Main Menu

নওগাঁয় সরকারি গুদামে ধান দিতে কৃষকের অনীহা

সোহেল রানা, নওগাঁ জেলা, প্রতিনিধিঃ নওগাঁয় সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না কৃষকেরা। ধান সংগ্রহ অভিযান শুরুর দেড় মাসে মাত্র ৩৯৪ মেট্রিক টন ধান কেনা হয়েছে। গুদামে ধান বিক্রয়ের জন্য নির্বাচিত কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও গুদামে ধান দিতে আগ্রহী করা যাচ্ছে না তাদের কে।স্থানীয় কৃষক ও খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে যানা যায়, ধানের বর্তমান বাজারদর ও গুদামে ধান ক্রয়ের সরকার–নির্ধারিত দাম প্রায় সমান। এ পরিস্থিতিতে গুদামে ধান বিক্রি করে কৃষকদের তেমন লাভ থাকবে না। তার ওপর কৃষকদের অতীত অভিজ্ঞতা বলে সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করা অনেক ঝুক্কি-ঝামেলার। আর্দ্রতার কথা বলে প্রতি মন ধানে এক-দুই কেজি করে বেশি ধান নেওয়া হয়। অনেক সময় বিভিন্ন টালবাহানায় ধান ফেরতও দেওয়া হয়। কিন্তু বর্তমান স্থানীয় বাজারে এসব ঝুক্কি-ঝামেলা নেই।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে নওগাঁ জেলার ১১টি উপজেলার মধ্যে সদর উপজেলায় কৃষকের অ্যাপের মাধ্যমে এবং বাকি ১০টি উপজেলায় লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত কৃষকদের কাছ থেকে সরকারি গুদামে ধান ক্রয় করা হবে। জেলায় ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২ হাজার ৩৪০ মেট্রিক টন। প্রতি মণ ১ হাজার ৪০ টাকা (২৬ টাকা কেজি) দরে ১৪ শতাংশ নিচের আর্দ্রতার ধান কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইতিমধ্যে লটারির মাধ্যমে ২৯ হাজার ৪০০ এবং কৃষকের অ্যাপে আবেদন করা কৃষকদের মধ্য থেকে ২ হাজার ৯০০ কৃষককে সরকারি গুদামে ধান বিক্রির জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। গত ২৬ এপ্রিল থেকে জেলায় সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১৯টি সরকারি খাদ্যগুদামে মাত্র ৩৯৪ টন ধান কেনা হয়েছে।

 জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এবার ১ লাখ ৮২ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। ৯৫ শতাংশ জমিতেই জিরা ও কাটারিভোগ জাতের ধানের আবাদ হয়েছে। বাকি জমিতে সুগন্ধি ও বিআর-২৮ ধানের চাষ হয়েছে।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নওগাঁর বিভিন্ন  হাটবাজারে বর্তমানে কেজিদরে প্রতি মণ কাটারীভোগ ৯৮০-১০৫০ টাকা, জিরা ১০৫০-১১৫০ টাকায় ও বিআর-২৮ ও বিআর ২৯ ধান ৯২০-৯৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার চন্দননগর ইউনিয়নের বুধুরিয়া গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ দানেশ মণ্ডল এ বছর ৪৫ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করেন। বিঘাপ্রতি গড়ে ২০ মণ করে মোট ৯০০ মণ ধান পেয়েছেন তিনি। মৌসুমের শুরুতে বাজারে ধানের দাম কম থাকায় সরকারি গুদামে ধান বিক্রির জন্য লটারিতে নাম লেখান। গুদামে ধান দেওয়ার জন্য লটারিতে তিনি নির্বাচিতও হন। কিন্তু কিছুদিন পরেই বাজারে ধানের দাম বেড়ে যায়। এখন সরকারি গুদামে ধান বিক্রিতে তাঁর কোনো আগ্রহ নেই।
আত্রাই উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের লটারি বিজয়ী কৃষক বিপ্লব কুমার বলেন ‘গুদামে যে দামে ধান বিক্রি করব, সেই দাম বাজারেই পাচ্ছি। বাড়ি থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে ঝক্কি-ঝামেলার মধ্যে কেন গুদামে ধান দিতে যাব? আগে ধান দিতে গিয়ে ধানের রং ভালো না, আর্দ্রতা বেশি, এসব কথা বলে অনেক হয়রানি হয়েছি। লাভ বেশি হলে হয়তোবা এসব হয়রানি মেনে ধান দিতাম।’
বর্তমানে নওগাঁর কৃষকেরা সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে আগ্রহ তেমন দেখাচ্ছেন না। গুদাম কর্তৃপক্ষ কৃষকদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করে ধান বিক্রির জন্য অনুরোধ জানিয়েও কোনো সাড়া পাচ্ছে না।






Related News

Comments are Closed