Main Menu

বনের গাছের ডাল কাটার টেন্ডার দেওয়া হলেও গাছ কেটে সাবাড়

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার প্রেমতলী নির্মুলচরে অবস্থিত বনের গাছের ডালপালা কাটার টেন্ডার দেওয়া হলেও গাছ কেটে নিয়েছেন ঠিকাদার। অভিযোগে ঠিকাদারের প্রতিনিধি জাকিরকে (৪৮) গ্রেফতার করা হয়। পরে মুচলেকায় ছাড়া পান তিনি।

জানা যায়, প্রেমতলী নির্মুলচরে অবস্থিত বনে ঝড়ে পড়ে যাওয়া নম্বরকৃত গাছ ২০১৬-১৭ অর্থ বছর ১০৬ নং গ্রুপে টেন্ডার দেওয়া হয়। ওই টেন্ডারের ভিত্তিতে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার স্বাক্ষর মোতাবেক প্রায় তিন হাজার ঘনফুট কাঠ (জ্বালানি) অপসারণ করতে বলা হয়। ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয় নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার প্রসাদপুর গ্রামের মেসার্স নাজিম স’মিল মালিক নাজিমুদ্দিনকে।

এলাকাবাসী ও সুবিধা ভোগীদের অভিযোগ ২০ মে’র আগে থেকে ঠিকাদারের লোকজন উপজেলা বন কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম, পাহারাদারের উপস্থিতিতে ও স্থানীয় কয়েকজনের যোগসাজশে বনের ভালো ও মোটা গাছ গুলো কাটতে শুরু করে। গত শুক্রবার তারা প্রায় ৩০/৪০ ট্রাক গাছ কেটে নিয়ে চলে যায়। পরে এলাকাবাসী ও সুবিধা ভোগীরা এতে বাধা দেয়।

ফরাদপুর গ্রামের তাজুল ইসলাম, আসির উদ্দিন, আব্দুল ওহাব জানান, বন কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম ও পাহাদাররা দাঁড়িয়ে থেকে গাছ কাটিয়েছে।

শনিবার সরজমিনে দেখা যায়, ২০১৬ সালে টেন্ডার দেওয়ার সময় নম্বরকৃত কোনো গাছ নেই। ওয়ার্ক অর্ডারের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যে গাছ গুলো কেটেছে তার একটিও নম্বরকৃত গাছ নয়।

এ বিষয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা বন কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, টেন্ডারের বাইরে গাছ ও বনের গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। জেলা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন বলেন, গ্রেফতারকৃত জাকির স্বীকার করেছেন টেন্ডারের বাহিরে গাছ কাটা হয়েছে। পরিদর্শনে গিয়ে অতিরিক্ত গাছ কাটর প্রমাণ মিলেছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঘটনা স্থল পরিদর্শনে আসা নওগাঁ সহকারী বন সংরক্ষক মেহেদী জামান বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা পাওয়া গেছে। রাজশাহী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এস এম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, রবিবার নির্মলচরের বন পরিদর্শন করেছি। তদন্তের মাধ্যমে এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






Related News

Comments are Closed