Main Menu

শাপলার অপরুপ দৃশ্যে মুগ্ধ এলাকাবাসী

জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহঃ চারপাশে রং বেরংয়ের ছোট বড় বসতবাড়ি। মাঝখানে একখন্ড ডোবা জায়গা। স্থানটিতে যেন সকলের ময়লা ফেলার পাল্লা চলে। কাজেই মহল্লাটিতে প্রবেশের একমাত্র রাস্তাটির পাশের এ স্থানটি সব সময় থাকতো দূর্গন্ধময়। যে কারণে পথচারীরাও এখানে আসলেই নাক আটকে ধরে দ্রুত স্থান ত্যাগ করতো। এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ থেকে বাঁচাতে এগিয়ে এসেছে এ মহল্লারই তবিবুর রহমান সবুজ নামের এক শিক্ষিত যুবক। তার বুদ্ধিমত্তায় আবর্জনায় ভরা এ ডোবাটি আজ পাল্টে গেছে। সবুজ এ স্থানটিতে লাল শাপলা লাগিয়ে আজ সৌন্দর্য্যে ভরা স্থানে পরিণত করেছে। এখন প্রতি সকালে যখন লাল টকটকে শাপলা ফোটে অপরুপ লাগে সে দৃশ্য এটাতে মুগ্ধ সবাই। কেননা পরিবেশ দূষনের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে তারা। ফলে এখন মহল্লাবাসীরা আর কেউ এখানে ময়লা ফেলে না। সবুজ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌর এলাকার বলিদাপাড়া গ্রামের শাহাজামাল মিয়ার পুত্র। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, যেন পাল্লা দিয়ে লাল টকটকে শাপলা ফুটে আছে। পথচারীরা থমকে দাঁড়িয়ে দেখছে সে অপরুপ দৃশ্য তবিবুর রহমান সবুজ জানায়, এলাকাটা আবাসিক। আর যাই হোক মহল্লাটা সুন্দর ও পরিপাটি হওয়া চাই। তাদের মহল্লার ভিতরের সকল স্থানই বেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও সাজানো গোছানো। কিন্তু তার বাসার পাশেই নাজমুল হুদা নামের এক শিক্ষকের পরিত্যক্ত অপেক্ষাকৃত নীচু একটি জমিতে সকলেই ময়লা ফেলতো। যে কারণে স্থানটি অত্যন্ত খারাপ দেখাতো। তাই সে ভাবতে থাকে এটা দূর করা প্রয়োজন। এমন কিছু করা দরকার যে কারণে বিবেকের তাড়নায় এখানে আর কেউ ময়লা ফেলবে না। স্থানটিতে বর্ষা মৌসুমে পানি জমে থাকে। তাই নিজেই পাশের গ্রামের একটি পুকুর থেকে ৩ বছর আগে লাল শাপলার কিছু লতি এখানে এনে পানির মধ্যে গেড়ে দেয়। এরপর থেকে গত ২ বছর ধরে যতদিন পানি থাকে ততদিন এখানে লাল শাপলা ফুটছে। দিন যত যাচ্ছে ক্রমেই জায়গাটিতে বিস্তার লাভ করছে উদ্ভিদ জাতীয় শাপলার লতিতে। সকাল হলেই লাল টকটকে শাপলায় ভরে যাচ্ছে। যখন শাপলা গুলো ফুটে থাকে তখন এর সৌন্দর্য্য অপরুপ লাগে। শিক্ষিত এই যুবক সবুজ জানায়, এখন সকলেই মুগ্ধ তাই বিবেকের তাড়নায় এখানে আর কেউ ময়লা ফেলে না। গোপনে কেউ ফেলতে আসলেও মহল্লাবাসীর নজরে পড়লে আর রেহাই নেই। ফলে আবর্জনায় ভরা জায়গাটি এখন হয়েছে পরিবেশ বান্ধব ও সৌন্দর্য্যপূর্ণ। এখানে আসলে পথচারীরা আগের মত তাড়াতাড়ি পার হওয়াতো দুরের কথা বরং খানিকটা থমকে দাঁড়িয়ে সৌন্দর্য্য দেখে মুগ্ধ হচ্ছে। এটা করতে তার কোন পয়সা খরচ হয়নি। কিন্তু স্থানটির শ্রীবৃদ্ধি ঘটেছে। মহল্লাবাসীদের একজন শাহাজান আলী জানান, পরিবেশ সুরক্ষায় আমরা অনেকে অনেক কিছু করি। কিন্তু সবুজ শুধু বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে পরিবেশ রক্ষা করেছে। সবুজের এ কৌশলের প্রশংসা করতে হয়। সাজ্জাদুর রহমান নামের এক প্রতিবেশি জানান, সবুজের একটি কৌশলপূর্ণ কাজে অস্বাস্থ্যকর স্থানটি হয়ে উঠেছে দৃষ্টি নন্দন। এ ছাড়াও অনেকে এই ফুল ভেষজ চিকিৎসার জন্য তুলে নিয়ে যায়। এলাকার ওয়ার্ড কমিশনার আনোয়ার হোসেন জানান, পরিবেশ সুরক্ষায় আমরা অনেকে সময় পয়সা খরচ ও শ্রম দিয়ে থাকি। কিন্তু সবুজ এক পয়সাও খরচ না করেও আজ মহল্লার পরিবেশ রক্ষা করেছে। শুধু তাই নয় স্থানটি সৌন্দর্য্য মন্ডিত করে গড়ে তুলেছে। তার এ কৌশলের জন্য ধন্যবাদ জানাতে হয়।






Related News

Comments are Closed