Main Menu

চিকিৎসক বাঁচালে রোগী বাঁচবে… আগে ডাক্তার বাঁচান…

মীর আব্দুল আলীম:করোনাভাইরাসে সারাদেশে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে প্রায় দুই শতাধিক ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। দেশে চিকিৎসক মারা যাবার ঘটনাও ঘটছে। দিনদিন বাড়ছে করোনাভাইরাসে চিকিৎসক আক্রান্তের সংখ্যা। অরক্ষিত অবস্থায় স্বাস্থ্যসেবা দিতে গিয়ে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন হলো এভাবে চিকিৎসকরা আক্রান্ত হলে রোগীদের কি হবে?
মান সম্মত এবং সময় মতো সুরক্ষা পোশাক (পিপিই) পায়নি আমাদের চিকিৎসকরা। শুরুতেই এ বিষয় নিয়ে ঝামেলা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকিৎসকদের যে পিপিই দেয়া হচ্ছে তা মানসম্মত নয়। চিকিৎসকদের সুরক্ষা নিশ্চিৎ না হলে; চিকিৎসক, নার্স অসুস্থ্য হয়ে পরলে করোনাভাইরাস চিকিৎসাসহ সাধারন চিকিৎসায় সংকট তৈরি হবে। চিকিৎসক বাঁচলেইতো রোগীদের বাঁচানো যাবে। আগে চিকিৎসকদের পূর্ণ সুরক্ষা দরকার। তাঁরা সুস্থ্য থাকলে, তাঁদের মনোবল ঠিকঠাক থাকলে রোগীদের পূর্ণ চিকিৎসা মিলবে, তা নাহলে নয়। করোনাভাইরাসের রোগীর চিকিৎসা করতে গিয়ে দিনদিন যেভাবে যদি চিকিৎসকরাই আক্রান্ত হয়ে পড়েন তাতে চিকিৎসকসমাজে আতংক তৈরি হয় বৈকি! ইতোমধ্যে হয়েছেও তা। সেকারনে চিকিৎসকদের সাথে জনগন এবং সরকারে ভুলবোঝাবুঝির সৃষ্টি হচ্ছে।
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুসরণ না করায় এবং মন্ত্রণালয়ের নানা গাফিলতির কারণে চিকিৎসাসেবায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন। তারা মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অনেক বক্তব্যে দ্বিমত পোষণ করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে এখন হতাশা বিরাজ করছে। শুধু তাই না সুরক্ষা পোশাক না দিয়ে উল্টো হুমকি দেয়ার কারণে অনেকের মনবল ভেঙ্গে গেছে। সরকারের পক্ষ থেকে এখন গতি দিয়েও তা চাঙ্গা হচ্ছে না। বিষয়টি যথেষ্ট ভাবনার বটে! এই দু:সময়ে সৃষ্টিকর্তার পরে চিকিৎসকরাই কিন্তু আমাদের ভরসা। তাঁদের চটিয়ে দিলে; জোড় করে কিছু চাপিয়ে দিলে, সর্ব্বোপরি তাঁদের সুরক্ষা না দিলে কাজে মন বসবে কি করে?
ভুল বোঝাবুঝি প্রশাসন, সরকার এমনকি জনগনের মধ্যেও রয়েছে। আমরাও সুযোগ পেয়ে কম লিখছি না। তুলোধুনো করে ছাড়ছি ডাক্তারদের। আসলে চিকিৎসকদের মনোকষ্ট আমরা কেউই বুঝতে চাইনা । না সরকার না জনগন। ঢাল তলোয়াড় থাকলে যুদ্ধ করা যায়। চিকিৎসা সরঞ্জাম পুরোপুরি না দিয়ে তাঁদেও দোসাদুষি করি কি করে? এই চিকিৎসকরাই কিন্ত গত বছর ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে কি যুদ্ধটাইনা করলো। ডেঙ্গু আক্রান্তদের বাঁচাতে গিয়ে জীবন দিলো অনেক চিকিৎসক। এসময় তাঁদের বাহবা দিতে হয়। কাজের গতি বাড়াতে পুরস্কৃত করতে হয়। সেটা না করে, তাঁদের হাতে যুদ্ধের সরঞ্জাম না দিয়ে উল্টো তাঁদের উপরই আমরা চড়াও হয়েছি। মনে রাখতে হবে চপেটাঘাত করে ভালো কিছু মেলে না কখনো। হালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসকদের ব্যাপারে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছেন। চিকিৎসকরদের মধ্যে বেশ গতি ফিরে এসেছে। আসলে আমাদেও দেশে সব জায়গাতে সমন্নয়ের বড্ড অভাব রয়েছে। ডেঙ্গু সংকটে তা মোটেও ছিলো না, তাই সফলতা পাওয়া গেছে। রোগ সারাতে ডাক্তার দরকার। সবার আগে দরকার ডাক্তার নার্সদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা। বাংলাদেশে ডাক্তার-নার্সদের সুরক্ষা ব্যবস্থার বড় অভাব রয়েছে গোড়া থেকেই। তাই চিকিৎসকরা আক্রান্ত হন, হচ্ছেন। মারাও যাচ্ছেন।
পত্রিকান্তে প্রকাশ, আক্রান্তের কারণ সম্পর্কে বিএমএ এর শীর্ষ নেতারা নাকি বলেছেন, ডাক্তার ও নার্সদের সুরক্ষার পারসোনাল পোশাক (পিপিই) সবই সরবরাহ থাকলেও যারা করোনা আইসোলেশন ইউনিট, করোনা ল্যাবরেটরিতে কাজ করেন এবং যারা নমুনা কালেকশন করেন তাদের আন্তর্জাতিক মানের পিপিই দেয়া হচ্ছে না। করোনা রোগীর চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত সবাইকে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মান অনুযায়ী পোশাক দেয়ার কথা থাকলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে মানহীন পোশাক সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। সব চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর জন্য সরবরাহকৃত মাস্কের বিষয়েও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। করোনা আক্রান্ত রোগীদের এবং ল্যাবে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের এন-৯৫ মাস্ক সরবরাহের নির্দেশনা থাকা সত্তে¡ও সেখানে এগুলো সরবরাহ করা হচ্ছে না। এতে করে সন্দেহ করা যাচ্ছে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা বেশি মাত্রায় করোনা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। পিপিই সম্পর্কে তাঁরা বলছেন, কিছু কিছু পিপিই ওয়াশ করে ব্যবহার করার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু এটা কতটুকু যুক্তিসঙ্গত বা গ্রহণযোগ্য?
চিকিৎসকদেও আক্রান্ত হওয়ার পেছনে সমস্যা আরেকটা আছে। রোগীদের অসত্য তথ্য বা করোনায় আক্রান্তের তথ্য গোপন রাখার কারণেও চিকিৎসক ও নার্স আক্রান্ত হচ্ছেন। মিথ্যা তথ্য দিয়ে রোগীরা চিকৎসা নেয়ার চেষ্টা করছেন। এ কারণে বিভিন্ন হাসপাতালের সার্জারি ও গাইনির কোন কোন ইউনিটের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। মিটফোর্ড হাসপাতালের সার্জারি, গাইনি বিভাগে ও সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। সলিমুল্লাহ মেডিকাল কলেজের ঘটনায় ১৩ জন ডাক্তার ও নার্স আক্রান্ত। গাইনিতে ও কয়েকজন ডাক্তার আক্রান্ত হয়েছে। যেসব ইউনিটের ডাক্তার ও নার্স আক্রান্ত হয়েছে সেসব ইউনিটের কাজ বন্ধ রয়েছে। মুন্সিগঞ্জের একজন মাওলানা মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভর্তি হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। এতে এক ডাক্তার ও নার্সসহ পুরো ইউনিটের সবাইকে কোরেন্টিনে রাখা হয়েছে। এ ভাবে সিলেট ও গাজীপুরের কালিগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। এ ভাবে ডাক্তার ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকলে আগামীতে চিকিৎসা ব্যবস্থার বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।
সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ডাক্তারদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার অভাব। করোনা আতংকে সরঞ্জামের অভাবে স্বাস্থ্য নিরাপত্তার কথা ভেবে ডাক্তারগণ রোগী দেখা কমিয়ে দিয়েছেন। অনেকে নানা অজুহাতে বাসা থেকে বের হচ্ছেন না। তাতে অনেক হাসপাতালের আউটডোরে ডাক্তার নেই বললেই চলে। রাজধানী ঢাকার নামীদামী হাসপাতালেও ডাক্তার সংকট চলছে। তাতে সাধারন রোগীদের চিকিৎসা অনিশ্চিত হয়ে পরেছে। চিকিৎসা অনিশ্চিৎ এটা কি ভাবা যায়। স্বাস্থ্যসেবায় যা চলছে এভাবে কি চলে?
করোনাভাইরাস, এ রোগ দুনীয়া জুড়ে। রোগের জন্য; রুগীর জন্য চাই ডাক্তার। ডাক্তার না থাকলে রোগীরাতো বড় অসহায়। কারা চিকিৎসা দিবেন রোগীদের? ডাক্তার সংকট কেন হলো? করোনা আতংকের মধ্যে শুরুতেই ডাক্তারদের সুরক্ষা সরঞ্জাম দেয়া হয়নি। এটা কিন্তু বড় সত্য। রোগীর অনুপাতে ডাক্তারদের মধ্যে আক্রান্তের পরিমান বেশি হওয়ায় চিকিৎসকদের মধ্যে আতংক তৈরি হয়েছে। হওয়ারই কথা। রোগ সারাতে গিয়ে ডাক্তারগন রোগী হয়ে গেলে কি চলবে? ডাক্তারদের স্বাস্থ্য ঝুকি থাকবেই। পরিমানে তা বেশি হলে আতংকেরই কথা। প্রশাসনের হাতে পার্সোনাল প্রটেকশন ইকুয়িপমেন্ট (পিপিই) চলে এসেছে আগে। এমন অভিযোগ শুরু থেকেই চিকিৎসকগণ করে আসছেন। আমরা দেখেছিও তাই। প্রশাসনের লোকজন এমন কি নেতা কর্মীরা পিপিই পড়ে ফটোসেশন যখন কওে তখন ডাক্তারদেও হাতে পিপিইর অভাব। এটা নিয়ে যথেষ্ট ভুলঝাবুঝিও হয়েছে। প্রশাসন, ব্যাংকার, ব্যবসায়ীরা পিপিই পড়ে ফটো সেশন করেছেন। যে ডাক্তারগণ রোগীদের চিকিৎসা দেবেন তাঁরা তখন পিপি পাননি। ভুল বোঝাবুঝিতো হবেই তাতে।
কষ্টেরই কথা। যে ডাক্তার রোগির চিকিৎসা দিবেন তাঁদেরই পিপিইর অভাব। পিপিই প্রশাসনের লোকদেরও প্রয়োজন। তাঁরাও মাঠজুড়ে রাতদিন কাজ করে যাচ্ছেন। তবে ডাক্তারদের পিপিই আগে দরকার ছিলো। বাংলাদেশে এমনটা হতেই পারে। যার যেটা দরকার তা দেয়া হচ্ছে না। তাই ক’জন ডাক্তার করোনায় আক্রান্ত হওয়া আর চিকিৎসকের মৃত্যুতে আতংক তৈরি হয়েছে ডাক্তার সমাজে। এটা অনেক বড় ক্ষতির কারন হলো আমাদের জন্য। জীবনের ঝুকি নিয়ে যে ডাক্তারগণ কাজ করবেন তাঁরা সরঞ্জামের অভাবে আক্রান্ত হলে প্রশ্ন আসাটাই স্বাভাবিক।
কথা আরও আছে। ডাক্তাররা কত্যব্য পালন করতে যাওয়ার পথে রাস্তায়া পুলিশের হাতে লাঞ্চিত হওয়ার ঘটনা ঘটছে দু/একটি। ডাক্তারদেও সাথে বাড়ির মালিক প্রতিবেশীরা খারাপ আচরণ করছেন। চড়াও হচ্ছেন। তাঁরা একবারও ভাবেন না তাঁরা কিংবা তাঁদের স্বজনরা আক্রান্ত হলে কোথায় যাবেন? ডাক্তারগণ কর্মস্থলে যেতে আসতে বাঁধার সম্মুক্ষীন হন, বাসগৃহে গিয়ে অসম্মানীত হন তাহলে তাঁরা স্বাচ্ছন্দে কাজ করবেন কি করে? দু:সময়ে ডাক্তারদেরই প্রয়োজন আগে। তাঁদের সম্মান দেখাতে হবে। পেশার মর্যাদা দিতে হবে। স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। রাস্তায় পুলিশ বাহিনী কতৃক কোন ডাক্তার লাঞ্চিত হওয়া মোটেও বাঞ্চনীয় নয়।
যে কোন মূল্যে ডাক্তারদের হাসপাতাল মুখী করতে হবে। তাঁদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা, অসুস্থ্য হলে চিকিৎসার দ্বায়িত্ব নেয়া, যাতায়াত সুরক্ষা থাকা বাঞ্চনীয়। এভাবে চললে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিবে বৈকি! ঢাকা মেডিকেল, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন হাসপাতালের অনেক বিশেষজ্ঞ ডাক্তারে সাথে সুসম্পর্ক আছে আমার। বন্ধুও আছেন বেশ কয়েকজন। একটি বেসরকারী হাসপাতালের চেয়ারম্যান হওয়ায় তাঁদেও সাথে সম্পর্কটা একটু নিবিড়ও। প্রায় প্রতিদিতনই কারোনা কারো সাথে কথা হয় আমার। প্রত্যেকেরই একই কথা রোগীই তাঁদের প্রাণ। রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে তাঁরা সবসময়, সবঅবস্থায় প্রস্তুত আছেন। তবে নুন্যতম স্বাস্থ্য সুরক্ষা চাই তাঁদের। এ ব্যাপারে ঢাকা মেডিকেল কলেজের জনৈক প্রফেসর নাম প্রকাশ না করার শর্তে সেদিন বলছিলেন, গতবছর ডেঙ্গুতে আমাদের অসংখ্য ডাক্তার চিকিৎসা দিতে গিয়ে মারা গেছেন। জীবনের অনেক ঝুঁকি থাকলেও ডাক্তাররা তখন পিছপা হননি। রোগীর জীবনের প্রশ্নে ডাক্তারগণ পিছপা হননা কখনো।
সত্য এটা যে, আমাদের দেশে ডাক্তারদের ভালোকাজের জন্য বাহবা কম মিলে। বাহবার পরিবর্তে উল্টো মিলে তিরস্কার। আরেকজন বন্ধু চিকিৎসকতো আক্ষেপ করে বলেই বসেন- ‘পিছনের বেঞ্চের ছাত্র পুলিশ, প্রশাসনে এসে আমাদের ধমকায়। রাস্তায় অসম্মান করে’। এসব দুর করতে হবে। ডাক্তারগণ জীবনের ঝুঁকি নেবেন, আর তাদের উল্টো প্রয়োজনীয় মর্যাদাটা পর্যন্ত দেয়া হবে না তা কি করে হয়? তাঁদের স্বাস্থ্যের কথাও ভাবতে হবে আগে। শুরুতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা করতে গিয়ে রাজধানীর মিরপুরে একটি প্রাইভেট হাসপাতালের এক তরুণ চিকিৎসক নিজেই আক্রান্ত হয়েছেন। তাকে হাসপাতালে বিশেষ ব্যবস্থায় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এর আগে আরও কয়েকজন চিকিৎসক করোনাভাইরাস রোগীর সংস্পর্শে গিয়ে নিজেরা এখন কোয়ারেন্টিনে আছেন। একাধিক নার্সও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে দেশব্যাপী ডাক্তারদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে। এমন হলে উৎকন্ঠার কারন বটে! এ সমস্যা সহসাই সরকারকে দুর করতে হবে। তা না হলে দেশে চিকিৎসক সংকট এবং চিকিৎসা বিপর্যয় দেখা দিবে।
চিকিৎসকদের মনের ভেতর যে আতংক তৈরি হয়েছে তা দুর করা জরুরী হয়ে পরেছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও ওয়ার্ডে করোনা রোগী থাকার গুজব ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। করোনা করোনা বলে চিৎকার দিয়ে ওয়ার্ড থেকে বেরিয়ে যাওয়া, আবার বহির্বিভাগে কাউকে করোনা রোগী বলে প্রচার করে আতঙ্ক ছড়ানো হয়েছে। নানা কারণে বহু চিকিৎসক এখন নিজে বাঁচার জন্য সাধারণ রোগীর চিকিৎসা করতে ভয় পাচ্ছেন। চিকিৎসকদের সুরক্ষায় (প্রটেকশন) সরঞ্জামের পর্যাপ্ত সংকট রয়েছে বলেও চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের অভিযোগ আছে আগে থেকেই। চিকিৎসকদের সুরক্ষার অভাবে তারা এখন রোগীদের চিকিৎসা করতে ভয় পাচ্ছেন। অন্যকে চিকিৎসা দিতে গিয়ে নিজেরা অসুস্থ্য হয়ে গেলেতো ভয়েরই কথা।
স্কুল কলেজে যিনি মেধাবী ছাত্র ছিলেন তাঁরাই একদিন ডাক্তার হয়ে আসেন। এ কথা সত্য যে, সবচেয়ে মেধাবী ছাত্রটিই আজ সমাজে সম্মান পাচ্ছেন কম। যা কিনা এবারও প্রমাণিত হলো। বিবিএস করা একজন চিকিৎসক যে মর্যাদা পান, সেখানে কম মেধাবী সম্পন্ন বিসিএস অন্য প্রশাসনের লোক অনেক বেশি মর্জাদা পান। ঝুঁকি নিয়ে, মানুষের জীবন নিয়ে কাজ করেও অসম্মানীত হন একজন ডাক্তার। এভাবে চলতে থাকলে ডাক্তারগণ আর ঝুঁকি নিতে চাইবেন না। চিকিৎসা সেবায় ঝুঁকি নিতে হয়। ঝঁকি না নিলে মুমূর্ষু রোগীর জন্য ক্ষতির কারণ হয়। চিতিৎসকদেও যথাযথ মর্যাদা না দেয়া, কথায় কথায় ডাক্তারদেও গায়ে হাত তুললে, মামলা হামলা করলে, ভুল চিকিৎসার অপবাদ দিলে ডাক্তারগণ আগ্রহতো হারিয়েই ফেলবেন। এটা রোগী কিংবা রোগীর পরিবারের জন্য দুঃসংবাদ বটে!
রাতদিন একজন ডাক্তারকে পরিশ্রম করতে হয়। রোগীর ডাক পড়লেই তার ঘুম হারাম। আর তাকে যদি কথায় কথায় অসম্মান আর অপবাদ কাঁধে নিয়ে চলতে হয় তাহলে বিষয়টা কি দাঁড়ায়? ভালো কাজে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। প্লিজ অভিযোগ করতে হলে ভেবে তবেই করবেন। সঠিকটা করবেন। একথা কিন্তু সত্য আধুনিক যন্ত্রপাতি ছাড়া পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ছাড়া আমাদের ডাক্তারগণ যে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন তা কম নয়। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, রোগীদের সেবার অন্যতম মাধ্যম চিকিৎসক। তাঁদের সকল সমস্যা সমাধান পূর্বক, চিকিৎসক নার্সদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করে করোনা সংকট দুর করতে সংশ্লিষ্টদের আরো বেশি যতœবান হতে হবে।
✒ লেখক : সাংবাদিক, কলামিষ্ট ও গবেষক।






Related News

Comments are Closed