাসিত জীবন শেষ করে অবশেষে বঙ্গবন্ধু কন্যা ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে আসেন।১৯৮৬-১৯৮৭ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ স্বৈরশাসক এরশাদের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলেন।১৯৮৬ সালে প্রথমবারের মতো বিরোধী দলীয় নেতা নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সালে আন্দোলনের মাধ্যমে এরশাদ সরকারকে ক্ষমতা থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করে।১৯৯১ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের তৎকালীন বৃহত্তম বিরোধীদল হিসেবে প্রকাশ পায়।১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে খুনি জিয়া ও খন্দকার মোসতাকের জারিকৃত কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে জাতির পিতার খুনীদের বিচারের মুখোমুখি করেন এবং পরবর্তীতে স্বাধীনতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে জাতিকে কলংকমুক্ত করেন।১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রামে সুদীর্ঘ ২৫ বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের অবসান ঘটিয়ে ‘ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি’ করেন শেখ হাসিনা সরকার।উনার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও দাবির কারণে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘ ২১ ফেব্রুয়ারীকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে এবং সদস্য দেশগুলো দিবসটি পালন করে থাকে।২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি জামাত জোটের সীমাহীন দুর্নীতি ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেন এবং ১/১১’র সেনা সমর্থিত অবৈধ সরকারের জেল,জুলুম উপেক্ষা করে নির্বাচন দিতে বাধ্য করে ২০০৮ সালে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে।শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ইতিহাস সৃষ্টি করে একটানা তৃতীয় বারের মতো সরকার প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হন।আন্তর্জাতিক আদালতে মায়ানমার ও ভারতের সাথে সমুদ্র সীমা জয়, ছিটমহল বিনিময়ের মাধ্যমে দীর্ঘ অপেক্ষার ইতিটানা,প্রথমবারের মতো মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ প্রেরণ করা,বিশ্ব মোড়লদের কাছে বাংলাদেশের সক্ষমতার জানান দিয়ে পদ্মা সেতু তৈরীর সাহসী ও আত্মপ্রত্যয়ী উদ্যোগ,মেট্রোরেল নির্মান, নদীর তলদেশ দিয়ে বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মাণ,বিদ্যুতের উৎপাদন সহ অভূতপূর্ব সাফল্যের পথে বাংলাদেশ।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গৃহহীনদের বাড়ি নির্মাণ করে দিচ্ছেন। ভয়াবহ করোনা দুর্যোগের সময় তিনি অসহায় কর্মহীন মানুষের মাঝে খাদ্য, অর্থসহায়তা প্রদান করেছেন। তবে ঘাপটি মেরে থাকা জামায়াত-বিএনপি চক্র উন্নয়নে ঈর্ষান্বিত হয়ে দেশের ভিতরে ও বাইরে ষড়যন্ত্র করছে। তাদের আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করতে হবে।জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৪তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শাহীন চাকলাদার এসব কথা বলেন।তিনি আরো বলেন, আমি আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতা। তৃণমূলের কর্মীরাই আমার প্রাণ। আমার নির্বাচনী এলাকা কেশবপুরের কোনো মানুষ গৃহহীন থাকবে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমে সব গৃহহীনকে বাড়ি করে দেয়া হবে।সোমবার বিকেলে কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে শহরের আবু শারাফ সাদেক অডিটোরিয়ামে এই আলোচনাসভা ও দোয়ামাহফিলের আয়োজন করা হয়। আলোচনাসভা ও দোয়ামাহফিল শেষে ৭৪ পাউন্ড ওজনের একটি কেক কেটে জন্মদিনের উৎসব করা হয়।কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এসএম রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যশোর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক, বেনাপোল পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম লিটন।মেয়র আশরাফুল আলম লিটন বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মানুষের কল্যাণে কাজ করে। গত কয়েক বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তা প্রমাণ করেছেন। এই উন্নয়ন কর্মকান্ড- মানুষের মাঝে তুলে ধরতে হবে। দেশের প্রতিটা সেক্টরে উন্নয়ন চলছে। মানুষের কল্যাণে যারা কাজ করবে তারা মূল্যায়িত হবেন। আপনারা এমন একজন নেতাকে সংসদ সদস্য হিসেবে পেয়েছেন, যিনি মানুষের কল্যাণে নিবেদিত প্রাণ।এসময় আরো বক্তব্য রাখেন কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী গোলাম মোস্তফা, কেশবপুর পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক শহীদুজ্জামান শহীদ, উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কাজী আজারুল ইসলাম মানিক প্রমুখ।আলোচনাসভা শেষে দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা খলিলুর রহমান।এ সময় উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুল মজিদ, কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এইচএম আমির হোসেন, উপজেলা ভাইস – চেয়ারম্যান পলাশ কুমার মল্লিক,উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রাবেয়া ইকবাল, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নাসিমা সাদেক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গৌতম রায়, ইউপি চেয়ারম্যান কাজী মুস্তাফিজুল ইসলাম মুক্ত, ইউপি চেয়ারম্যান আমজেদ হোসেন, ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মুকুল, ইউপি চেয়ারম্যান মাস্টার আব্দুস সামাদ সরদার, ইউপি চেয়ারম্যান এসএম হাবিবুর রহমান, ইউপি চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান, ইউপি চেয়ারম্যান শামসুউদ্দীন দফাদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মফিজুর রহমান মফিজ, পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্মআহ্বায়ক অ্যাড. মিলন মিত্র, কাউন্সিলর জামাল উদ্দীন সরদার প্রমুখ।






Related News

Comments are Closed