Main Menu

সিরাজদিখানে সংখ্যালঘু পরিবারের সাংবাদিক সম্মেলন


মোঃ আমির হোসেন ঢালি সিরাজদিখান (মুন্সিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার কোলা ইউনিয়নের গৌরীপুরা গ্রামের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত সংখ্যালঘু পরিবারের গাঙ্গুলী বাড়ির সম্পত্তি জালিয়াতির মাধ্যমে বেদখলের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে,গতকাল ৯ আগষ্ট রবিবার দুপুরে গাঙ্গুলী বাড়ীর মন্দির প্রাঙ্গনে সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়েছে।
এর আগে ভুক্তভোগি গৌরিপুরা গ্রামের প্রবীন সমাজসেবক বাবু সুদর্শন গাঙ্গুলীর উপস্থিতিতে তার পক্ষে সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুবীর চক্রবর্তী।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, প্রতারণা আর জালিয়াতি সন্ত্রাসী ব্যবহার করে আমাদের পত্রিক সম্পত্তি দখলে নেয়ার জন্য তৎপর এলাকার একটি অশুভ শক্তি। বিভিন্ন লোক মাধ্যমে আমিসহ আশপাশের হিন্দু সম্প্রদায়কে পিটিয়ে দেশ থেকে তারিয়ে দেয়ার জন্য হুমকিদেয়া হচ্ছে এবং দেয়া হচ্ছে হত্যার হুমকি। 
প্রতিকারের জন্য সিরাজদিখান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউদ্দন আহমেদকে নালিশ করলে তিনি আমাকেসহ বিবাদিগনকে ডাকলেও তারা উপস্থিত না হয়ে উল্টো আমাকে ও আমাদের পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দিচ্ছে এবং বলছে বিষয়টি চেপে যেতে এবং আমাদের জমির দখল বুঝিয়ে দিতে।
তিনি আরো বলেন,আমাদের পৈত্রিক সূত্রে মালিকানা প্রাপ্ত ৮১ শতাংশ জমি এলাকার সোবহান মাঝি, সহিদুল, সিদ্দিক মোল্লা, ইউপি সদস্য রওশন আরা, সাদিয়া পারভীন লাবনীসহ একটি চক্র। জালজারিয়াতি ও প্রতারনা করে হাতিয়ে নেয়ার প্রচেষ্ঠা করছে। এই সম্পত্তির বর্তমান বাজার মুল্য কোটি টাকা।
বিষয়টি আমি জানতে পেরে সোবহান মাঝির সাথে দেখা করতে গেলে সোবহান মাঝি ও সিদ্দিক মোল্লা আমাকে বলেন বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলে আমাকে হত্যা করে আমার পরিবারসহ প্রতিবেশী হিন্দু সম্প্রদায়কে পিটিয়ে উলঙ্গ করে দেশ ছাড়া করা হবে। সিদ্দিক মোল্লার নামে বিভিন্ন সময় নানা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডসহ অপরাধী কর্মকান্ডের অভিযোগের কারনে গ্রামের সকলেই তাকে ভয় পায়। ফলে উপজেলার চেয়ারম্যানকে বিষটি লিখিত ভাবে জানিয়ে আমরা সিদ্দিক মোল্লা বাহিনীর সদস্যদের ভয়ে অনেকটা গৃহবন্দি হয়ে আছি। লোকমুখে জেনেছি আমাদের পুরো পরিবারের জমি সম্পদ দখলে নেয়ার জন্য বিভিন্ন এলাকার অপরাধীদের নিয়ে সিদ্দিক মোল্লা নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছে। ফলে আমরা পরিবারসহ আতঙ্কের মধ্যে দিন অতিক্রম করছি। আপনারা খোঁজ নিয়ে জানতে পারবেন সিদ্দিক মোল্লা কতোটা ভয়ঙ্গর অপরাধী এছাড়া তার ছেলে বিদ্যুৎ মোল্লাও বাহিনী নিয়ে এলাকায় টহল দিয়ে বলে বেড়াচ্ছে আমাদের গ্রাম ছাড়া করার কথা। সিদ্দিক মোল্লার বাবা মোনতাজ উদ্দিন মোল্লা ওরফে মন্তা মোল্লা ১৯৭১ সালে স্থানীয় স্বাধীনতাবিরোধী ছিলো। সংখ্যালঘুসহ দুর্বল পরিবার গুলোকে তারা বিভিন্ন সময় টার্গেট করে বিভিন্নভাবে হয়রানীসহ জমি হাতিয়ে নিয়েছে। বর্তমানে ভয়ংকর এই বাহিনীর সদস্যদের কারনে আমরা অনিরাপদ হয়ে পড়েছি।
তিনি আরো বলেন,যে বাড়ীতে আপনাদের নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করছি এখানেই ১৯৭১ সালে ঢাকা থেকে এসে আশ্রয় নিয়েছিলেন তৎকালীন দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান হিসাব রক্ষক অনিল কুমার সাহাসহ সাংস্কৃতিক কর্মীরা। এক রাতে স্থানীয় রাজাকাররা পাকিস্থানী সৈন্যদের এনে আমাদের বাড়ীতে আশ্রয় নেয়া ইত্তেফাকের প্রধান হিসাবরক্ষক অনিল কুমার সাহাকে নির্মমভাবে নির্যাতন চালিয়ে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করে। আমার বাবাকে ও আমাকে ধরে নিয়ে যায় মুন্সিগঞ্জের হরগঙ্গা কলেজের পাকিস্থানী সেনা ক্যাম্পে। বর্বর নির্যাতন চালোনো হয় আমার ও বাবার উপরে। তাদের নির্যাতনের শিকার হয়ে ফিরে আসলেও এখনো ভুলতে পারিনা সেই বিভিষিকাময় দিনের কথা। এরপর দেশ স্বাধীনের পরে আমি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি। দলের কঠিন সময়ে আমি সভাপতির দায়িত্ব পালন করে অনেক ঝুকিতে পড়েছি। অথচ দল ক্ষমতায় আর আমি স্বাধীনতাবিরোধীদের ষড়যন্ত্রে আমার জমি হারাতে বসেছি।
আমি শ্রীনগর ও সিরাজদিখান দৈনিক ইত্তেফাকের সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করি। আমার প্রয়াত ভাই সুভাষ গাঙ্গুলী ও ইত্তেফাকের প্রধান হিসার রক্ষক হিসেবে কাজ করে গেছেন। আমি আপনাদেরই সাংবাদিক পরিবারের একজন।
সংবাদ সম্মেলনে সিরাজদিখান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সিরাজদিখান উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি হাজী মহিউদ্দিন আহম্মেদ,উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মঈনূল হাসান নাহিদ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তাহমিনা আক্তার তুহিন,মুন্সীগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছা সেবকলীগ সাধারন সম্পাদক তাইজুল ইসলাম পিন্টু,মুন্সীগঞ্জ জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্ঠান ঐক্য পরিষদ সাধারণ সম্পাদক সুবীর চক্রবর্তী,সিরাজদিখান উপজেলা যুবলীগ যুগ্ম আহবায়ক মাসুদ লস্কর, উপজেলা যুবলীগ আহবায়ক কমিটির সদস্য জাহিদ শিকদার,উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্ঠান ঐক্য পরিষদ সভাপতি বিমল দাস, সিরাজদিখান উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্ঠান ঐক্য পরিষদ সাধারণ সম্পাদক তপন রাজবংশী, কেন্দ্রীয় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্ঠান ঐক্য পরিষদ নেতা বলরাম বাহাদুর,মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্র যুব ঐক্য পরিষদ সভাপতি তাপশ কুমার দাস, ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি মাসুদ মিয়া, উপজেলা যুবলীগ,স্বেচ্ছাসেবক লীগ,ছাত্রলীগ স্থানীয় ইউপি মেম্বার ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।






Related News

Comments are Closed