Main Menu

কেশবপুরে ঔষধ কোম্পানীর প্রতিনিধিদের প্রেসক্রিপশন সার্ভে কোন ক্রমেই বন্ধ হচ্ছে না ॥ চরম বিপাকে রোগীরা

শামীম আখতার, ব্যুরো প্রধান (খুলনা): যশোরের কেশবপুরে কোন ক্রমেই বন্ধ হচ্ছে না ঔষধ কোম্পানীর প্রতিনিধিদের রোগীর প্রেসক্রিপশন সার্ভে। প্রতিনিধিদের প্রতিযোগিতার বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন ডাক্তার দেখাতে শতশত রোগীরা। সরকারী হাসপাতালের ভিতর এবং ক্লিনিকের বাইরে এ প্রতিযোগিতা চলছে ব্যাপক ভাবে। এমনকি অনেক কোম্পানির ২০ থেকে ২৫ টি ছবি প্রতিদিনই সংশিষ্ট কতৃপক্ষের নিকট পাঠানো লাগে। ডাক্তারের দেওয়া ওই সব প্রেসক্রিপশনে রোগীর কোন গোপন রোগের ঔষধ লেখা থাকলেও কোম্পানীর প্রতিনিধিরা রোগীর কাছ থেকে প্রেসক্রিপশন কেড়ে নিয়ে পড়া ও মোবাইলে ছবি তুলে রাখায় রোগীরা পড়ছেন অস্বস্থিতে। মেডিকেল নীতিশাস্ত্র বহি:র্ভূত এমন কাজ বন্ধ করার জন্য যশোরের সিভিল সার্জন বিজ্ঞপ্তী জারী করলেও কোম্পানীর প্রতিনিধিরা তা মানছে না।
সরকারী হাসপাতালের ভিতর ও শহরের বেসরকারী হাসপাতাল এবং ক্লিনিকের বাইরে ঔষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধিরা দলবদ্ধ হয়ে অপেক্ষা করতে থাকে। রোগীরা ডাক্তারের চেম্বার থেকে বের হবার সাথে সাথে রোগীর হাত থেকে প্রেসক্রিপশন কেড়ে নিয়ে পড়া ও মোবাইলে ছবি তুলে নিচ্ছে। একজন দু’জন নয় ডজন ডজন প্রতিনিধি এই কাজে ব্যস্ত থাকে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডাক্তার রোগীর প্রেসক্রিপশনে কি ধরণের রোগের বা কোন কোম্পানীর ঔষুধ লিখেছেন প্রতিনিধিরা ছবি তুলে কোম্পানীকে জানানোর জন্যই এই কাজ করে চলেছে। গত রবিবার ও বুধবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, একাধিক ঔষধ কোম্পানীর ২০থেকে ২৫ জন প্রতিনিধি কেশবপুর হাসপাতালের ভিতর রোগীদের নিকট থেকে প্রেসক্রিপশন কেড়ে নিয়ে মোবাইলে ছবি তুলে রোগীর মূল্যবান সময় ব্যায় করছে। এ সময় একজন নারী রোগী অভিযোগ করে বলেন, তিনি গোপন ব্যধির জন্য ডাক্তারের কাছে এসেছিলেন। তাঁর ডাক্তারের দেয়া ব্যবস্থাপত্র প্রতিনিধিরা জোর করে কেড়ে নিয়ে মোবাইলে ছবি তুলে নিয়েছে। এতে তাঁর গোপনীয়তা রক্ষা হয়নি এবং ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
যশোর সাতক্ষীরা ও খুলনা জেলার মধ্যবর্তী স্থলে কেশবপুর উপজেলার অবস্থান হওয়ায় এখানকার হাসপাতালের গুরুত্ব অপরিসীম। কেশবপুর ছাড়াও পার্শ্ববর্তী মনিরামপুর, কলারোয়া, তালা ও ডুমুরিয়া উপজেলার রোগীরাও এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। সে কারণে শহরে বেসরকারী হাসপাতাল ও ক্লিনিক এবং এ উপজেলায় ২৫৭টি ঔষুধের দোকান গড়ে উঠেছে। যে কারণে প্রায় ৮২টি ঔষুধ কোম্পানী এখানে তাদের প্রতিনিধি দ্বারা ঔষুধ বিক্রি করে থাকে। প্রতিদিন এই উপজেলায় প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার ঔষুধ বিক্রি করে থাকে এ সব প্রতিনিধিরা। এ তথ্য প্রতিনিধি, কেশবপুরস্থ কেমিষ্টস এন্ড ড্রাগিস্টস সমিতি ও ঔষুধ দোকানীদের কাছ থেকে জানা গেছে। ঔষুধ কোম্পানীর কয়েকজন প্রতিনিধির সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করেও সরকারী কোন চাকরী না পেয়ে কোম্পানীর ঔষুধ বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে চাকরী নিয়েছে। কোম্পানীর টার্গেট পুূরনের জন্য বৈধ ঔষুধের দোকানের পাশাপাশি গ্রাম্য হাতুড়ে ডাক্তার ও কিছু কিছু কবিরাজের কাছেও ঔষুধ বিক্রি করে থাকে এবং কোম্পানীর নির্দেশ মোতাবেক ডাক্তারের দেয়া রোগীর প্রেসক্রিপশনের মোবাইলে ছবি তুলে কোম্পানীর কাছে পাঠাতে হয়। এদিকে গ্রাম্য হাতুড়ে ডাক্তাররা শহর থেকে কম দামের ঔষুধ কিনে নিয়ে গ্রামের রোগীদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করে প্রতিনিয়ত প্রতারনা করে চলেছে। হাসপাতালের মাত্র ৫০ গজ দুরে অবস্থিত জিয়া ফার্মেসীর মালিক কবিরাজ জিয়াউর রহমান উচ্চস্বরে চিৎকার করে ভূতে ধরেছে এমন সন্দেহজনক মানুষের ঝাড়, ফুক দিয়ে চিকিৎসা করেন। ঔষুধ বিক্রয় প্রতিনিধিরা ওই কবিরাজকে দিয়েও তাদের কোম্পানীর ঔষুধ প্রেসক্রিপশন করিয়ে থাকে। কবিরাজ জিয়াউর রহমান জানান, তিনি ঝাড়, ফুক দিয়ে রোগীদের নিকট থেকে ৫০ টাকা ১০০ টাকা নিয়ে থাকেন। কোম্পানীর লোকজন আমাকে দিয়ে প্রেসক্রিপশন লেখালে আমি কি বা করতে পারি।
এ ব্যাপারে অনেক ঔষধ কোম্পানীর প্রতিনিধিরা বলেন,রোগীদের কাছ থেকে প্রেসক্রিপশন নিয়ে ছবি তুলতে আমাদের খুবই খারাপ লাগে। কোম্পানির মেনেজমেন্টের কারনে আমরা প্রতিনিয়ত এ কাজ করে থাকি। কেশবপুরস্থ কেমিস্টস এন্ড ড্রাগিষ্টস সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব ডা. আনোয়ার হোসেন জানান, ঔষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধিরা মোবাইলে ডাক্তারের দেয়া রোগীর প্রেসক্রিপশনের ছবি তুলে নেয়ায় রোগীর রোগের গোপনীয়তা রক্ষা হচ্ছে না। প্রতিনিধিরা রোগ সম্পর্কে জেনে যাচ্ছে। প্রতিনিধিদের এই কাজ দ্রুত বন্ধ করতে হবে।
এ ব্যাপারে যশোরের সিভিল সার্জন ডা. দিলীপ রায় বলেন, বেশ কিছু দিন যাবত সরকারী ও বেসরকারী হাসপাতাল এবং ক্লিনিকের ভিতরে বাইরে বিভিন্ন ঔষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধিরা অবস্থান করেন এবং চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের নিকট থেকে চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র নিয়ে মোবাইলে ছবি তুলে নিচ্ছেন। এতে আগত রোগীরা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন। একজন রোগীর চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র, চিকিৎসক এবং রোগীর গোপনীয় বিষয় যার বহি:প্রকাশ মেডিকেল নীতিশাস্ত্র বর্হি:ভূত। এ সব অনিয়ম বন্ধ করার জন্য গত ১৪ অক্টোবর বিজ্ঞপ্তী জারী করা হয়। এরপরও যদি ঔষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধিরা এ ধরণের কাজ করতে থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।#






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.