Main Menu

বাংলাদেশের কপালে দুর্গতি আছে করোনা ভাইরাস : স্কুল কলেজের গণজামায়েত বন্ধ করুন আমাদের আরও সতর্ক হতে সমস্যা কোথায়?

মীর আব্দুল আলীম -করোনা আতংকে স্থগিত করা হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের
১৭ মার্চের  জন্মশতবার্ষিকীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। করোনা ভাইরাস মোকাবেলায়
ইতোমধ্যে নানা পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। গণজমায়েতকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।
স্কুল, বিশ^বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, মসজিদেতো প্রতিদিন গণজামায়েত হচ্ছে?
অদ্যাধি শতশত ছাত্র-ছাত্রী মিলিত হচ্ছে তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। বড়বড়
মসজিদ গুলোতে গণজামায়েত হচ্ছে। বিশেষ করে জুমার নামাজে হাজার হাজার মানুষ
মিলিত হচ্ছেন ইবাদতের জন্য। আমাদের সতর্ক হতে সমস্যা কোথায়? ইসলাম ধর্মেও
সকল ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে। আল-কোরাআনেও মহামারী হলে
যে যার স্থানে থাকতে বলা হয়েছে। বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা করোনা ভাইরাসকে
মহামারী বলে ঘোষণা করেছে। তাহলে আমরা এসব গণজামায়েত বন্ধ করছি না কেন?
ইতালি এমন অবহেলাই করেছিলো যার খেশারত এখন তারা দিচ্ছে। আমরা যেভাবে আবাদ
চলাচল অব্যহত রেখেছি; বিদেশীদের একে এক গ্রহন করছি; আমাদের কপালেও হয়তো
দুর্গতি আছে।
জাতীর জনকের শতবর্ষ কিন্তু সহজ কথা নয়। এ দিনটি বারবার ফিরে আসবে না। দেশ
ও জাতির জন্য দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেদিনের উৎসবকে ঘিরে দীর্ঘ দিন
ধরেই আয়োজন চলছিলো। শেষ সময়ে সকল আযোজন সম্পন্নও হয়েছে। মাননীয়
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গুরুত্বপূর্ণ এই অনুষ্ঠান স্থগিত করে বিরল
দৃষ্টান্তও স্থাপন করেছেন। এটা অনেক বড় ত্যাগ। জনস্বার্থেই তিনি তা
করেছেন। এ ব্যাপারে তিনি ধন্যবাদ পাবেনই। করোনাভাইরাস মোকাবেলায় জাতীর
জন্য তাৎপর্যপূর্ণ এত বড় একটি অনুষ্ঠান বন্ধ করা গেলে স্কুল, কলেজ,
মাদ্রাসা বন্ধ করা হচ্ছে না কেন? জনসার্থে মসজিদে মুসল্লিদের ব্যাপক
জামায়েত না করা, বিশেষ করে জুমার নামাজে গণজমায়েত না করা জরুরী হয়ে
পরেছে।
বিশ^ জুড়েই যেখানে করোনা আতংক সেখানে আমরা সতর্ক হতে পিছিয়ে কেন? করোনার
ছোবলতো এখন বাংলাদেশেও। করোনায় করুণা করছে কি কাউকে? এ ভাইরাসে আক্রান্ত
হয়ে প্রতিদিন মানুষ মরছে। আমাদের সবসময় প্রস্তুত থাকা দরকার। আমরা বোধ হয়
পুরোপুরি প্রস্তুত নই। যেসব দেশে করোনা পুরোপুরি আঘাত হেনেছে সেসব দেশে
সামাল দিতে হিমশীম খাচ্ছে এখন। উন্নত দেশগুলোর যেখানে এমন অবস্থা করোনার
আঘাত কি আমরা সইতে পারবো? গামাল দেয়া আমাদেও জন্য কতটা সম্ভব হবে? আমরা
কতটা করোনা মোকাবেলা করতে পারবো সেটা নিয়ে প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যায়।
করোনা মোকাবেলায় আমরা কতটা প্রস্তুত? আর কতটা সতর্ক? সতর্কতা বোধ করি
খুবই কম। রাজধানী কেন্দ্রীক প্রস্তুতি থাকলেও জেলা কিংবা উপজেলা পর্যায়ে
প্রস্তুতি তেমন চোখে পড়ার মতো নয়। জেলা সদরে ডিসি এবং সিভিল সার্জন
হাসপাতাল মালিকদের নিয়ে সভা করেছেন।  এক দুটি কোয়ারেন্টাইন করা হলেও।
হাসপাতাল গুলোকে করোনার জন্য পূর্ণাঙ্গ  ইউনিট তৈরি করতে পারেননি বলেই
জানি। জেলায় এক দু’টি কোয়ারেন্টাইন কক্ষ রাখা হয়েছে মাত্র। জনবল কম।
করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে তাতে সামাল দেয়া কঠিনই হবে বৈ কি! আমাদের জনগনও
সচেতন নয়। একবার করোনা ছড়িয়ে পরা শুরু করলে সর্বণাশ হয়ে যাবে। এ জন্য
আগেভাগেই জনগনকে সচেতন করে তুলতে নানা কর্মসূচি গ্রহন করা উচিৎ। প্রিন্ট
এবং ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ায় সতর্কীকরণ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা দরকার। সভা
সেমিনার করা দরকার। জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ
সবখানে সভা সেমিনার করে জনগনকে করোনা ভাইরাসের হাত থেকে রক্ষায় করণীয়
সম্পর্কে বুঝাতে হবে। যা এখনও চোখে পড়ছে না আমাদের।
সারা বিশে^র ন্যায় বাংলাদেশেও ঘনীভূত করোনা আতংক। যত দিন গড়াচ্ছে, করোনা
ভাইরাসের হানায় সন্ত্রস্থ হচ্ছে গোটা দুনিয়া। এরই মধ্যে চীন থেকে ‘করোনা
ভাইরাস’ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় বিশ্বব্যাপী জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা। ঘোষণা এসেছে মহামারীর। সবখানে আতংক। বাংলাদেশে
আতংক ছড়িয়েছে বেশি; সতর্কতা কম। রোগব্যাধি নিয়ে আতঙ্ক নয়, দরকার হলো
সতর্কতা ও সচেতনতা। এখনও বাংলাদেশে চীনা নাগরীক এবং প্রবাসীরা প্রবেশ
করছে। করছে বহু চীনা নাগরীক দেশে বসবাস। তাদের ব্যপারে সতর্কতা কম, বাঁধা
নিষেধ কম। আমাদের বিমান বন্দর, স্থল বন্দর, সমুদ্র বন্দর গুলো এখনও
রক্ষিত বলা যাবে না। কারা আসছে? কোথা থেকে আসছে? ট্রানজিট হয়ে করোনা
আক্রান্ত দেশ থেকে কেউ আসছে কিনা তা নিয়ে শতর্কতা নেই, কোন হিসাব নেই। এ
অবস্থায় বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।
যতদুর জেনেছি ঢাকা হজরত শাহজালাল (রা) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সতর্কতা
তেমন একটা চোখে পড়ার মতো নয়। ট্রানজিট হয়ে আসা প্রবাসী এবং ভিনদেশীরা
সহজেই বিনা বাঁধায়, বিনা স্কেনিংয়ে দেশের ভেতরে ঢুকে পড়েছেন। এমনটা হচ্ছে
বিভিন স্থল্ন বন্দরেও। বিষয়টা গাঁছাড়াই মনে হয়। তবে ইদানিং কিছুটা
শতর্কতা অবলম্বন করতে দেখা যাচ্ছে। এমনটা হলে বাংলাদেশের অনেক বড় ক্ষতি
হয়ে যাবে। করোনা ভাইরাস এ দেশে ঢুকে পরলে দ্রুত মহামারী আকার ধারন করতে
পারে। কারন আমরা সচেতন নই। এখনও আমাদের দেশের ১৬ কোটি মানুষের ১৫ কোটি
মানুষই এ ভাইরাস সম্পর্কে ধারনো রাখে না। অধিকাংশই শুনছে এ ভাইরাসে মানুষ
মরা যায়। সতর্কতার বিষয়ে জানে কম। এদেশে এ ভাইরাস নিয়ে আতংক আছে বেশ,
সতর্কতা নেই। এটা ভয়নক বিষয়।
আমাদের বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরসমূহে এ ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের
শনাক্তের বিশেষ মেডিক্যাল চেকআপের ব্যবস্থা যাতে সার্বক্ষণিকভাবে চালু
থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ, আমাদের মতো জনবহুল দেশে এই ভাইরাস
মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। এ ভাইরাস যেহেতু আক্রান্তেরে
হাঁচি-কাশি-সদ্রির মাধ্যমে ছড়ানোর ক্ষমতা রাখে, সে কারণে কিছু সাবধানতা
অবলম্বন করা জরুরী। যেমন, সাবান দিয়ে নিয়মিত হাত ধোয়া, সর্দি-কাশি হলে
মাস্ক পরিধান করা, হাঁচি-কাশি হলে মুখ ঢেকে হাঁচি বা কাশি দেয়া এবং সে
হাত সাবান দিয়ে ভালো কওে ধুয়ে ফেলতে হবে। অন্যদিকে পোলট্রিসহ, পশুপাখি
হতে দূরে থাকতে হবে। কাঁচা বা অর্ধসিদ্ধ ডিম বা মাংস না খাওয়া এবং এর
পাশাপাশি অতিরিক্ত ভিড় এড়িয়ে চলাচল করতে হবে। এমন সতর্কতা কমই অবলম্বন
করছি আমরা।
এ ভাইরাসন এদেশে প্রবেশ করতে পারলে কেবল মানুষই মরবে না, দেশের অর্থনীতির
চাক্ াএকেবারে অচল হয়ে পরবে। গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে করোনা
ভাইরাসের আবির্ভাব ঘটে। সেই থেকে করোনা ভাইরাসে সারা বিশে^  ৩ হাজারেরও
বেশী লোক মারা গেছে।  চীন ছাড়াও ইটালী, থাইল্যান্ড, ফ্রান্স,
অস্ট্রেলিয়াসহ ১০২টি দেশে লক্ষাধীক করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।
প্রতিনিয়ত এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এ ভাইরাসে আরও অনেক
মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। শুধু মানুষের জীবন নয়, এখন বিশ^
অর্থনীতির জন্যও হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে করোনা ভাইরাস।
সারা দুনিয়ায় করোনা ভাইরাস নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ভয়াবহ অবস্থা
সৃষ্টি হয়েছে চীনসহ কয়েকটি দেশে। আতংক বিশ^ জুড়ে। চীনে রেড এলার্ট জারি
হয়েছে। করোনা ভাইরাস আতঙ্কে উহানসহ বিভিন্ন প্রদেশে বাংলাদেশের অনেক
নাগরিক অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন। অনেকের বাসায় খাবার পর্যন্ত শেষ হয়ে গেছে।
কোন কোন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি স্বজনদের
অবহিত করেছেন। বাংলাদেশেও এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কারণ
বাংলাদেশের অনেক উন্নয়ন প্রকল্পে হাজার হাজার চীনা নাগরিক কাজ করছেন।
আবার বাংলাদেশের হাজার শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষা নিতে চীনে অবস্থান করছেন।
এই দুই দেশের বাসিন্দাদের আশা-যাওয়ার মাধ্যমে করোনা ভাইরাস ছড়ানোর আশঙ্কা
রয়েছে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস যাতে ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য
সতর্কতা জারি করা হয়েছে। হাসপাতালগুলোতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে
মতা পর্যাপ্ত মনে হচ্ছে না।
করোনা ভাইরাস আক্রান্ত চীনা নাগরিক কিংবা প্রবাসীরা বাংলাদেশে এই ভাইরাস
ছড়াতে পারে। এ ছাড়াও চীনে থাকা বাংলাদেশি নাগরিক যারা এই মুহূর্তে
বাংলাদেশে আসছেন তাদের মাধ্যমেও এই ভাইরাস বাংলাদেশে বিস্তার ঘটাতে পারে।
আমাদের আরও অনেক বেশি সতর্ক হতে হবে। সতর্ক আর সচেতন হলে আমারা এ
ভাইরাসের আক্রমন থেকে দুওে থাকতে পারবো। এ ছাড়া এ ভাইরাস প্রতিরোধে
আমাদের উদ্যোগ নিতেই হবে। আমদের বিমানবন্দও, স্থল বন্দও, নৈবন্দরে
সতর্কতা জারি করতে হবে। যাতে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত একজন নাগরিকও
বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে।
ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সরকার যাতে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে না পড়ে
সেব্যাপারে সতর্কতা জারী করেছে। বিমানবন্দর, নৌবন্দরে বিশেষ নজরদারী
বাড়ানো হয়েছে। এর সঙ্গে দেশি প্রল্পে নিয়োজিত বিদেশি নাগরিকদের ওপরও নজর
রাখা হচ্ছে। বাংলাদেশের যেসব প্রতিষ্ঠানে চীনা নাগরিকরা কর্মরত আছেন,
তাদের দেশ ত্যাগ না করা এবং যারা ইতিমধ্যে চীন থেকে বাংলাদেশে এসেছেন,
তাদের পর্যবেক্ষণে রাখছেন প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। পদ্মাসেতু প্রকল্প,
দক্ষিণাঞ্চলের কলাপাড়ায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রর চীনা প্রকৌশলী এবং
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে বিশেষ সচেতনতা সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। কলাপাড়ায়
তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং পদ্মসেতু প্রকল্পে নিয়োজিত চীনা প্রকৌশলী ও
শ্রমিকদের বাংলাদেশ ত্যাগ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যারা
এই মুহূর্তে চীনে অবস্থানকারী চীনা নাগরিক ও বাংলাদেশি নাগরিকদেরও দেশে
না আসার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সে নির্দেশ যথাযথভাবে পালন করলেই
ভালো। তা না হলে আমাদেও কপালে দুর্গতি আছে এটা ভাবতে হবে সকলকে।
২০০২-০৩ সালে চীন হংকংসহ দুই ডজনেরও বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়া সার্স মহামারিতে
আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ১০০-র কাছাকাছি। করোনা ভাইরাস আক্রান্তের
সংখ্যা বিবেচনায় প্রাণঘাতী এ ভাইরাস আগের সিভিয়ার অ্যাকুট রেসপিরেটরি
সিনড্রোমে (সার্স) আক্রান্তের সংখ্যাকে অতিক্রম করেছে। চিন থেকে ছড়িয়ে
পড়া করোনা ভাইরাস ক্রমেই মহামারীর আকার নিচ্ছে। লাফিয়ে বাড়ছে মৃত ও
আক্রান্তের সংখ্যা। আক্রান্ত হতে বাদ নেই এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকাও।
বিমানযাত্রীদের মাধ্যমে ছড়াচ্ছে এ ভাইরাস। আতঙ্ক ছড়িয়েছে সুদূর
অস্ট্রেলিয়া থেকে দক্ষিণ আফ্রিকাতেও। বাংলাদেশের মানুষ আরও আতংকে আছে।
করোনা ভাইরাস যাতে আমাদের দেশে ছড়াতে না পারে সে ব্যবস্থা সরকারকে করতে
হবে। বাংলাদেশিদেও ১৬ কোটি মানুষের সুরক্ষায় সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নেবে
বলে আমরা আশা করছি।

✒

 লেখক : সাংবাদিক, কলামিষ্ট ও গবেষক।






Related News

Comments are Closed