Main Menu

বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাৎকরায় শিক্ষকের বিরুদ্বে সংবাদ সম্মেলনে

গাইবান্ধা প্রতিনিধি :গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের উত্তর ছয়ঘড়িয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সফির উদ্দিন কর্তৃক বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে উক্ত বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও এলাকার অভিভাবকদের পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিকার ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক সরকার লিখিত বক্তব্যে উলে¬খ করেন, উক্ত শিক্ষক সফির উদ্দিন জালিয়াতির মাধ্যমে সহকারি প্রধান শিক্ষক পদে এমপিওভূক্ত হয়ে চাকরিবিধি লংঘনসহ বিদ্যালয়ের নামে মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগ মামলা দায়েরসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘিœত করে আসছে।
উলে¬খ্য, চার দলীয় জোট সরকারের বিএনপি দলীয় প্রয়াত সাবেক এমপি আব্দুল মোত্তালিব আকন্দকে মিথ্যা ও জালিয়াতি তথ্য প্রদান করে তাঁর ডিও লেটার মহাপরিচালক বরাবরে প্রদান করে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষকের বেতন ভাতা স্থগিত করে তাকে অপসারণ করেন। এছাড়া উক্ত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের নির্দেশে সফির উদ্দিন প্রধান শিক্ষক পদে বহাল হয়। পরবর্তীতে ম্যানেজিং কমিটির পক্ষ থেকে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হলে অভিযোগটি সম্পুর্ন মিথ্যা প্রমাণিত হয় এবং প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক স্বপদে বহাল হলে তার পদটি শূন্য হয়। এমতাবস্থায় সফির উদ্দিন পদবী শূন্য শিক্ষক হিসাবে বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থেকেও ম্যানেজিং কমিটির তৎকালিন সভাপতি ও কতিপয় সদস্যকে প্রভাবিত করে চাকরিবিধি লংঘন করে জালিয়াতির মাধ্যমে এমপিওভূক্ত হয়ে সহকারি প্রধান শিক্ষ পদে দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়।
শুধু তাই নয়, উক্ত শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়ে বিদ্যালযের বিভিন্ন খাতের প্রায় ৩ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করে। কতিপয় এনজিও, দাদন ব্যবসায়ি, ছাত্রছাত্রদের অভিভাবকদের কাছ থেকে বিভিন্নভাবে ধার ও ঋণ কয়েক লক্ষ টাকা আতœসাৎ করে। বিগত তিন বছর যাবৎ পাওনা দারের চাপে বিদ্যালয়ে মোট কার্য দিবসের অর্ধেকদিন অনুপস্থিত থেকে সভাপতির সহায়তায় উপস্থিত স্বাক্ষর প্রদান ও বেতন উত্তোলনে প্রায় চার লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে।
এছাড়া উক্ত শিক্ষক ১৯৯৩ সালে স্নাতক পাশ পরীক্ষায় রাজশাহী বি: বি: অধীনে গোবিন্দগঞ্জ ডিগ্রী কলেজ কেন্দ্রে নিয়মিত পরীক্ষাথী হিসেবে অংশ গ্রহণ করে। অতঃপর জাতীয় বি: বি: অধীনে জামালপুর আশেক মাহমুদ সরকারী কলেজ কেন্দ্র রোল পি: ২৫২৪৪ রেজি নং- ১২৮৩২ প্রাইভেট পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে। একই ব্যক্তি একই সময়ে ও তারিখে দুটি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করলো তা থেকে সহজেই অনুমেয় এ বাবদ তার অর্জিত শিক্ষা সনদ দুটি সম্পূর্ন জাল বলে সংবাদ সম্মেলনে উলে¬খ করা হয়।
পরবর্তীতে উক্ত শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য ম্যানেজিং কমিটি বিজ্ঞপ্তি প্রদান, রেজুলেশন, ভারপ্রাপ্ত থেকে সফির উদ্দিনের অব্যাহতি, খ.ম. জোবাইদুর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব প্রদান রেজুলেশন ও নিয়োগ আবেদন যাচাই-বাছাই সভার রেজুলেশন ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষর স্ক্যান করে জালিয়াতির মাধ্যমে রেজুলেশন তৈরীসহ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। এতে কতিপয় ম্যানেজিং সদস্যবৃন্দ বিষয়টি অবগত হয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবরে প্রতিকার চেয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। কিন্তু কোন প্রতিকার না পেয়ে গোবিন্দগঞ্জ সহকারি জজ আদালতে অন্য ১৪৭/২০ একটি মামলা দায়ের করে। এব্যাপারে আদালত এই অনিয়মের বিরুদ্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ফলে জালিয়াতির মাধ্যমে গৃহীত নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ইউপি সদস্য ও বিদ্যালয়েল অভিভাবক সদস্য রেজাউল করিম, সহকারি শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক, কর্মচারি আব্দুল গফুর, এলাকাবাসি জিন্নাতুল ইসলাম, শাহীন মিয়া প্রমুখ।






Related News

Comments are Closed