Main Menu

নারায়ণগঞ্জে র‌্যাবের অভিযানে সংঘবদ্ধ চোর চক্রের ৭ সদস্য গ্রেফতার


নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বা অন্য যেকোনো বাহিনীর ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে দীর্ঘ দশ বছর ধরে চুরি করে আসছে চক্রটি। এই চক্রের মূল টার্গেট বিয়ে বাড়ি এবং যাত্রীবাহী বাস, লঞ্চ, ট্রেন। এরা কখনো বরযাত্রী। কখনো যাত্রীর বেশ ধরে সাধারণ মানুষের সাথে মিশে যায়। এরপরই অত্যন্ত সুকৌশলে হাতিয়ে নিত মূল্যবান জিনিস পত্র
এদিকে গত দশ বছর ধরে নির্বিঘ্নে সংঘবব্ধভাবে চুরি সংঘটিত করে আসলেও এবার চক্রটিকে এর মূলহোতাসহ গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১’র একটি দল। আটক করা হয়েছে চক্রের সক্রিয় ৭ সদস্যকে। উদ্ধার করা হয়েছে স্বর্ণালঙ্কারসহ উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি ল্যাপটপ।
বুধবার (২৬ ফেব্রæয়ারি) দিবাগত রাতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের নোয়াপাড়া, সিদ্ধিরগঞ্জের বাঘমারা এবং রাজধানী ঢাকার ডেমরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রæয়ারি) সকাল দুপুরে র‌্যাব-১১’র সদর দফতরে সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, শাহজালল ওরফে শাংখা (৩৫), আব্দুল কাদির জিলানী (১৯), সাদ্দাম (২৪), আরিফুল ইসলাম ওরফে মিঠু (২৮), নুর উদ্দিন ওরফে বাবু (২৯), সুজন (২৩) এবং শাহিন মিয়া (৪০)।
গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে পাঁচটি অত্যাধুনিক স্মার্টফোন, উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি ল্যাপটপ, একটি স্বর্ণের চেইন, একজোড়া স্বর্ণের কানের দুলসহ নগদ ৫ হাজার ৯শ টাকা জব্দ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১১’র উপ-অধিনায়ক, স্কোয়াড্রন লীডার রেজাউল হক জানান, এই চক্রটি দীর্ঘ দশ বছর ধরে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী এবং কুমিল্লাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে চুরি করে আসছে। দশ বছর ধরেই তারা এই কাজ করে আসছিল। তাদের একমাত্র পেশাই চুরি।
র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, তারা প্রথমে কোনো একটি বিয়ে বাড়ি টার্গেট করে। এরপর নিজেদের একজন সদস্য দিয়ে সে বাড়ি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেন। পরে বিয়ের দিন বরযাত্রীর বেশে বাড়িতে প্রবেশ করেন এবং বিভিন্ন ঘরে বিনা বাধায় প্রবেশ করে মূল্যবান জিনসপত্র হাতিয়ে নেন। বিয়ে বাড়িতে তাদের মূল টার্গেট থাকে শিশু ও কিশোরীরা। হুড়োহুড়ির সময় এদের গলা থেকে চেইন, কানের দুল ছিনিয়ে নেয় তারা। পরে এসব চুরির মালামাল সঙ্গে সঙ্গেই বাইরে অপেক্ষামান অন্য সদস্যের হাতে তুলে দেয়।
রেজাউল হক আরও বলেন, এই চক্রের মূল হোতাই হচ্ছে শাহাজালাল। তার খেতাবি নাম শাংখা। তিনিই মূলত সবাইকে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করে। তার নেতৃত্বেই চক্রটি বিয়ে বাড়িতে বরযাত্রী এবং গণপরিবহনে যাত্রী বেশে চুরি করে আসছিলো এবং চোরাই স্বর্ণালঙ্কার ডেমরার সারুলিয়া এলাকার জুয়েলারী দোকানে বিক্রি করে থাকে।






Related News

Comments are Closed