Main Menu

মাদ্রাসা ও স্কুলের দুই ছাত্রীকে ধর্ষন গ্রেফতার দুই


স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহঃ ঝিনাইদহ কালীগঞ্জে দশম শ্রেনীর এক ছাত্রী ধর্ষনের শিকার হয়েছে। শনিবার সকালে হাত পা বাধা অবস্থায় স্থানীয়রা একটি ধান ক্ষেতের মধ্যে থেকে ওই ধর্ষিতা স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করে। ধর্ষক খালকুলা গ্রামের আবদুর রউফের পুত্র আলামীন পলাতক রয়েছে। রোববার দিবাগত মধ্যরাতে উপজেলার কোলা পেতনিপাড়া গ্রামের মাঠে এ ধর্ষনের ঘটনাটি ঘটে। ধর্ষিতা স্কুলছাত্রী মাগুরার শালিখা উপজেলার কোটবাগ দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেনীর ছাত্রী। এ ঘটনার পর ধর্ষিতার বাবা ও মা শনিবার দুপুরে মেয়েকে নিয়ে কালীগঞ্জ থানাতে এসে একটি অভিযোগ দায়ের করেছে। এদিকে, আরো এক স্কুল ছাত্রী ধর্ষনের অভিযোগে থানা পুলিশ শনিবার সকালে ২ ধর্ষককে আটক করেছে। আটককৃতরা হলো শহরের বলিদাপাড়া গ্রামের বদর উদ্দিনের পুত্র খায়রুল ও রবিউল ইসলামের পুত্র মোর্তজা বাপ্পী । ধর্ষিতা শহরের আড়পাড়া আয়েশা খাতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেনীর ছাত্রী। গত মাসের ২৫ তারিখে ধর্ষন ঘটনার ১৫ দিন পর শনিবার সকালে ধর্ষিতার পিতা কালীগঞ্জ থানাতে ৩ জন ধর্ষকের নামে একটি অভিযোগ দায়ের করায় পুলিশ ওই দুইজনকে আটক করে। ধর্ষিতা স্কুল ছাত্রীর পরিবার ও থানা পুলিশ জানায়, কালীগঞ্জ উপজেলার কোলা পেতনিপাড়া গ্রামের স্কুল ছাত্রী শুক্রবার রাতে পাশের বাড়িতে মোবাইলে চার্জার আনতে যায়। শনিবার সকালে গ্রামের মাঠ থেকে তার হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। সে কোটভাগ দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণীর ছাত্রী। ধর্ষক আল আমিন ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের কোলা ইউনিয়নের বৃত্তি পাড়া গ্রামের আবদুর রউফ এর ছেলে। ধর্ষিতার বাবা জানায় শুক্রবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে বাড়ির পাশে মোবাইল ফোনের চার্জার আনতে যায় তার মেয়ে। সে সময় চার্জার নিয়ে বাড়ি ফিরার পথে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে ওঁৎ পেতে থাকা আল-আমিন ও তার সহযোগীরা তার মেয়েকে জোর করে তুলে নিয়ে রাত ভর ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর তাকে হাত পা ও মুখ বেঁধে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় আল আমিন ও তার সহযোগীরা। শুক্রবার রাতে পরিবারের লোকজন অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে পাওয়া যায় না। পরদিন সকালে গ্রামের কৃষক মাঠে কাজ করতে গিয়ে দেখতে পাই মেয়েটির হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় পড়ে আছে। খবর পেয়ে পরিবার ও গ্রামবাসীর সহযোগীতায় তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ব্যাপরে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি ইউনুস আলী জানান খবর পেয়ে দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে ধর্ষিতার ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান। রাতের অন্ধকারে লম্পট ধর্ষক খালকুলা গ্রামের আলামীন স্কুলছাত্রীর মুখ চেপে ধরে পাশের্^র একটি ফাকা মাঠের মধ্যে নিয়ে যায়। এরপর রাতভর তাকে ধর্ষন শেষে হাত পা বেধে ফেলে রেখে যায়। সকালে তার পরিবার ও স্থানীয়রা ফাকা মাঠের মধ্যে থেকে তাকে উদ্ধার করে। দুপুরে ধর্ষিতার স্কুলছাত্রীকে নিয়ে তার পিতা কালীগঞ্জ থানায় এসে অভিযোগ দায়ের করেছে। এদিকে প্রেমের সম্পর্কের সুত্র ধরে শহরের আয়েশা খাতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৭ম শ্রেনীর এক ছাত্রীকে ৩ যুবক কর্তৃক ধর্ষনের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার সকালে ধর্ষিতা স্কুল ছাত্রীর বাবার দেওয়া কালীগঞ্জ থানায় এক লিখিত অভিযোগে জানায়, বলিদাপাড় গ্রামের যুবক খায়রুল গত ৩ মাস ধরে স্কুলে যাওয়া আসার পথে প্রায়ই তার মেয়েকে কু-প্রস্তাব দিত। এক পর্ষায়ে তার মেয়েকে ফুসলিয়ে খায়রুল প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে। এঘটনা জানাজানি হলে মেয়ের পরিবার খায়রুলকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে। কিন্তু খায়রুল বিয়ে করতে অস্বিকার করে। এক পর্ষায়ে খায়রুল তার বন্ধুদের সহযোগিতায় গত মাসের ২৫ তারিখে স্কুলছাত্রীকে রাব্বীর বাসাতে ডেকে নিয়ে জোর পূর্বক ধর্ষন করে। এ ঘটনার পর মেয়েটি বাড়ীতে এসে তার পরিবারের নিকট ধর্ষনের ঘটনাটি খুলে বলে। মেয়েটির পরিবারের পক্ষ থেকে প্রথমে সামাজিক ভাবে ঘটনাটি নিরসন করতে ব্যার্থ হওয়ায় অবশেষে ১৫ দিন পর ৩ যুবকের নামে থানাতে একটি মামলা করে। থানা পুলিশ ওইদিনই অভিযুক্ত ৩ জনের মধ্যে দু’জনকে আটক করলেও অপরজন পলাতক রয়েছে। পৃথক পৃথক সংঘঠিত এ দুটি ধর্ষনের বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার্স ইনচাজ ইউনুচ আলী বলেন, থানাতে পৃথক দুটি অভিযোগ পেয়েছেন। পুলিশ ইতোমধ্যে দুই ধর্ষককে আটক করেছে। বাকী আসামীদের আটকের চেষ্টা চলছে।






Related News

Comments are Closed