Main Menu

পানির অভাবে পাট জাগ দিতে পারছেনা কেশবপুরের কৃষকরা

শামীম আখতার, ব্যুরো প্রধান (খুলনা): বৃষ্টি মৌসুমেও কাঙ্খিত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় কেশবপুরে চাষীরা পাট পচন দিতে পারছেন না। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের অভাবে খাল-বিল, ডোবা, নালায় পানি না থাকায় কৃষকরা এ সমস্যায় পড়েছেন। পাট নিয়ে এ অঞ্চলের হাজারও কৃষক চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। অপরদিকে, আমন ধান রোপণের এখনই উপযুক্ত সময়। সময় মত ধানের চারা রোপণ করতে না পারলে ফলন বিপর্যয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। অনেক চাষী খাল বা ডোবায় পাট জাগ দিয়ে স্যালো ম্যাশিনে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করে ডোবা ভরাট করছেন। ফলে বাধ্য হয়ে কৃষকরা পাট কেটে স্তুপ করে রেখে দিচ্ছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত মৌসুমে এ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ৫ হাজার ২২০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করে। সেই হিসেবে চলতি বছর ৫ হাজার ৫০০ হেক্টর জমি পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তা কমে ৪ হাজার ৬৮০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়। ধানের দরপতনের কারণে এ উপজেলার কৃষকরা পাট আবাদে ঝুঁকবে বলে কৃষি বিভাগ দাবি করলেও সেচ ব্যবস্থা না থাকাসহ খরার কারণে চলতি বছর লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। তাদের মতে, পাটের মূল্য কমসহ নানাবিধ সমস্যার কারণে কৃষকরা এক সময় পাট চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। তবে গত কয়েক বছর ধরে ধানের দরপতনের কারণে ধান আবাদের লোকসান কাটিয়ে উঠতে এ বছর কৃষকরা পাট আবাদ করে। কিন্তু খরার কারণে পাট লম্বা না হওয়ায় কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হন। এছাড়া, খরার কারণে পাটে পোকা মাকড়ের আক্রমনও অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশী হয়।
কৃষকরা জানান, পাট চাষের শুরু থেকে এ বছর চাষীরা বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়েন। মৌসুমী বৃষ্টিপাতের অভাবে কৃষকদের পাট চাষে সেচ নির্ভর হয়ে পড়তে হয়। তারা ধার দেনা করে পাট আবাদ করলেও শেষ সময়ে এসে বিপত্তিতে পড়েছেন। শুক্রবার সকালে উপজেলার মজিদপুর, বাগদা গ্রামের বিভিন্ন মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, কৃষকরা পাট কেটে জমির পাশের গাছে স্তুপ করে রেখেছেন। কোন কোন কৃষক তার ক্ষেতের উৎপাদিত পাট নসিমনে করে প্রায় ২/৩ কিলোমিটার দূরে নিয়ে খাল বা ডোবায় জাগ (পচন) দেয়ার চেষ্টা করছেন। অনেক চাষী খাল বা ডোবায় পাট জাগ দিয়ে স্যালো ম্যাশিনে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করে ডোবা ভরাট করছেন। আবার পানির অভাবে অনেক চাষী পাট কাটা নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছেন।
বাগদা গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি চলতি বছর ৬ বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছেন। আমন ধানের চারা রোপণের উপযুক্ত সময় হয়ে যাওয়ায় তিনি বাধ্য হয়ে পাট কেটে পচনের জন্যে ডোবায় জাগ দিয়েছেন। কিন্তু পানি না থাকায় তিনি বাধ্য হয়ে স্যালো মেশিন দিয়ে ডোবায় পানি ভটার করছেন। এ অবস্থায় পাটের উৎপাদন খরচও বেশী হচ্ছে। ধানের মত পাটের ন্যায্য মূল্য না পেলে পাটেও তাকে লোকসান গুনতে হবে। শুধু রফিকুল ইসলাম নয় তার মত এ উপজেলার হাজারও কৃষক পাট নিয়ে পড়েছেন মহাবিপাকে। মজিদপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল লতিফ বলেন, পাট চাষ অন্যান্য চাষের তুলনায় ব্যাপক ব্যয় বহুল। এক বিঘা জমিতে পাট চাষ, কাটা, আগাছা দমন, জাগ দেয়া, ছাল ছাড়ানো, শুকানোসহ বাজারে তুলতে কৃষকদের ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। অথচ বর্তমান বাজারে পাটের যে দাম তাতে উৎপাদন খরচ উঠছে না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মহাদেব চন্দ্র সানা বলেন, এখন পাট কেটে আমন ধান রোপণের উপযুক্ত সময়। দেরিতে ধান রোপণ করলে ফলন কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি বিভাগ কৃষকের সার্বিকভাবে সহযোগিতা করলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে তা ভেস্তে যাচ্ছে।






Related News

Comments are Closed