Main Menu

বৃদ্ধকে উদ্ধার করে মানবতার পরিচয় দিলেন কেশবপুর থানার ওসি জসীম উদ্দীন

শামীম আখতার, ব্যুরো প্রধান (খুলনা): যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাবদিয়া গ্রামের রাস্তার উপর দীর্ঘক্ষণ পড়ে থাকা এক বৃদ্ধকে উদ্ধার পরিবারের নিকট হস্তান্তর করে মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জসীম উদ্দীন।
থানা সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) উপজেলার সাবদিয়া গ্রামের অজ্ঞাত পরিচয়ে মানুষিক ভারসাম্যহীনভাবে এক বৃদ্ধকে রাস্তার উপর পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। ওই সময় এলাকার মানুষ কোরনা ভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে কেউ তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসিনি। বিষয়টি এলাকার এক যুবক কেশবপুর থানায় অবহিত করলে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জসীম উদ্দীন তাৎক্ষনিক উপ পরিদর্শক আব্দুল আজিজকে ওই বৃদ্ধকে উদ্ধারের নির্দেশ দিলে তিনি সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে তাকে উদ্ধার করে। উদ্ধারের সময় উপ পরিদর্শক আব্দুল আজিজ অনুধাবন করেন তিনি ক্ষুধার যন্ত্রনায় ভুগছেন। তাৎক্ষনিক ভাবে তাঁকে উদ্ধার করে একটি দোকানের সামনের চৌকিতে বসিয়ে পরিস্কার করে পাশের বাড়ি থেকে খাবার চেয়ে এনে তাকে খাওয়ান। তিনি কিছুটা সুস্থ হলে থানায় নিয়ে আসেন। এরপর তাঁর নিকট নাম ও বাড়ির ঠিকানা জানতে চাইলে তিনি বলেন পার্শ্ববর্তী মণিনামপুর উপজেলার শ্যামনগর গ্রামের মৃত মইনুদ্দিনের ছেলে মোঃ জাহান আলী (৮০)। থানা পুলিশ বৃদ্ধের দেওয়া ঠিকানায় যোগাযোগ করেন এবং পরে পরিবারের লোকেরা থানায় আসলে তাঁদের নিকট জাহান আলীকে হস্তান্তর করা হয়।
কেশবপুর থানার উপ পরিদর্শক আব্দুল আজিজ বলেন, অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জসীম উদ্দীনের নির্দেশে দ্রæত ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে জাহান আলীকে (৮০) উদ্ধার করি এবং তখন বুঝতে পারি বৃদ্ধ খুদার যন্ত্রনায় কারত ছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে পরিস্কার করে পাশের বাড়ি থেকে খাবার চেয়ে এনে তাঁর পাশে বসে যতœসহকারে তাকে খাওয়ানো হয়।
বৃদ্ধের পরিবারের নূর মোহাম্মদ মোল্যা ছেলে আলমগীর হোসেন জানান, জাহান আলী বয়সের ভারে এখন মানুষিক ভারসাম্যহীন। প্রায় সময়ই তিনি বাড়ির কাউকে কোন কিছু না বলে বিভিন্ন জায়গায় চলে যান। কেশবপুর থানার পুলিশ গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) আমার দাদাকে উদ্ধার ও সুস্থ অবস্থায় আমাদের নিকেট হস্তান্তর করে যে মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন। সে কারণে আমার পরিবারের পক্ষ থেকে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জসীম উদ্দীনসহ সকল পুলিশ সদস্যকে ধন্যবাদ জানাছি।
এ ব্যাপারে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জসীম উদ্দীন বলেন, করোনা ভাইরাসের ক্রান্তিকালে গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার সাবদিয়া গ্রামের অজ্ঞাত পরিচয়ে মানুষিক ভারসাম্যহীনভাবে এক বৃদ্ধকে রাস্তার উপর পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা বিষয়টি আমাকে জানানে সঙ্গে সঙ্গে অফিসার পাঠিয়ে তাঁকে উদ্ধার করি এবং পরবর্তীতে ওই রাতেই তাঁকে পরিবারের লোকজনের নিকট হস্তান্তর করি। এমন ঘটনা আমি যদি জানতে পারি তা হলে তাৎক্ষনিক ভাবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সেবা প্রদান করা হবে। এমনকি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যদি কোন রোগী মারা যায় সে ক্ষেত্রে পরিবার বা এলাকাবাসী তাঁর দাফনে এগিয়ে না আসলে কেশবপুর থানা পুলিশ ওই লাশ দাফন করতে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করবে।






Related News

Comments are Closed