Main Menu

ঝিনাইদহ জেলা জুড়েই রসালো আমের বাজার বিষাক্ত!


জাহিদুর রহমান তারিক,ঝিনাইদহঃ ঝিনাইদহ জেলা জুড়েই আমের বাজার এখন বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। শহর গুলোরে আমের বাজার কার্যত বিষের বাজারে পরিণত হয়েছে। পবিত্র রমজান মাসে অতিরিক্ত মুনাফার জন্য শক্তিশালী বিষাক্ত সিন্ডিকেট ভীষণ সক্রিয়। রোজার ইফতারে ফলের মেন্যুতে আম নামের বিষের পেয়ালা তুলে দিতে সব আয়োজন সম্পন্ন করেছে। জনস্বাস্থ্য উপেক্ষা করে সিন্ডিকেট সাধারণ মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রোজার বাজারে বিষমুক্ত আম পাওয়াটা এবার কঠিন হয়ে পড়বে। মাত্র ১০০ গ্রাম ক্যালসিয়াম কার্বাইড প্রায় ১০০ কেজি আম পাকাতে পারে। এই রাসায়নিক ক্যানসার, পেটের পিড়া, গ্যাস, কিডনি ও লিভার সমস্যায় মানুষের মৃত্যু ঘটাতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমের বোঁটা শুষ্ক থাকলেই নিশ্চিত যে, এতে রাসায়নিক মেশানো হয়েছে। মারাত্মক ক্ষতিকর ক্যালসিয়াম কার্বাইডের পাশাপাশি ইথাফোন গ্রীষ্মকালীন ফলে ব্যবহার করা হয়ে থাকে ফল রাতারাতি পাকানো ও আকর্ষণীয় রঙের জন্য এবং ফরমালিন ব্যবহার করা হয় ফল সংরক্ষণের জন্য। কালীগঞ্জ এলাকায় আম নগদ অর্থ আয়কারী প্রদান মৌসুমি ফল এবং এই সুস্বাদু ফলের জন্য আমের প্রাধান্য রয়েছে। ব্যবসায়ীরা তিনটি পর্যায়ে রাসায়নিক মেশাচ্ছে। আমের ভালো রং তৈরি, পাকানো ও আম না পচার জন্য এখানে রাতদিন আমে স্প্রে করে মেশানো হচ্ছে বিষাক্ত দ্রব্য। কালীগঞ্জ শহরে যেসব আম বিক্রি হচ্ছে তা দেখতে হলুদ ও খুব সুন্দর লাগছে। দেখলে মনে হবে আম কিনি কিন্তু এসব আমে বিষাক্ত দ্রব্য মিশিয়ে পাকানো হয়েছে। আম গুলো এখন পরিপক্কতা আসেনি তার পর বাড়তি লাভের জন্য ক্রেতাদের ঠকিয়ে প্রতারনা করে আমের ব্যবসা করা হচ্ছে। বাজারে যেসব আম বিক্রি হচ্ছে তা সবই দেশিয় আম। ব্যবসায়িরা বলছে গ্রাম এলাকা থেকে তারা নাকি কিনে আনছে এসব আম, আম গুলো কেটে খাবার সময় দেখা যাচ্ছে ভিতরে কোন পরিপক্ততা নেই, অনেক কস পড়ছে, মুখ চুলকাচ্ছে। বিশেষ করে শহরের চুয়াডাঙ্গা বাসষ্ট্যান্ড, হামদহ, আরাপপুর,পায়রা চত্তর, মডার্ন মোড়, বাস টামর্নিাল, চাকলাপাড়া, হাটের রাস্তা, ‘ট’ বাজারের মধ্যে এসব এলাকার দোকানগুলোতে ও ফল ব্যবসায়িদের দোকানে সাজিয়ে রাখা হয়েছে মন মন এসব বিষাক্ত রসালো আম। যা দেখেই মনে হচ্ছে এসব আম বিষাক্ত কিছু দিয়ে পাকিয়েছে। নাম না প্রকাশ করার শর্তে একজন ব্যবসায়ি জানায়, রোজার মাসে বেশি লাভ করার জন্য তারা আম কিনে বেশি দামে বিক্রি করছে। এসব আমে বিষাক্ত দ্রব্য দিয়ে পাকানো বলে জানান। কিন্তু কোথা থেকে কিনে আনছেন তা বলতে নারাজ হলেন। তিনি বলেন, ঘরের মেঝেতে আম সুন্দর করে বিছিয়ে রাইস মিথানল, কারবাইট সালফেট, ফরমালিন একত্রে মিশ্রিত করে আমের ওপর স্প্রে করা হয়। ফ্যানের বাতাসে কিছুক্ষণ শুকানোর পর প্লাস্টিক কার্টন অথবা ক্যারেটে পুরাতন খবরের কাগজ মুড়িয়ে প্যাকিং করা হয়। এর পর খুচবা ব্যবসায়িদের কাছে বিক্রি করা হয়। বর্তমানে ছোট ছোট দেশিয় আটির আম বিক্রি করছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, একটু বড় আম বোম্বাই বলে বিক্রি করছে ১২০ টাকা প্রতি কেজি দরে।একটি চক্র তাড়াতাড়ি ও বেশি লাভের আশায় ব্যবসায়ীরা সরাসরি এখন আমে ব্যবহার করছে বিমাক্ত দ্রব্য। এই আম খেলে ডায়রিয়া হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া মাত্রাতিরিক্ত ইথোফেন মানবদেহে প্রবেশ করলে ক্যানসার ও কিডনি নষ্টসহ মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে।’ তিনি বলেন, প্রত্যেকটি ফলই প্রাকৃতিক ভাবে পাকবে এটিই স্বাভাবিক, কিন্তু আমাদের কিছু ব্যবসায়ী সেটি মানতে নারাজ। তারা বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করে অপরিপক্ব ফল জোর করে পাকিয়ে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য সমূহ বিপদ ডেকে আনছে। ঝিনাইদহ শহরে বিশাক্ত দ্রব্য দিয়ে পাকানো আমে ছেয়ে গেছে, বিক্রি হচ্ছে অনেক। ক্রেতারা নতুন ফল ও পাকা আম মনে করে সখের বশিভুত ভাবে কিনে নিয়ে যাচ্ছে বাসা বাড়িতে। এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে।






Related News

Comments are Closed