Main Menu

বজরা হলদিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অ দূর্ণীতির অভিযোগ

শেখ মোঃ সাইফুল ইসলমা: গাইবান্ধা প্রতিনিধি:গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের বজরা হলদিয়া মৌজায় অবস্থিত বজরা হলদিয়া দ্বি-মূখী দাখিল মাদ্রাসার সুপার জয়নুল আবেদীনের বিরুদ্ধে ব্যাপক দূর্ণীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। তিনি ম্যানেজিং কমিটিকে পুজি করে একেরপর এক অনিয়ম করে চলছেন। বজরা হলদিয়া দাখিল মাদ্রাসাটি উন্নয়ন মূলক কাজ করার জন্য মাননীয় সংসদ সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারী (এমপি) প্রতিষ্ঠানের জন্য ৪ তলা ভবন নির্মাণের বরাদ্দ দিয়েছেন। সেই বরাদ্দকৃত ভবন নির্মাণের জন্য জায়গা নির্ধারণ করে জায়াগাটি পরিস্কার করার জন্য ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত হয়। এতে করে উক্ত প্রতিষ্ঠানে দক্ষিণ সাইডের আধাপাকা একটি ৯০ ফুট দৈর্ঘের পুরাতন ভবন নিলামে বিক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে ভবনটি উপস্থিত দরদাতাদের মধ্যে মাত্র ৩১ হাজার ৫’শ টাকায় বিক্রয় করেন সুপার। পুরাতন আধাপাকা ভবনটি উপস্থিত দরতাদাতের মাধ্যমে বিক্রয়ের আগে এলাকাবাসী ভবনটির মূল্য দিয়েছিলেন ৬০ হাজার টাকার অধিক। সুপার ফায়দা উঠানোর জন্য ভবনটি ৬০ হাজার টাকায় এলাকাবাসীকে না দিয়ে উপস্থিত দরতাতাদের মধ্যে রাজু আহম্মেদ কে মাত্র ৩১ হাজার ৫’শ টাকায় বিক্রয় করেন তিনি। পুরাতন ভবন বিক্রয়ের বিষয়টি উক্ত প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান মন্ডলের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলে ভবন বিক্রয় করার জন্য ম্যানেজিং কমিটির রেজুলেশনে উল্লেখ আছে যে, পুরাতন ভবনটির সর্বনি¤œ মূল্য ৫০ হাজার থেকে দরদাতাদের মধ্যে ডাক শূরু হবে। সুপার বিষয়টি আমলে না নিয়ে নিজ মনগড়া মত ৩১ হাজার ৫’শ টাকায় ভবনটি বিক্রয় করেন। সে জন্য সুপারকে খেসারত দিতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এমনকি ঐ বিক্রয়কৃত ভবনের সামনে ৩টি আমগাছ ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্তে বিক্রয় করা হয়। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানের আরোও ৯টি গাছ কর্তন করে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হইয়া ওঠেন। এনিয়ে এলাকাবাসীর ব্যাপক অভিযোগ তুলে বলেন প্রতিষ্ঠানের বিক্রয়কৃত আম গাছ এর জমিদাতা সদস্য রোপন করলেও তা প্রতিষ্ঠান বিক্রয় করে নেয়। অন্যদিকে ৯টি গাছ এখনো উদ্ধার না করায় দাতা সদস্যদের রোপনকৃত গাছ ফেরত দেওয়া না হলে বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করতে থাকে। এ বিষয়ে সুপারের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানে কে কি করল না করল তা কারো দেখার দরকার নাই। তিনি আরও বলেন প্রতিষ্ঠানে জমি দান করেছেন তাতে কি হয়েছে তারা তো ম্যানেজিং কমিটিতে কেউ নয় বলে জানান তিনি। এদিকে কয়েকজন জমিদাতা সদস্যের সঙ্গে কথা হলে তারা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক অনিয়ম দূর্ণীতির কথা তুলে ধরেন। জমি দাতা সদস্য নাকি প্রতিষ্ঠানের কেউ নয় এমনটাই বলেন জয়নুল আবেদীন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সুপার ব্যাপক নিয়োগ বানিজ্য করেন প্রতিষ্ঠানে সাবজেক্ট আছে শিক্ষক নেই, শিক্ষক আছে সাবজেক্ট নেই । মালটিমিডিয়া ক্লাশ আছে কার্যক্রম নেই, জমি দাতা সদস্য আছে ম্যানেজিং কমিটিতে নেই। সুপার জয়নুল আবেদীন জমিদাতাদের চাড়াই বার বার ম্যানেজিং কমিটি গঠন করে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতারণা করে ব্যাপক অর্থের বানিজ্য করেছেন তিনি। বর্তমানে সুপার নতুন ভবনটি কাজ চালু করে ফায়দা লুটেতিনি চাকুরী ছেড়ে দিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানের শূণ্য পদে নিয়োগ নেওয়ার চেস্টা করছেন তিনি। উক্ত প্রতিষ্ঠানে গত ১৭ সালের অভিভাবক সদস্য পদে নির্বাচিত প্রার্থীদের ম্যানেজিং কমিটিতে না রেখে কমিটি গঠন করেছেন সুপার। এমনকি গত বছরের কিছু সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী এএসসি পরীক্ষায় উত্তির্ন হলেও তাদের সার্টিফিকেটে বাবা-মায়ের নাম ভুল করে অর্থর দাবিও করেন সুপার জয়নুল আবেদীন। এমনকি প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষকদের মুখে জানা গিয়েছে সুপার তার ব্যক্তিগত মামলা চালানোর জন্য সহকারী শিক্ষকদের নিকট থেকে ১ মাসের বেতন কর্তন করেন তিনি। এমনকি বর্তমানে সুপার নতুন ভবনটি বরাদ্দ পাবার জন্য অনেক টাকা খরচ হয়েছে বলে আবারও সহকারী শিক্ষকদের নিকট থেকে ফুল ১ মাসের বেতন কর্তন করে নিয়েছেন তিনি। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গিয়েছে এই সুপার ভিন্ন জায়গায় ভিন্ন রুপে চলাফেরা করার অভিযোগও পাওয়া গিয়েছে। তিনি বর্তমানে বজরা হলদিয়া দ্বি-মূখী দাখিল মাদ্রাসার সুপার, চৌধুরী বাজার জামে মসজিদের ইমাম, জুয়ার বোর্ডের জুয়ারী বলেও ব্যাপক অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। এমনকি প্রতিষ্ঠানের ২টি কম্পিউটার ও ১টি সরকারী প্রজেক্টর বিক্রয়ের অভিযোগও পাওয়া গিয়াছে। তাই শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ এই দূর্ণীতি বাজ সুপার প্রতিষ্ঠানের জমি দাতা সদস্যদের ম্যানেজিং কমিটিতে না রেখে বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্ণীতি করে প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যাপক ফায়দা লুটেছেন তিনি। তাই যথাযথা কর্তৃপক্ষের নিকট সচেতন মহলের দাবি জমিদাতা সদস্যদের ম্যানেজিং কমিটিতে রাখা হোক সেই সাথে দূর্ণীতিবাজ সুপারকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি করেন সচেতন মহল সহ এলকাবাসী ।






Related News

Comments are Closed