Main Menu

ফতুল্লায় তালাবদ্ধ ঘরে আগুনে পুড়ে গার্মেন্টস কর্মীর মৃত্যু

ফতুল্লার বিসিক শিল্পনগরীর গার্মেন্টসে চাকুরী করতো সুমন ও তার স্ত্রী। ভাড়া থাকতো ইউনুস সর্দারের বাড়িতে।

স্বামী সুমন স্ত্রী শম্পাকে ঘুমে রেখে দরজায় তালা লাগিয়ে মাগরিবের নামাজ আদায় করতে মসজিদে গিয়েছিল। এসময় হঠাৎ করেই ঐ বাড়িতে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে আগুন লাগে। এতে ২০টি ঘরেই আগুন লেগে যায়।

বাড়ির অন্য ভাড়টিয়ারা বের হতে পারলেও সুমনের স্ত্রী শম্পা আর বের হতে পারেনি। এতে রুমের মধ্যেই আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয় তার। শুক্রবার সন্ধ্যায় শাসনগাও মরাখালপাড় সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে সদর উপজেলার ইউএনও নাহিদা বারিক,ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো.আসলাম হোসেন। নিহত শম্পার লাশ ময়না তদন্তের জন্য রাতেই ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৭ টার দিকে শাসনগাঁয়ের আছিনতলা ব্রিজ সংলগ্ন ইউনুস সর্দারের ভাড়টিয়া বাড়িতে বৈদ্যুাতিক শর্ট সার্কিট হয়। মুহুর্তেই পুরো বাড়িতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এসময় বাড়ির ভাড়াটিয়ারা আহতবস্থায় যার যার রুম থেকে বের হয়ে আসে।

শম্পা ঘুমে থাকায় তার সুমন স্বামী তাকে ঘরে তালা মেরে মাগরিবের নামাজ পড়ে গিয়েছিল। নামাজ শেষে সুমন বাড়িতে এসে অগ্নিকান্ডের ঘটনা দেখতে পায়। এসময় সে তার স্ত্রীকে বাঁচাতে রুমের মধ্যে যাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।

অগ্নিকান্ডের সংবাদে বিসিক ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি শম্পার। আগুনে ইউনুস সর্দারের ২০ টি ঘর পুড়ে যায়। বাড়ির ভাড়াটিয়াদের আসবাবপত্রও আগুনে ভস্মিভুত হয়।

অগ্নিকান্ডে নিহতসম্পা আক্তার জামালপুরের মাদারগঞ্জ থানার ফৈটামারী এলাকার সোহরাব মিয়ার মেয়ে। স্বামী-স্ত্রী উভয়ে ইউনূস সরদারের বাড়িতে ভাড়ায় বসবাস করতো। অগ্নিকান্ডের সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) নাহিদা বারিক,ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মো. আসলাম হোসেন।

ঘটনাস্থলে যাওয়া ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মো.আসলাম হোসেন বলেন,মাগরিবের নামাজের পরপরই আগুন লাগে। ওই বাড়িতে গ্যাসের লাইনও নেই। ওই বাড়ির প্রতিটি ঘরই টিনের। তবে ধারনা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হতে পারে।

আগুনে প্রায় বেশ কয়েকটি ঘর পুড়ে গেছে। অন্যান্য ঘরের লোকজন আগুন লাগার পরপর বের হয়ে আসতে পারলেও শম্পা বের হতে পারেনি। সে ঘরের ভেতরই দগ্ধ হয়ে মারা যায়। এ ঘটনায় তার স্বামী সুমনও আহত হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.