Main Menu

ঝিনাইদহে ব্যাঙের ছাতার মতো অটিস্টিক স্কুল প্রতিষ্ঠার হিড়িক শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বানিজ্য তুঙ্গে রাজাকারের নামেও স্কুল !

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহঃ ঝিনাইদহে প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয় গড়ে তুলতে কোন নিয়মনীতির মানা হচ্ছে না। ফলে জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে যত্রত্তত্র গড়ে উঠছে এই স্কুল। কাড়ি কাড়ি টাকা দিয়ে বেকরা যুবক যুবতীরা চাকরী নিচ্ছে এ সব স্কুলে। এদিকে ব্যাক ডেটে স্কুল প্রতিষ্ঠার এই প্রতিযোগতার মধ্যে ঝিনাইদহ সমাজসেবা ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কর্তৃক তালিকাভুক্ত একজন রাজাকারের নামেও স্কুল তৈরী করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই স্কুলটি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের একটি ইউনিয়নে অবস্থিত। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অটিস্টিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নেই কোন প্রশিক্ষণ বা গারিগরী জ্ঞান। ফলে অটিজম কিংবা প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। মুলত বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কৌশল হিসাবে এ সব প্রতিবন্ধি স্কুল ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। তবুও মানহীন স্কুলগুলো বন্ধে নেই কোন পদক্ষেপ। তথ্য নিয়ে জানা গেছে, প্রতিটি উপজেলায় একটি করে প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কথা থাকলেও ঝিনাইদহে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গড়ে উঠেছে ২১ প্রতিবন্ধি স্কুল। এর ৯৫ ভাগ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নেই কোন বিএসএড (শিশুর জন্য বিশেষ শিক্ষাদান প্রশিক্ষণ) প্রশিক্ষণ। ফলে প্রচলিত পদ্ধতিতেই এসব শিশুদের পাঠদান করা হচ্ছে। স্থানীয় কিছু ব্যক্তিদের মাধ্যমে কমিটি গঠন করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে দেওয়া হচ্ছে শিক্ষক নিয়োগ। কোন কোন প্রতিষ্ঠান আবার পরিত্যাক্ত বিদ্যালয়ের ভবন ভাড়া নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে। কিছু এনজিও এগুলোর পিছনে কাজ করছে। সরেজমিন পরিদর্শন করে জানা দেখা গেছ, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার যাত্রাপুর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যাক্ত স্কুলে ২০১৫ সাল থেকে চলছে জহুরা বেগম অটিস্টিক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের কার্যক্রম। এই অটিস্টিক বিদ্যালয়ের নেই অধিকাংশ ক্লাস রুমে জানালা-দরজা। হাজী আমজাদ আলী অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের ১৬ জন শিক্ষকের মাত্র ৫ জনের রয়েছে মাত্র এক মাসের নিউরো ঢেভেলপমেন্টালী ডিজএ্যাবিলিটি প্রশিক্ষণ। এই প্রশিক্ষণ দিয়েছে রান ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি নামের একটি এনজিও। অন্যদের কোন প্রশিক্ষণই নেই। বিদ্যালে শিক্ষকরা বলেন, আমাদের কোন প্রশিক্ষণ নেই, তবে প্রশিক্ষণ নেওয়ার চেষ্টা করছি। সদর উপজেলার হলিধানী মো: আ: রশিদ মিয়া বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য মনোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের নিজস্ব কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়। কোন টাকা নেওয়া হয়না, ঝিনাইদহ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বাবু কনক কান্তি দাস বলেন, সায়মা ওয়াজে পুতুল অটিস্টিক শিশুদের নিয়ে কাজ করে বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত। কাজেই সেই স্বুনাম ধরে রাখতে এবং শিক্ষার সঠিক মান নিশ্চিতে রাতারাতি গড়ে ওঠা এসব ভুইফোড় অটিস্টিক বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। ঝিনাইদহ সমাজ সেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক জাহিদুল আলম বলেন, ঝিনাইদহের ৬ উপজেলায় ২৬ হাজার ৯ শ’ ৮ জন প্রতিবন্ধ শিশু রয়েছে। যার মধ্যে অটিস্টিক শিশু রয়েছে ৩৩৫ জন। তিনি বলেন, যত্রতত্র প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়গুলো সমাজ কল্যাণ মন্ত্রনালয় থেকে অনুমোদন নিয়ে কার্যক্রম চালায়। মন্ত্রনালয়ের চাহিদার প্রেক্ষিতে আমরা এর সঠিক প্রতিবেদন দিই। কিন্তু এগুলো বন্ধ বা ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব আমাদের না। ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ জানান, বিধিমালা অনুযামী প্রতিটি উপজেলায় একটি করে অটিস্টিক বিদ্যালয় থাকার কথা। কিন্তু কিছু মানুষ ব্যক্তিগত স্বার্থে টাকার বিনিময়ে এগুলো করছে। প্রতিবন্ধী বা অটিস্টিক শিশুদের শিক্ষার মান নিশ্চিতে করতে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






Related News

Comments are Closed