Main Menu

ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে টাকা নিয়েও সঠিক কাজ না করার অভিযোগ এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে-উদ্ধর্তন কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা

মতলব প্রতিনিধি: মতলব দক্ষিণ থানায় কর্মরত পুলিশ সদস্য এসআই রুহুল
কুদ্দুস এক অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ
থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে সঠিক ভাবে মামলার তদন্ত না করে ঘটনাকে অন্যদিকে
প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবারের
সদস্যরা। এমনকি অভিযোগে যাহার নাম দেয় নাই এমন এক জনকে আসামী
করায় তার পরিবারের সদস্যদের কাছে চাপে পরেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ।
সরেজমিনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসীর কাছ থেকে
জানতে পাওয়া যায়,মতলব দক্ষিণ উপজেলার কাসেমপুর গ্রামের বিল্লালের ছেলে
জুলহাস তার বাবার মালিকীয় ৩০শতক সম্পত্তি টাকার প্রয়োজন হওয়ায় গত
বছর বন্ধক লাগায় পাশের বাড়ির মনিরের ছেলে মামুনের কাছে। সম্পত্তি বন্ধক
নিয়ে মামুন তা থেকে মাটি কেঁটে নিয়ে যেতে থাকলে বাঁধা দেয়
বিল্লালের মা মনোয়ারা বেগম। মাটি নিতে বাঁধা দেয়ার কারনে মনির ও তার
লোকদের মারধরের শিকার হয় মনোয়ারা বেগম, পরে তিনি এ বিষয়ে মতলব দক্ষিণ
থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন । অভিযোগ পেয়ে সাথে সাথে
কোন আইনি ব্যাবস্থা না নিয়ে সালিশ বৈঠকের আশ্রয় নেয় থানার
এসআই মুকবুল আহমেদ। ঐ সালিশে আসামী পক্ষের কেউ উপস্থিত না হয়ে
এবিষয়ে পরবর্তীতে বৈঠকের জন্য একটি সময় নেয়। এরিই মধ্যে গত
৩ফেব্রæয়ারি সকালে মনোয়ারা বেগমের আরেক ছেলে জহির অবুঝ ছেলেকে
সাথে নিয়ে সওদা করতে আসেন স্থানীয় জোড়পুল বাজারে। সওদা নিয়ে
বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে রাজ্জাকের দোকানের সামনে আসলে আসামী
মামুন তার হাতে থাকা হাতুরি দিয়ে জহিরের মাথা, হাটু ও শরীরের ভিবিন্ন
অংশে পিটাতে থাকে। মাথায় আঘাত পেয়ে জহির মাটিতে লুটিয়ে পরে
গেলে মামুন সেখান থেকে চলে যায়। পরে বাজারের লোকজন জহিরের লোকদের
খবর দিলে তারা এসে মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। পরে
তাকে চাঁদপুরে পাঠিয়ে দেয় বর্তমানে জহিরকে কুমিল্লা ট্রমা-সেন্টারে
চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এদিকে দ্বিতীয় ঘটনার পর স্ত্রী জান্নাত বেগম বাদীনি হয়ে স্বামীর
ঘটনার বিষয়ে আরেকটি দরখাস্ত দেয় মতলব দক্ষিণ থানায়, ঐ দরখাস্তের তদন্তের
দায়িত্ব পান থানার এসআই রুহুল কুদ্দুস। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে নানা
রকম ত¦থ্য প্রমান সংগ্রহ করেন, এবং বাদীনির উকিল পিতা মোঃ জাহাঙ্গীর
বকাউল এর নিকট থেকে উপস্থিত লোকজনের সামনে মামলার খরচ বাবদ পনের
হাজার টাকা নেন। যা-পরবর্তীতে বাদীনি ও তার লোকজন জাহাঙ্গীরের কাছ
থেকে জানতে পারেন। কিন্তু মতলব দক্ষিণ থানার এসআই রুহুল কুদ্দুস

আসামীদের বিরুদ্ধে কোন আইনগত ব্যাবস্থা না নিয়ে বকাউল বাড়ির
জামাল বকাউলের ছেলে রনি বকাউল এই মামলার আসামী বলে এলাকায় ছড়িয়ে
দিয়েছেন। আর একথা শুনে রনি বকাউলের লোকজন বাদীনির বাড়িতে গিয়ে
বাদীনি ও তার লোকজনদের সাসিয়ে আসে। আর পুলিশ সদস্যের এমন
আচরনের কারনে বাদীনি ও তার লোকদের ত্রি-মূখী সমস্যার মোকাবেলা করতে
হচ্ছে জানায় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজন।
মনোয়ারা বেগম বলেন, আমাকে মারধরের ঘটনায় থানায় অভিযোগ
করি তখন যদি পুলিশ ব্যবস্থা নিতো তাহলে পরের ঘটনাটি ঘটতো না।
আবার এঘটনায় পুলিশ কি করতেছে তাও আমরা বুজতে পারছিনা।
জান্নাত বেগম বলেন, আমার স্বামী মৃত্যূর সাথে লড়ছে আর পুলিশ টাকা
নিয়েও আসামীদের বিরুদ্ধে কোন কিছুই করছেনা। উল্টো আমরা যাকে
আসামী করি নাই তাকে ধরার চেষ্টা করছে। এতে আমরা পুলিশের উপর আস্থা
রাখতে পারছি না। তাই এই বিষয়টিতে উর্দ্ধতনদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এদিকে পুলিশকে টাকা দেয়ার বিষয়টি জানাজানি এবং আলোচনার বিষয়
হয়ে যাওয়ার কারনে জাহাঙ্গীর বকাউল তা অস্বীকার করেন। কিন্তু স্থানীয়
কুদ্দুস নামের এক ব্যাক্তি বলেন, আমার এবং উপস্থিত অনেকের সামনেই
টাকার লেনদেন করেন জাহাঙ্গীর।
মতলব দক্ষিণ থানার এস আই রুহুল কুদ্দুস বলেন, জান্নাত বেগমের
মেন্টাললি প্রবলেম আছে। বিভিন্ন থেকে তিনি আমাকে টেলিফোন করে
চাপ দিচ্ছেন। ওনার অভিযোগের ভিত্তিতে একজন আসামীকে আটক করে
আদালতে প্রেরণ করেছি।
স্থানীয় জোড়পুল বাজারের একাদিক ব্যক্তি দুঃখের সাথে বলেন, জহির
বেঁচে ফিরলেও কোন কাজকর্ম করতে পারবে বলে ভাবতে পারিনা। আর এমন
ঘটনার যদি বিচার না হয় তাহলে অপরাধীরা সমাজে দিন দিন আরো
বেপরোয়া হয়ে উঠবে।






Related News

Comments are Closed