Main Menu

মতলবে সকল অবৈধ অপকর্মের মূলহোতা কাজী মিজান

বিশেষ প্রতিবেদক :মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলার অংশে মেঘনা নদী থেকে দীর্ঘদিন যাবৎ অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও অবৈধভাবে তেল বিক্রি করে কয়েকশত কোটি টাকার মালিক হয়েছে কাজী মিজান ও তার ভাই কাজী হাবিব, কাজী মতিনরা। দিনে ও রাতে অবৈধভাবে অসংখ্য ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন ও ক্রয়-বিক্রয় চলছে। দীর্ঘদিন যাবৎ এ বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকায় হুমকির মুখে পড়েছে মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের বাঁধ। তাছাড়া এ বালু উত্তোলনের কোনো বৈধতা না থাকায় সরকার বঞ্চিত হচ্ছে বিপুল অংকের রাজস্ব থেকে। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করতে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে একাধিকবার নির্দেশ দেয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি। বন্ধ হয়নি অবৈধভাবে বালু উত্তোলন। এদিকে বালু উত্তোলন করার কারণে ভাঙ্গনের হুমকির মুখে পড়েছে মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প, ইকোনমিক জোন ও প্রস্তাবিত হাইটেক পার্কসহ চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকার বাড়ি-ঘর ও ফসলী জমি।
জানা যায়, মতলব দক্ষিণ উপজেলায় এবং মতলব উত্তর উপজেলার ফরাজীকান্দী, জহিরাবাদ থেকে ষাটনল পর্যন্ত মেঘনা নদী থেকে একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন যাবৎ অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। প্রায় ৭-৮ মাস যাবৎ থেকে নতুন ব্যবসা মেঘনা নদীতে আসা দুরপাল্লার জাহাজ থেকে অবৈধভাবে ভাবে ক্ষমতার দাপট খাটিয়ে কেরোসিন, ডিজেল ক্রয় বিক্রয় করছেন।
মতলব উত্তর পুলিশের নাকের ডগায় চোরাই তেলের জমজমাট ব্যবসায় চলছে। এসব চোরাই তেলের ব্যবসার বিষযে থানা পুলিশ কিংবা নৌ পুলিশ নিরব ভূমিকা পালন করছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রকৃত মালিকপক্ষ।
মতলব উত্তরে দশানী, বাহেরচর সটাকী বাজার, ষাটনলও মোহনপুরে শতাধিক চোরাই তেলের দোকান রয়েছে। ওই সকল চোরাই তেলের ব্যবসায়ীরা রাতের আঁধারে বিভিন্ন জাহাজ থেকে শত শত লিটার পেট্রোল, অকটেন, সয়াবিন, পাম অয়েল, কেরোসিন ও নারিকেল তেল কম মূলে ক্রয় করে থাকে। পরে সেগুলো অধিক লাভে উপজেলার বিভিন্ন দোকানে সরবরাহ করে। রাতের বেলায় হারিকেন জ্বালিয়ে জাহাজকে সংকেত দেয়া হয়। পরে সুযোগ বুঝে নির্জন স্থানে নিয়ে বিভিন্ন প্রকারের তৈল জাতীয় পদার্থ নামানো হয়। মতলব উত্তরেে সবচেয়ে বড় চোরাই তেলের ব্যবসায়ী মিজান ও তার ভাইয়েরা। তিনি চোরাই তেলে ব্যবসা করে কোটিপতি বনে গেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ওই সিন্ডিকেটটি এ কাজ করে যাচ্ছে। এ নিয়ে এলাকার জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছে। অবৈধভাবে এ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় মোহনপুরের তোফায়েলকে সু-পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত তোফায়েলের পরিবার ছেলে হত্যার বিচার পায়নি। অবৈধ এ বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে এ নিয়ে যে কোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, মতলব উত্তরের মোহনপুরের কাজী মিজানুর রহমান মিজান, কাজী হাবিব, মতিন কাজী এদের প্রত্যক্ষ্য মদদে তেল, বালু থেকে শুরু করে মাদকের বড় চালানের ব্যবসা করে থাকেন ওরা। স্থানীয়রা আরো জানান, কাজী মিজানদের রয়েছে পালিত সন্ত্রাসী বাহিনী কেউ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুললে চীর তরে খালাস করে দেয় ওই বাহিনী। প্রতিদিন শতাধীক সন্ত্রাসী এনে এলাকায় মহড়া দিয়ে শান্তিপ্রিয় এলাকাকে অশান্তি সৃষ্টি করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামীলীগ নেতা জানান, শেখ হাসিনার নির্দেশ ছিল, এখন থেকে অন্য কোন রাজনৈতিক দল থেকে আওয়ামীলীগে যোগদান করানো যাবেনা। কিন্তু শেখ হাসিনার বিধি নিষেধকে উপেক্ষা করে গত কয়েকদিন পূর্বে কিছু বিএনপি সন্ত্রাস উশৃংখলদেরকে আওয়ামীলীগে যোগদান করানো হয়েছে। তাতে আমরা মর্মাহত। এর সুবিচারের প্রার্থনা করেন নেতা।
সরজমিনে দেখা যায়, মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলা সংলগ্ন মেঘনা নদীর বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রায় ২৪ ঘন্টাই ৬০-৭০টি ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এ বালু শত শত বাল্কহেড, কার্গো ও ট্রলার দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় দেশের বিভিন্ন স্থানে। যে চক্রটি বালু উত্তোলন ও বিক্রি করছে তাদের এ সংক্রান্ত কোনো অনুমতি বা অনুমোদন নেই। প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে লাখ লাখ টাকার বালু। পেশী শক্তির বলে সিন্ডিকেটটি অবৈধভাবে বালু বিক্রি করে আসছে। এ জন্যে বৃহত্তর মতলববাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ, তীব্র অসন্তোষ ও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। ইতিপূর্বে মাঝে মধ্যে নামকাওয়াস্তে কিছু অভিযান হলেও অবৈধ এ কাজ কখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন প্রায়ই অভিযান পরিচালনা করে আসছে।
স্থানীয় লোকজন এ ব্যাপারে অতিদ্রুত জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ ও জেলা পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সকলের হস্তক্ষেপ এবং সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।






Related News

Comments are Closed