Main Menu

চিকিৎসকের পরিবারের ১৮ সদস্যেসহ ৩০ জনের করোনা শনাক্ত নারায়ণগঞ্জে

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:নারায়ণগঞ্জে চিকিৎসকের পরিবারের ১৮ সদস্যেসহ জেলায় ৩০ জনের করোনাভাইরাস পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে জেলা সিভিল সার্জনসহ আড়াইহাজার ও রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
জানা যায়, জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিক্যাল অফিসার ডা. শিল্পী আক্তারের পরিবারের ১৮ সদস্যের করোনাভাইরাস পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে। তবে মেডিক্যাল অফিসার করোনায় আক্রান্ত হননি। পরিবারটি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার কুতুবপুর ইউনিয়নের দেলপাড়া এলাকায় বসবাস করে। মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা করোনা বিষয়ক ফোকাল পারসন ও সদর উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম। স্থানীয়রা জানান, প্রথমে মেডিক্যাল অফিসারের ভাই আনিসের দেহে করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়। এরপর সন্দেহ হলে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় আইইডিসিআরে পাঠানো হয়। এরপর আরও ১৭ জনের পজিটিভ রিপোর্ট আসে।
এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজ বলেন, মেডিক্যাল অফিসার শিল্পী আক্তারের শরীরে করোনা পজেটিভ আসেনি। তবে তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য এবং বাড়ির আশপাশে থাকা নিকট আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে ১৮ জনের শরীরে করোনাভাইরাস পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে।
সিভিল সার্জন জানান, নমুনা পরীক্ষায় পজিটিভ এলেও আক্রান্তদের মধ্যে করোনার কোনও ধরনের উপসর্গ নেই। শারীরিক অবস্থাও মোটামুটি ভালো। তারা সবাই নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন।
এদিকে, আড়াইহাজার উপজেলায় আরও ৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়মা আফরোজ ইভা জানান, ২৩ এপ্রিল যাদের নমুনা প্রেরণ করা হয়েছে এদের মধ্যে সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাতে ৫ জনের করোনা পজিটিভ আসে। এরা হলেন, উপজেলা প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন (৪৫), হাসপাতালের স্বাস্থ্য পরিদর্শক ইনচার্জ নূরে আলম মোল্লা (৫৫), পাচঁবাড়িয়া গ্রামের আয়েশা আক্তার (১৮), প্রভাকরদী গ্রামের সুরুজ আলী (৪৭), একই গ্রামের আব্দুল হক (৭০)। এই নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা মোট ১৯ জন।
অপরদিকে, রূপগঞ্জে গত চব্বিশ ঘন্টার ব্যবধানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসারসহ ৭ জন করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার সাইদ আল মামুন। এ ঘটনায় করোনা আতংক ছড়িয়ে পড়েছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ আশপাশের এলাকায়। কয়েকজন সাধারণ রোগী হাসপাতাল ছেড়ে চলে গেছেন বলেও খবর পাওয়া গেছে। চিকিৎসা সেবা নিতে আসছেন না নতুন কোন রোগীও। এতে করে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন আগে করোনা প্রজেটিভ নিয়ে আসা উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের বীর হাটাবো এলাকার কলেজ ছাত্রী আছমা উল হোসনাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। তার সংস্পর্শে আসা তার মা নাছিমা বেগমসহ হাসপাতালের কয়েকজন কর্মকর্তা কর্মচারীর নমুনা সংগ্রহ করে দুইদিন আগে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় তাদের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট এলে জানা যায়, হাসপাতালের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার লাকী আক্তার, রেডিওলোজি অপারেটর সেলিনা বেগম, হাসপাতালের খন্ডকালীন বাবুর্চি পারভীন বেগম, হাসপাতালের আয়া আনোয়ারা বেগম, কলেজছাত্রী আছমা-উল হোসনার মা নাছিমা বেগম, রূপগঞ্জ ইউনিয়নের ভিংরাবো এলাকার পলাশ সরকার ও ভুলতা ইউনিয়নের মাছুমাবাদ গ্রামের জাহের মিয়া করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) পজেটিভ শনাক্ত হয়। তবে উল্লেখিত কারো শরীরে আক্রান্তের কোন উপসর্গ ছিলো না।
এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার সাইদ আল মামুন জানান, ধারণা করা হচ্ছে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা আছমার মাধ্যমে তারা আক্রান্ত হয়েছেন। নতুন আক্রান্ত ৭ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই আলাদা ইউনিটে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বলে জানান ডা. সাঈদ আল মামুন। এ নিয়ে রূপগঞ্জ উপজেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে।






Related News

Comments are Closed