Main Menu

৯৮ শতাংশ সিএনজি রাজধানীতে চলে চুক্তিত , যাত্রীর চাহিদার গন্তব্যে যান না ৮৮ শতাংশ চালক

চার দফা ভাড়া বৃদ্ধির পরও শৃঙ্খলায় ফেরেনি রাজধানীতে চলাচলরত সিএনজি অটোরিকশা। বর্তমানে মিটারবিহীন সিএনজি অটোরিকশা চলছে ৬২ শতাংশ। আর রাজধানীতে পরিচালিত অটোরিকশার মধ্যে চুক্তিতে চলছে ৯৮ শতাংশ,  চালকদের মধ্যে বকশিস দাবি করেন ৯২ শতাংশ আর যাত্রীর চাহিদার গন্তব্যে যান না ৮৮ শতাংশ চালক।

সোমবার (১১ মার্চ) সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।  ‘প্রতিস্থাপনের পর কেমন চলছে অটোরিকশা’ এই শিরোনামে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির গণপরিবহনে ভাড়া নৈরাজ্য পর্যবেক্ষণ করে। পর্যবেক্ষণ উপ-কমিটির সদস্যরা গত ১ থেকে ১০ মার্চ সপ্তাহ ব্যাপী রাজধানীর ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ২৫৬টি অটোরিকশায় যাত্রী সেবার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে। এই সময়ে ৩১০ জন অটোরিকশার যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে এ প্রতিবেদন তৈরি করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়,  দেশীয় প্রাকৃতিক গ্যাসে নামমাত্র খরচে পরিচালিত সিএনজি চালিত অটোরিক্সার মালিক, চালক, সরকার মিলে যাত্রী স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে চার দফা ইকোনমিক লাইফ ও  যাত্রী ভাড়া বৃদ্ধি করেছে। পরে একই মালিকের হাতে নতুন অটোরিকশা তুলে দেওয়া হয়েছে। সমিতির প্রতিবেদনে অভিযোগ করে বলা হয়, সর্বশেষ ভাড়া নির্ধারণে এক লাফে যাত্রী ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানো হলেও সেক্টরে শৃঙ্খলা ফেরানো যায়নি।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, মিটারে চলাচলকারী অটোরিক্সার ৯২ শতাংশ ২০ টাকা থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত মিটারের অতিরিক্ত ভাড়া বা বকশিস দাবি করে। তবে বৃষ্টি বা সরকারি ছুটির আগের দিন অথবা গণপরিবহন সংকটকালে এই বকশিসের পরিমাণ ১০০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়। যাত্রীদের চাহিদার গন্তব্যে যেতে রাজি হয় না ৮৮ শতাংশ অটোরিকশা।

পর্যবেক্ষণের সময় যাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন, ‘রাত ৯টার পর ও সকাল ৮টার আগে কোনও অটোরিকশা মিটারে চলছে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়া বা অটোরিকশা চালকের পছন্দের গন্তব্যের সঙ্গে মিললেই কেবল যাত্রীর পছন্দের গন্তব্যে যেতে রাজি হয়। চুক্তিতে চলাচলকারী অটোরিকশায় মিটারের ভাড়া থেকে সর্বনিন্ম ৫০ শতাংশ সর্বোচ্চ ৭১০ দশমিক ৮১ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। যা অ্যাপস ভিত্তিক চলাচলকারী ১৩০০ থেকে ১৫০০ সি.সি. প্রাইভেট কারের ভাড়ার চেয়েও বেশি।

পর্যবেক্ষণকালীন সময়ে দেখা গেছে, গত ১৫ বছরে ঢাকা মহানগরীর যাত্রী সংখ্যা এবং যাত্রীসাধারণের ক্রয় ক্ষমতা প্রায় তিন গুণ বাড়লেও একটি অটোরিকশাও বাড়েনি। যাত্রীদের চাহিদার তুলনায় এই বাহনের সংখ্যা কম থাকায় চালকদের ইচ্ছার কাছে যাত্রীরা বছরের পর বছর ধরে জিম্মি হয়ে আছে। অটোরিকশা সংকটের কারণে কোনও কোনও ক্ষেত্রে বেশি ভাড়া দিয়েও গোপনে চুক্তিতে যাতায়াতে করছে যাত্রীসাধারণ। অধিকাংশ যাত্রী চুক্তিতে যাতায়াত করলেও চালকের শিখিয়ে দেয়া বাক্য মিটারে চলছে বলে মিথ্যা বলতে দেখা গেছে। যা পরবর্তীতে যাছাই-বাছাই কালে প্রমাণিত হয়। এছাড়াও সিটি কর্পোরেশনের টোলের নামে নেওয়া চাঁদা, ফ্লাইওভারের টোল ও যানজটের জরিমানা ওয়েটিং বিলের নামে পুরোটাই যাত্রীর কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে বলে যাত্রীসাধারণ সংগঠনের পর্যবেক্ষকদের কাছে অভিযোগ করেছেন।






Related News

Comments are Closed