Main Menu

যশোরের কেশবপুরে খাদ্য গুদামে জায়গা সংকটে সরকারিভাবে ধান চাল ক্রয় বন্ধ


শামীম আখতার, ব্যুরো প্রধান খুলনা: যশোরের কেশবপুর খাদ্য গুদামে জায়গার অভাবে সরকারিভাবে ধান চাল ক্রয়া প্রায় ১ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। দেরিতে বরাদ্দপত্র আসাসহ সময়মত কৃষি অফিস কৃষকের তালিকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। তবে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দাবি অচিরেই এ সমস্যার সমাধান হবে।
জানা গেছে, গত বছর বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় কেশবপুর উপজেলায় রেকর্ড পরিমান (১৬ হাজার হেক্টর) জমিতে বোরো আবাদ হয়। যা থেকে প্রায় ১ লাখ মোট্রিক টন ধান উৎপাদন হয়। এ ধান উৎপাদন করতে কৃষকের মন প্রতি ৮‘শ থেকে ৯‘শ টাকা খরচ হয়। এ সময় সরকার ধানের মূল্য ১ হাজার ৪০ টাকা নির্ধারণ করলেও ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে খোলা বাজারে প্রতিমন ধান ৬‘শ থেকে ৬‘শ ৫০ টাকা দরে বিক্রি হতে থাকে। কৃষকের ঘরে দুয়ারে আসার সাথে সাথেই পাওনাদার থেকে শুরু করে মহাজনদের হালখাতার রঙিন খামও এসে দুয়ারে হাজির হয়। বাধ্য হয়ে পাওনাদারদের দেনা মেটাতে মাঝারি ও ক্ষুদ্র কৃষকরা তাদের কষ্টার্জিত ধান বাজারে পানির দরে বিক্রি করে দেয়ার ফলে ঘর শূন্য হয়ে যায়। এ সময় এ উপজেলায় সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ৪৯৯ মেট্রিক টন ধান ক্রয়ের বরাদ্দপত্র আসলে কৃষি বিভাগ ২ হাজার ৪৮৩ জন কৃষকের তালিকা প্রস্তুত করে উপজেলা ধান, চাউল ক্রয় কমিটির কাছে হস্তান্তর করেন। অবশেষে গত ২৩ মে সরকারিভাবে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের উদ্বোধন করা হয়।
উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, এ উপজেলায় মোট চাষী পরিবার রয়েছে ৫৭ হাজার ৯২৫টি। এরমধ্যে ভূমিহীন বাদে বড় চাষী রয়েছে ৭৭, মাঝারি চাষী ৪ হাজার ৯‘শ ৯৬, ক্ষুদ্র চাষী ৩০ হাজার ২৪২ ও প্রন্তিক চাষী রয়েছে ১৯ হাজার ৬‘শ ৮৪ জন। এরমধ্যে মাত্র ২ হাজার ৪৮৩ জন কৃষকের নাম তালিকাভূক্ত হলেও বঞ্চিত হয় ৫৫ হাজার ৯২৫ জন কৃষক। তাছাড়া যাদের নাম তালিকাভূক্ত হয়েছে তাদের ১‘শ কেজী থেকে ৫‘শ কেজী করে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এরফলে কৃষকরা খাদ্যগুদামে ধান বিক্রি করতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। শিকারপুর গ্রামের কৃষক দীলিপ রায় বলেন, তিনি চলতি বোরো মৌসুমে ৫ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করে বিক্রির জন্যে ৯০ মন ধান রাখলেও তার নামে ৩‘শ কেজী ধান বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তাই তিনি ক্ষোভে ধান খাদ্যগুদামে না এনে পানির দরে বাজারে বিক্রি করে দিয়েছেন।
উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা আবুল হাসান বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে প্রথম দফায় এ উপজেলায় ৪৯৯ মেট্রিক টন ধান ও ১৪০০ মেট্রিক টন চাউল সরকারিভাবে ক্রয় করার বরাদ্দপত্র আসে। দেরিতে বরাদ্দপত্র আসাসহ সময়মত কৃষি অফিস কৃষকের তালিকা দিতে ব্যর্থ হয়। সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা হচ্ছে বলেই ১০ জুলাই পর্যন্ত ১৬০ মেট্রিক টন ধান ও ৮০০ মেট্রিক টন চাউল ক্রয় করা হয়েছে। কিন্তু গুদামে বর্তমান জায়গা না থাকায় ধান, চাউল ক্রয় অভিযান আপাতত: বন্ধ রয়েছে। আমনের পুরনো চাল এখনও গুদামে রয়ে গেছে। এগুলো সরাতে না পারলে ক্রয় করা সম্ভব হচ্ছে না।
যশোর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক লিয়াকত আলি বলেন, কেশবপুর খাদ্য গুদামের সর্বোচ্চ ধারণ ক্ষমতা ২০০০ মেট্রিক টন। এরপরও খাদ্য গুদামে গত ১৫ জুন পর্যন্ত ৫৫ হাজার ৩‘শ ২০ মেট্রিক টন ধান ও ২ হাজার ৫‘শ ১২.৫২৭ মেট্রিক টন চাউল মজুদ রয়েছে। গোডাউন খালি করার জন্যে গত ৯ জুন ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে পত্র দিয়ে জানানো হয়েছে। এরপরও নতুন করে ৮৩১ মেট্রিক টন ধান ক্রয়ের বরাদ্দপত্র এসেছে। যার এখনও তালিকাই প্রস্তুত হয়নি।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানূর রহমান বলেন, খাদ্য গুদামে জায়গা না থাকায় ধান চাল ক্রয় বন্ধ রয়েছে। আগামী ৭ দিনের মধ্যে খাদ্য গুদাম খালির ব্যবস্থা করে পুন:রায় আবার কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয় করা হবে।






Related News

Comments are Closed