Main Menu

টুঙ্গিপাড়ায় অনুদান এনে দেয়ার নামে প্রতারনা


টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে অনুদান এনে দেয়ার কথা বলে প্রতারনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার বাশুরিয়া গ্রামের ১১০ জনের কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে অনুদানের এনে দেয়ার কথা বলে ১২শ থেকে ১৫ শ টাকা করে প্রায় ২ লক্ষ্যাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একই গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা বেলায়েত শেখের পুত্রবধু নাজনীন আক্তার ঝুমুর (২৪)। এছাড়া তার বিরুদ্ধে দরিদ্রদের ঘর দেয়ার কথা বলে ৫-১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। নাজনীন আক্তার ঝুমুর উপজেলার গিমাডাঙ্গা গ্রামের সাফায়েত শেখের মেয়ে ও বাশুরিয়া গ্রামের আত্তাব শেখের স্ত্রী।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, ৫-৬ মাস আগে ঝুমুর হটাৎ করে গ্রামের কয়েকজনের বাড়ী গিয়ে বলে প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে আমি টাকা এনে দেব তার জন্য আমাকে কিছু টাকা দিতে হবে। তার কয়েকদিন পরে ঝুমুর ২-৩ জনকে ১০,০০০ করে টাকা দিয়েছে। তাই টাকা পাওয়ার জন্য গ্রামের ১১০ জন তাদের ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি, ২ কপি ছবি ও টাকা দিয়েছে ঝুমুরকে। কিন্তু টাকা দেয়ার কিছুদিন পরেই ঝুমুর তার শ্বশুরবাড়ী থেকে চলে যায় আর মাঝে মাঝে আসে। অনেক দিন হয়ে গেলেও অনুদান না পাওয়ায় কয়েকজন টাকা ফেরত চাইলেই শুরু হয় টালবাহানা ও হুমকি ধামকি।

আরো জানা যায়, ঝুমুর টাকা নেয়ার সময় স্থানীয়রা তার শ্বশুর মুক্তিযোদ্ধা বেলায়েত শেখকে এবিষয়ে জানালে তিনি বলেন যদি ১৫০০ টাকা দিলে ১০ হাজার টাকা পাও তাহলে ক্ষতি কি। তাকে টাকা দাও সে যদি ফেরত না দেয় তাহলে আমি ফেরত দেব।

বাশুরিয়া গ্রামের ভুক্তভোগী খাদিজা বেগম বলেন, তিনি তার নাম সহ তার দেবর দবির শেখের নামে অনুদান পাওয়ার জন্য তিনি ২৪০০ টাকা দিয়েছেন তার মামা শ্বশুরের পুত্রবধু ঝুমুরকে।

একই গ্রামের অজিত মন্ডল, কবির শেখ, বদির শেখ, হেদায়েত শেখ, রতন মন্ডল, বাবু মন্ডল, রঞ্জিত মন্ডল, সন্ময় মন্ডল, দিপঙ্কর মন্ডল, জনার্দন মন্ডল, প্রতাপ মন্ডল, অমূল্য মন্ডল, মহেশ্বরী মন্ডল, মাধুরি মন্ডল জানান তাদের কাছ থেকে ঝুমুর ১৫ শ করে টাকা নিয়েছেন।

এবিষয়ে ঝুমুরের আপন চাচা শ্বশুর আওলাদ শেখ বলেন, ঝুমুর প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে টাকা এনে দওয়ার কথা বলে যাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে তাদের ১১০ জনের তালিকা আমাকে দেখিয়েছে। এছাড়া ১০-১৫ জনের কাছ থেকে ঘর দেয়ার কথা বলে ৫-১০ হাজার টাকা নিয়েছে বলে শুনেছি।

ঝুমুরের শ্বশুর বেলায়েত হোসেনের সাথে এবিষয়ে কথা হলে তিনি বলেন, আমি ভাল করে চোখে দেখতে পাইনা। আর মোবাইল সম্পর্কে কিছুই জানি না। তবে সে মাঝে মাঝে প্রধানমন্ত্রীর সাথে ফোনে কথা বলে আর মা মা বলে ডাকে। শুনেছি তাকে নাকি প্রধানমন্ত্রী মেয়ে বলে ডেকেছে। ঝুমুর আমাকে বলেছে টুঙ্গিপাড়ার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী গোলাম মোস্তফা তাকে গনভবনে নিয়ে গেছিল। আর টাকা ফেরত দেয়ার কথা আমি না বুঝে বলেছিলাম।

সোমবার বিকালে অভিযুক্ত ঝুমুরের বক্তব্য নেয়ার জন্য তার শ্বশুর বাড়ীতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তখন প্রতিবেশীদের কাছ থেকে নেয়া ঝুমুরের তিনটা নম্বরের মধ্যে দুইটি নম্বর খোলা পাওয়া যায়। কিন্তু তাকে একাধিকবার ফোন দিলেও কোন সারা পাওয়া যায়নি। এরপর রাতে আবার কল দিলে ঝুমুরের স্বামীর বড় ভাই আলতাব শেখ কলটি রিসিভ করেন। তখন সাংবাদিক পরিচয় দিলে তিনি বলেন আমরা গ্রামবাসীদের সাথে দুই একদিনের ভিতরে এবিষয়টি মিমাংসা করে দেব। ঝুমুরের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন সে তার বাবার বাড়ী। আর সেই সাথে সংবাদটি প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করেন।






Related News

Comments are Closed