Main Menu

মতলবে আ’লীগে অনুপ্রবেশকারী কাজী মিজানের দখলবাজিতে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক :মতলব উত্তরে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী কাজী মিজানের দখলবাজিতে অতিষ্ঠ তার অত্যাচার, নির্যাতন, জমি দখল, সন্ত্রাস আর চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। নেতার বদলে ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের কাছে জলজ্যান্ত আতঙ্কের নাম মিজান। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গোটা মোহনপুর ইউনিয়ন ও তার আশপাশের এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে এক সময়ের দুর্র্ধষ ছাত্রদল ক্যাডার থেকে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী এই কুখ্যাত সন্ত্রাসী।
দখলবাজি চালাতে এলাকায় তার রয়েছে বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী। এই সন্ত্রাসী বাহিনীর ভয়ে কেউই তার অত্যাচার, নির্যাতনের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। মিজান ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে যেই মুখ খোলে তার উপরেই নেমে আসে অবর্ণনীয় জুলুম-নির্যাতন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিএনপি আমল থেকেই এলাকায় ত্রাস হিসেবে পরিচিত কাজী মিজান ও তার বাহিনী ইতিমধ্যে এলাকার অনেকের উপরে হামলা চালিয়ে, মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করেছে। লুটপাট-ভাঙচুর চালিয়ে বাড়িঘর-জমিজমা দখলের চেষ্টা করছে। শুধু সাধারণ মানুষই নয় মিজান বাহিনীর জুলুম নির্যাতনের হাত থেকে রেহাই মিলছে না খোদ আওয়ামী লীগ দলীয় নেতাকর্মীদেরই। 
এমনকি মুক্তিযোদ্ধারাও বাদ যাচ্ছেন না। মিজান বাহিনীর এই অত্যাচার নির্যাতনের হাত থেকে রেহাই পেতে পুলিশ সুপারসহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন নির্যাতনের শিকার অসহায় এলাকাবাসী । কুখ্যাত এই সন্ত্রাসীকে মতলব উত্তর উপজেলায় অবাঞ্চিত ঘোষণা করছে সাধারণ জনগণ। শুধু তাই নয়, নৌ পথের সকল অবৈধ ব্যবসা তার ভাই হাবিব, মতিনের নিয়ন্ত্রনে পরিচালিত হয়। পর্যটন কেন্দ্রের নামে জায়গা দখল করছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রশ্ন!! 
মোহনপুর থেকে নৌ পথে ১০ মিনিট দূরের পথে সরকারের নিয়ন্ত্রিত ষাটনল পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। তারপরও কেন মোহনপুরে পর্যটন কেন্দ্র করতে হবে! দূরপাল্লার জাহাজ থেকে প্রতি রাতে প্রায় ১০ লাখ টাকার তেল ক্রয় করা হয়। যা উপজেলার বড় বড় হাট সটাকী, ষাটনল, মোহনপুর বাজার ও তার নিজস্ব ড্রেজার বিক্রয় করে থাকে। একাধীক ডিসের কন্ট্রল রুম তার দখলে রয়েছে। 
মিজানের উত্থান যেভাবে: মোহনপুর ইউনিয়নের সকল কুকর্মের নায়ক মিজান। বিএনপি সরকারের আমল থেকেই এলাকায় সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। ওই সময় বিএনপির ছত্রচ্ছায়ায় পদ বাগিয়ে নেয় এই সন্ত্রাসী। এরপর থেকেই রাজনৈতিক পরিচয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব শুরু করে মিজান গংরা। আওয়ামী লীগ  নেতাকর্মীদের ওপরে চালানো হয় নির্মম জুলুম- নির্যাতন। 
মোহনপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের শত শত নেতাকর্মীর নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল জরিমানাসহ বছরের পর বছর বাড়িছাড়া করে রাখে এই মিজান। সর্বশেষ গত মাসে মোহনপুর ইউনিয়নের বাহেরচরে আ’লীগ নেতাকর্মীদের মামলা দিয়ে হয়রানির উদ্দেশ্যে মিজান গংরা একাধিকবার বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবিও ভাঙচুর করে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এসে ক্ষমতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে কৌশলের আশ্রয় নেয় মিজান। 
মূলত মেঘনা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে শতকোটি মালিক বুনে যায় কাজী মিজান। বিধায় রাজনীতিতে তার বিরোধী দল বলতে কিছু নেই। সর্ব মহলে স্বীকৃত মিজান সব সময় সরকার দলের। এ ব্যাপারে কাজী মিজানুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, আমার উপর আনিত অভিযোগ মিথ্যা। আমাকে হেয় করার জন্য একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে।






Related News

Comments are Closed