Main Menu

আর্সেনিক প্রবন এলাকা হলেও রোগী শনাক্তে ৫ বছর কোন জরিপ হয়নি

শামীম আখতার, ব্যুরো প্রধান (খুলনা):কেশবপুর আর্সেনিক প্রবন এলাকা হলেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে গত ৫ বছর আর্সেনিক রোগী শনাক্ত করতে কোন জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়নি। এ উপজেলায় সব অগভীর নলকূপের পানি শতভাগ আর্সেনিকযুক্ত হওয়ায় বাধ্য হয়ে মানুষ বিশুদ্ধ পানির অভাবে ওই নলকূপের পানি পান করছে। গত ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ৩১৫ জন আর্সেনিক রোগী চিকিৎসা গ্রহণ করেন। এরপর আর্সেনিক রোগী শনাক্ত করতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে জরিপ না করায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন কোন আর্সেনিক রোগীর তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহাঙ্গীর আলম জানান,কেশবপুর উপজেলা আর্সেনিক প্রবন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌর এলাকায় ২ হাজার ৩২২টি অগভীর নলকূপ রয়েছে। সব কয়টি অগভীর নলকূপের পানি শতভাগ আর্সেনিকযুক্ত। বিশুদ্ধ পানির জন্য রয়েছে ১ হাজার ৭৩৯টি গভীর নলকূপ। যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। গভীর নলকূপের ভেতর ২৩টিতে পানি না উঠার অভিযোগও রয়েছে। বিশুদ্ধ পানির জন্য নতুন করে ৪ হাজার গভীর নলকূপের চাহিদা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে। আগামী ২০২১ সালের ভেতর ২ হাজার গভীর নলকুপ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরও জানান, গত অর্থ বছরে কেশবপুর উপজেলায় পল্লী অঞ্চলে পানি সরবরাহ প্রকল্পের ৪৮টি, অগ্রাধিকার মূলক বিশেষ গ্রামীণ পানি সরবরাহ প্রকল্পের ৩৫৬ টি এবং পিইডিপি-৩ প্রকল্পের ৩৩টি গভীর নলকুপ বসানো হয়। এছাড়াও আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসন প্রকল্পের ৩২৩ টি গভীর নলকুপ পাওয়া যায় যা বসানোর কাজ চলছে। এর ভেতর ৭৬টি সাবমার্সিবল পাম্প ও ট্যাংকিসহ উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হবে।
ইতিমধ্যে পৌর এলাকায় নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য উৎপাদক নলকূপ থেকে পাইপের মাধ্যমে সরবরাহকৃত পানি থেকে ৪০ শতাংশ মানুষ সুফল পাচ্ছে।
কেশবপুর পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম মোড়ল বলেন, খুব শীঘ্রই পৌর এলাকার সকল নাগরিক বিশুদ্ধ পানি পেতে পারেন তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মো. হারুন-অর-রশীদ বলেন, গত ১২ থেকে ১৪ সাল পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ৩১৫ জন আর্সেনিক রোগী চিকিৎসা গ্রহণ করেন। এরপর গত ৫ বছর আর্সেনিক রোগী শনাক্ত করতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে কোন জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়নি। আর্সেনিকে আক্রান্ত কোন রোগী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এলে তাদেরকে চিকিৎসা দেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, গত ৫ বছর আর্সেনিক রোগী শনাক্ত করতে কোন জরিপ না হওয়ায় তাদের নিকট নতুন কোন আর্সেনিক রোগীর তথ্য নেই।






Related News

Comments are Closed