Main Menu

গাইবান্ধায় রেলওয়ের জিএম ত্রিমোহিনী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার রেলপথ পরিদর্শন।

গাইবান্ধা প্রতিনিধি :ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীর পানি দ্রুত কমছে। মঙ্গলবার ব্রহ্মপুত্র বিপদসীমার ৩৪ সে.মি. এবং ঘাঘট নদীর পানি ১৪ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ফলে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে।
পানি কমতে শুরু হলেও গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা, ফুলছড়ি ও সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল জলমগ্ন অবস্থায় রয়েছে। এখনও অনেক ঘরে পানি রয়েছে। তাই বাঁধসহ বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থানরত বানভাসি লোকজন এখনও ঘরে ফিরে যেতে পারছে না। গবাদি পশুর খাদ্য সংকট, বিশুদ্ধ পানির অভাব এবং স্যানিটেশন সমস্যা প্রকট। ফলে জনগণকে নানা দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এদিকে বাঙ্গালি ও করতোয়া নদীর বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় পলাশবাড়ি ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার পৌরসভাসহ কয়েকটি গ্রামে নতুন করে পানি প্রবেশ করছে। এছাড়াও ঘাঘট নদীর শহর রক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় খোলাহাটি ইউনিয়নের চকমামরোজপুর, কাজীপাড়া, বাহারবন পশ্চিমপাড়া, সরকারপাড়ার কিছু অংশ এবং ডেভিডকোম্পানীপাড়ার পশ্চিম অংশে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, এদিকে বন্যায় জেলার সাত উপজেলার ৫১টি ইউনিয়নের ৪২৪টি গ্রাম ও ২টি পৌরসভার ৫ লাখ ৮৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়েছে। ঘরবাড়ির ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৬৯ হাজার ৮৭০টি। আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে ১৯৭টি। এছাড়া ১৪ হাজার ২১ হেক্টর আউশ ধান, আমন বীজতলা, রোপিত আমন, পাট ও শাকসবজি বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে এবার বন্যায় ১টি গরু, ৩ হাজার ৭২০টি হাঁস-মুরগী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত জেলায় ১ হাজার ৭০ মে. টন চাল, ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
এদিকে গাইবান্ধা থেকে বোনারপাড়া রেলওয়ে জংশন পর্যন্ত বন্যার পানিতে ডুবে গিয়ে রেলপথের বিভিন্ন জায়গায় রেলপথ বিধস্থ হওয়ায় ট্রেন চলাচল এখনও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বর্তমানে লোকাল এবং মেইল ট্রেন গাইবান্ধা থেকে বোনারপাড়া পর্যন্ত ট্রানজিট পদ্ধতিতে চলাচল করছে। অপরদিকে আন্তগর লালমনি এক্সপ্রেস ও রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেন দুটি পাবর্তীপুর-সান্তাহার হয়ে যাতায়াত করছে। এদিকে সোমবার বিকেলে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার মো. শহিদুল ইসলাম এবং অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট মো. শাহনেওয়াজ সহ উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা গাইবান্ধা থেকে বোনারপাড়া জংশন পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ পরিদর্শন করেন। এসময় জেনারেল ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম জানান, রেলপথ কবে স্বাভাবিক হবে সেব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোন মন্তব্য করতে পারেননি। তবে ঈদুল আজহার আগেই যাতে ট্রেন চলাচল সম্ভব হয় সেব্যাপারে চেষ্টা করা হবে বলে তিনি উলে¬খ করেন।






Related News

Comments are Closed