Main Menu

চুনারুঘাটে যুবলীগের ইউনিয়ন ও পৌর কাউন্সিলে নেতা হওয়ার দৌঁড়ে প্রায় ৩’শ প্রার্থী; নারী কেলেংকারি,সহ ফরম জমা দিয়েছেন বালুখেকো, যুদ্ধাপরাধী পরিবারের সদস্য ও হাইব্রিড নেতারা

চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি ঃ হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার আওয়ামী যুবলীগের ১০টি ইউনিয়ন, পৌরসভা ও আঞ্চলিক কমিটির কাউন্সিলকে ঘিরে সরর হয়ে উঠছে গ্রামগঞ্জ। ইতিমধ্যে এসব ইউনিটের কাউন্সিলে সভাপতি, সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ার দৌড়ে ৩ শতাধিক নেতাকর্মী ফরম জমা দিয়েছেন। ইউনিয়নের এসব নেতা এখন দৌড়াচ্ছেন জেলা ও উপজেলা নেতাদের কাছে। অনেক হাইব্রিড নেতাও ফরম জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তারাও যুবলীগের আগামী দিনের নেতা হতে চান। তবে যুবলীগে আওয়ামী পরিবারের বাইরে কাউকে এবং বিগত দিনে যারা আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন না তাদের কাউকে দলী পদ দেওয়া হবে না বলে যুবলীগের একটি সূত্র জানিয়েছে। চুনারুঘাট উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন একটি পৌরসভা কমিটি গঠনের লক্ষ্যে আওয়ামী যুবলীগ কাজ শুরু করে করোনার আগে থেকেই। করোনা কিছু স্বাভাবিক ও জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হওয়ার কারণে মাঠের রাজনীতি শুরু হয়। এ অবস্থায় কেন্দ্রের নির্দেশে যুবলীগ তাদের ইউনিটগুলোর কাউন্সিল কার্যক্রম শুরু করে। শুরু হয় বিভিন্ন ইউনিট থেকে ফরম জমা নেওয়া। ইতোমধ্যে ১২টি ইউনিট থেকে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ার দৌড়ে ৩’শ যুবলীগকর্মী ফরম জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে রানীগাঁও ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি পদে ফরম জমা দিয়েছেন এক নব্য আওয়ামীলীগের নামধারী সদস্য ও যুদ্ধাপরাধী সৈয়দ কায়সার রাজাকারের পুত্র তানভীরের তালা মার্কা প্রকাশ্য সমর্থক ও অফিসদাতা। এছাড়াও সমালোচিত নারী কেলেঙ্কারীর সাথে জড়িত ও করাঙ্গী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারী বালুখেকো ও এতিমখানা মাদ্রাসার নামে জমিতে অবৈধভাবে গরুর বাজার স্থাপন করে চাঁদা আদায়সহ অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িতের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি সন্দেহের তালিকায় জনৈক রাজাকারের আপন ভাতিজা জনৈক প্রবাসী ব্যক্তি কিভাবে মুজিব আদর্শের কোন সংগঠনে সদস্যবিহীন থাকা স্বত্তে¡ও কীভাবে ফরম কিনে তথ্য গোপন করে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ফরম জমা দেন সে বিষয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। লোখ মুখে শোনা যায়, এমন বিতর্কিত লোকদের যুবলীগের কমিটিতে স্থান না দেওয়ার জন্য স্থানীয় নেতাকর্মীরা জোর দাবী জানান। অতীতে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সদস্যও না এমন লোকও হঠাৎ করে যুবলীগে ঢুকতে চায়। এ নিয়ে উপজেলার রানীগাঁও সহ প্রায় ইউনিয়নেই মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্তে এবার জেলা ও উপজেলার সমন্বয়ে ১৬ নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এ কাউন্সিল গঠনের। তাদের মাধ্যমেই চলছে এসব কার্যক্রম। তবে নেতা নির্বাচন ভোটে হবে না কি সিলেকশনে হবে তা এখনো জানা যায়নি। তবে যুবলীগের একটি দায়িত্বশীল সুত্র জানিয়েছে জেলা কমিটির সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত। তারা যে সিদ্ধান্ত দিবে সেভাবেই কমিটি গঠন করা হবে। আওয়ামী যুবলীগের এ কাউন্সিলকে ঘিরে পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার এখন সরগরম। নেতাকর্মীদের ভিড় জমেছে উপজেলা সদরে। চলছে লবিং ও গ্র“পিংসহ নেতা হওয়ার দৌঁড়। এ দৌঁড়ে যারা এগিয়ে যাবেন তারাই হবেন আগামী দিনের ইউনিয়ন ও পৌরসভার কান্ডারী। পৌরসভায় নেতা হওয়ার দৌড়ে বর্তমান আহবায়ক নাজমুল হক বকুল ও যুগ্ম আহবায়ক লুবন, আঃ রহমানসহ একাধিক প্রার্থী রয়েছেন। তেমনি ইউনিয়ন কাউন্সিলেও রয়েছেন একাধিক প্রার্থী। তার মধ্যে যুবলীগে নতুন এসেছেন এমন অনেকেই প্রার্থী হয়েছেন। তারা নেতা হওয়ার জন্য এখন দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন। তবে কেন্দ্রীয় যুবলীগের নির্দেশ রয়েছে কোন ভাবেই হাইব্রিড কোন নেতা যেন কোন পদে না আসে। একই সাথে আওয়ামী পরিবারের বাইরে কাউকে কোন ভাবেই পদে আনা যাবে না এমন নির্দেশনাও রয়েছে। এসব নিয়েই এখন চলছে প্রার্থী যাচাই বাছাই। চুনারুঘাট উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি লুৎফুর রহমান চৌধুরী জানিয়েছেন, কেন্দ্রের কড়া নির্দেশ রয়েছে, দলে কাউকে পদে বসাতে হলে যাচাই বাছাই করে যুবলীগের পদ দিতে হবে। আওয়ামী পরিবারের বাইরে কাউকে দলের পদ দেওয়া হবে না। আমরা এসব বিষয় খেয়াল রেখেই দলীয় কাউন্সিলের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। তিনি বলেন, ১২টি ইউনিট থেকে ৪টি পদে ৩শ’র বেশি প্রার্থী সিভি জমা দিয়েছেন। এগুলো জেলা কমিটির নির্ধারিত নেতৃবৃন্দ যাচাই বাছাই করছেন। তাদের সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই কাউন্সিলে কমিটি গঠন করা হবে। এদিকে চুনারুঘাট উপজেলা যুবলীগের ইউনিয়ন কাউন্সিলে যাতে কোন হাইব্রিড বা নব্য আওয়ামী লীগার পদ না পায় সেজন্য সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও কড়া নজর রাখছে। তারা ইতোমধ্যে খোঁজ খবর নিচ্ছেন কারা কারা দলীয় পদে আসতে চায় এবং তারা পারিবারিক ভাবে আওয়ামীলীগ পরিবারের নাকি দলে নতুন আসা নেতাকর্মী। কেন্দ্রের নির্দেশ রয়েছে ২০০৯ সালের আগে যারা আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল, শুধু তাদেরকেই পদে রাখা যাবে। এছাড়া দলে কোন দুর্নীতিবাজ, টেন্ডারবাজ, ক্যাসিনোবাজকে কোন ভাবেই পদ দেওয়া যাবে না। এসব কিছুর বিচার বিশ্লেষন করেই আওয়ামী যুবলীগের কাউন্সিলে নেতা নির্বাচন করা হবে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন দায়িত্বশীল নেতা।






Related News

Comments are Closed