Main Menu

নারায়ণগঞ্জে শ্রমিক অসন্তোষ

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি :নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার পঞ্চবটি এলাকায় মজুমদার নিটওয়্যার গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানটি অনিয়মতান্ত্রিক বন্ধ ঘোষণা করায় শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সোমবার (৮ জুন) সকাল ৮টায় ৭ শতাধিক শ্রমিক কাজে যোগদান করতে এসে ফ্যাক্টরীতে তালা ঝুলানো দেখে তারা বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে বিপুল সংখ্যক শিল্প পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
জানা যায়, করোনা পরিস্থিতির কারণে দুই মাস ফ্যাক্টরীটি বন্ধ থাকার পর গত রবিবার (৭ জুন) খোলার কথা ছিল। সেদিন সকালে শ্রমিকরা ফ্যাক্টরীতে গিয়ে জানতে পারে যে আগামীকাল থেকে পুনরায় বন্ধ ঘোষণা করা হচ্ছে। তখন তারা বকেয়া বেতনের দাবী উত্থাপন করে। এসময় ফ্যাক্টরীর জিএম সামছুল হক উত্তেজিত শ্রমিকদেরকে জানায় আগামীকাল মালিক পক্ষের লেঅকজন এসে আপনাদের সাথে আলোচনা করবে। এর প্রেক্ষিতে আজ সকালে শ্রমিকরা ফ্যাক্টরীতে এসে দেখে গেটে তালা ঝুলানো রয়েছে তাদেরকে ভিতরে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। তখন তারা গেটের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে গত রবিবার থেকে বিপুল সংখ্যক শিল্প পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফতুল্লার পঞ্চবটি হরিহারপাড়ায় অবস্থিত মজুমদার নিটওয়্যার একটি অংশীদার ভিত্তিক গার্মেন্টস শিল্প প্রতিষ্ঠান। ফ্যাক্টরিটি নারায়ণগঞ্জে হলেও প্রতিষ্ঠানের হেড অফিসে ঢাকার পল্টনে অবস্থিত। গার্মেন্টসটি বিগত প্রায় চার দশকের অধীককাল যাবৎ একটি পারিবারিক অংশীদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুনামের সাথে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। এই প্রতিষ্ঠানের মালিক ছিলেন প্রয়াত ফজলুল হক মজুমদার। তিনি মারা যাওয়ার পর এই প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বে আসেন তারই তিন ছেলে সাইদুল হক মজুমদার, মাইনুল হক মজুমদার এবং সদ্য প্রয়াত এনামুল হক মজুমদার। মরহুম ফজলুল হক মজুমদার এবং তার ছেলে এনামুল হক মজুমদার মৃত্যুর পর বর্তমানে সাইদুল হক মজুমদার এবং মাইনুল হক মজুমদার উক্ত প্রতিষ্ঠানের বর্তমান মালিক। এই প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ীক সাফল্যের পিছনে মাইনুল হক মজুমদার ও এনামুল হক মজুমদার গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন। কিন্তু, সা¤প্রতিক সময়ে এনামুল হক মজুমদারের মৃত্যুর পর থেকেই তারভাই সাইদুল হক মজুমদারের পুত্র সাইদ মুহাম্মদ সাজ্জাদ উক্ত প্রতিষ্ঠানটিসহ মালিকগনের অন্যান্য ব্যবসায় নিজের ক্ষমতা এবং প্রতিপত্তি বিস্তারের প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে এবং ব্যবসায় অবৈধ হস্তক্ষেপ করে আসছে।
ফ্যাক্টরীর সামনে অবস্থানরত কিছু শ্রমিক এবং কর্মচারির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এরই প্রেক্ষিতে চাচা মাইনুল হক মজুমদারকে ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিপ্রায়ে গত ০২/০৬/২০ইং তারিখে সাইদ মুহাম্মদ সাজ্জাদ অংশীদারগণের অজ্ঞাতে এবং বিনা সম্মতিতে কিছু অসাধু কর্মাচারির সহায়তায় ফ্যাক্টরী হতে বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ণ মালামাল/কাঁচা মাল অন্যত্র সরিয়ে ফেলার চেষ্টা চালায়। তখন উপস্থিত শ্রমিকদের বাঁধার মুখে তারা সম্পুর্ন রূপে সফল হতে ব্যার্থ হয়ে গত ০৩/০৬/২০ইং তারিখে মাইনুল হক মজুমদারের বিনা সম্মতিতে এবং তার অনুপস্থিতিতে সাইদ মুহাম্মদ সাজ্জাদ সম্পুর্ণ বে-আইনি ভাবে নিজেকে অত্র প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে দাবী করে অত্র প্রতিষ্ঠানটি সকল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে একটি নোটিশ জারি করে ( যা বিগত ০৪/০৬/২০ইং এ কোম্পানির নোটিশ বোর্ডে টাঙ্গিয়ে দেয়া হয়) এবং বিকেএমই, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ, ফতুল্লা থানা সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে অনুলিপি প্রেরন করে। যাহা সম্পূর্ন বেআইনি, অংশীদার আইন, শ্রম আইন সহ অন্যান্য প্রচলিত আইন এবং প্রতিষ্ঠানের সংবিধানের পরিপন্থি।
শ্রমিকরা আরো জানায়, উদ্ভূত পরিস্থিতে এরূপ বে-আইনী নোটিশ জারি করায় শত শত শ্রমিকের জীবন-জীবিকা বিপন্ন হয়ে পরে। প্রচুর শ্রমিক যারা প্রায় বিগত ২/৩ যুগ যাবৎ এই ফ্যাক্টরীকে তাদের কর্মস্থল এবং জীবিকার আশ্রয়স্থল হিসেবে জেনে আসছেন তাদের পাওনাদির কি উপায় এবং কতদিনের মধ্যে পরিশোধ করা হবে সে ব্যাপারেও কোন সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনা/সিদ্ধান্ত উক্ত নোটিশে দেয়া হয়নি।
এ ব্যাপারে মাইনুল হক মজুমদারের মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি একটি আইনি নোটিশ প্রেরন করা হয়েছে এবং ফতুল্লা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করার চেষ্টা করলে, পুলিশ তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়। ফতুল্লা থানায় সাধারণ ডায়েরী করতে ব্যার্থ হয়ে রাজধানী ঢাকার পল্টন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করা হয়। বিকেএমইএ এর নারায়ণগঞ্জ কার্যালয় এবং প্রতিনিধিগণ অত্র বিষয়ে সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন।
এ ঘটনা সম্পর্কে জানতে সাইদুল হক মজুমদারের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলেও সে ফোনটি রিসিভ করে নাই।
এ ব্যাপারে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৪ এর পুলিশ সুপার সৈকত শাহীন জানায়, আমি একটি মিটিংয়ে আছি। আপনি আমাদের ইন্টিলিজেন্সের সাথে কথা বলেন সে ঘটনাস্থলে আছে।
ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৪ এর পরিদর্শক (ইন্টিলিজেন্স) বশির আহমেদ জানায়, কাজ না থাকায় মালিক পক্ষ ফ্যাক্টরীটি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। তাই শ্রমিকরা পাওনা টাকার দাবীতে বিক্ষোভ করছে। আমরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। মালিক পক্ষ দুপুরের পর আসবে সেজন্য বর্তমানে শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছে।






Related News

Comments are Closed