Main Menu

গর্ভবতী স্ত্রীকে আত্মহত্যার প্ররোচনার দায়ে ইউপি মেম্বার গ্রেফতার

শামীম আখতার, ব্যুরো প্রধান খুলনা: যশোরের কেশবপুরে রবিবার সকালে গর্ভবতী স্ত্রী বিষপানে আত্মহত্যা করেছে। এ ঘটনা নিহতের ভাই কেশবপুর থানায় বোনের আত্মহত্যা প্ররোচনায় বাধ্য করার দায়ে একটি মামলা করেছেন। পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করেছে। প্ররোচনা মামলায় স¦ামী ইউপি মেম্বার ও আওয়ামীলীগ নেতাকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সরেজমিন গিয়ে এলাকাবাসি সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মঙ্গলকোট ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জহির রায়হান মোড়লের দুই বছর আগে প্রেমের সম্পর্ক্য করে স্ত্রী তানিয়া খাতুনকে বিবাহ করেন। এ ঘটনায় নিহতের আপন ভাই হাফিজুর রহমান বলেন, জহির রায়হান বিয়ের পর তার বোনের সঙ্গে বিভিন্ন সময় ঝগড়া-বিবাধ করতো। স¦ামীর সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলে শনিবার বিকালে তানিয়া বেগম বাবার বাড়ি থেকে মঙ্গলকোট জহির রায়হানের বাড়িতে যায়। তার বোন গর্ভবর্তী ছিল। জহির রায়হানের ঘরে প্রথম পক্ষের স্ত্রী ও দুটি ছেলে-মেয়ে আছে।
জহির রায়হানের নিকট তার বোনের পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে ওই রাতে ঝগড়া-বিবাধ হয়। গভীর রাতেই তার বোন বিষপান করে। রবিবার সকালে জহির রায়হান কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তানিয়াকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে এলে কর্তব্যরত ডাক্তার প্রদীপ্ত চৌধুরী তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর করেন। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পতিমধ্যে তার মৃত্যু হয়। ওই সময় জহির রায়হান স্ত্রীর লাশ নিয়ে উপজেলার কায়েমখোলা গ্রামে শ্বশুর বাড়িতে যায়। এ সময় শ্বশুর বাড়ির লোকজন জহির রায়হানকে ঘরে আটকে রেখে থানা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে দ্রুত থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ও ইন্সপেক্টরের (তদন্ত) নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে এবং জহির রায়হানকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় রবিবার নিহত তানিয়ার ভাই হাফিজুর রহমান বাদি হয়ে জহির রায়হানের বিরুদ্ধে কেশবপুর থানায় তার বোনকে আত্মহত্যা প্ররোচনায় বাধ্য করার দায়ে মামলা করেছেন।
কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার প্রদীপ্ত চৌধুরী বলেন, তানিয়াকে হাসপাতালে নিয়ে এলে তার অবস্থা অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এ ব্যাপারে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহিন জানান, নিহতের ভাই হাফিজুর রহমান বাদি হয়ে থানায় মামলা করেছেন। ওই মামলায় জহির রায়হানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য যশোর মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।






Related News

Comments are Closed