সাত বছরে ৬২ বার সময়ের আবেদন সাংবাদিক দম্পতির হত্যা মামলা রায়।

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার আজ সাত বছর পার হলো। কিন্তু, দুঃখজনক হলেও সত্য, এখন পর্যন্ত  এই জোড়া খুনের রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি মামলাটির দায়িত্বপ্রাপ্ত  তদন্ত কর্মকর্তারা। সাত বছরে ৬২ বার সময়ের আবেদন সাংবাদিক দম্পতির হত্যা মামলা রায়।  দফায় দফায় আদালত থেকে সময় বেঁধে দেওয়া হলেও দাখিল হয়নি এই জোড়া খুন মামলার  তদন্ত প্রতিবেদন। ফলে এ সাংবাদিক দম্পতিকে হত্যার বিচার আদৌ সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে তাদের পরিবারের মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে। সাগর সারোয়ারের মা মামলাটির বিচার পাওয়ার আর আশাই দেখছেন না। হতাশ হয়ে তিনি বলেছেন, সরকার একটু সহানুভূতি দেখালে মামলাটির রহস্য হয়তো বেরিয়ে আসতো।

গত সাত বছরে ৬২ বার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তারিখ নির্ধারণ করলেও বার বার সময় চেয়েছে মামলাটির তদন্তকারী সংস্থাগুলো। শুরুতে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হাতে থাকলেও বর্তমানে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। সর্বশেষ এ বছরের ৯ জানুয়ারি মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। এদিনও মামলার তদন্ত সংস্থা প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায়  ঢাকা মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাস আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় বেঁধে দেন।

দীর্ঘ সাত বছরেও মামলাটির বিচারকাজ দূরে থাক তদন্ত প্রতিবেদনও জমা না দেওয়ায় ভীষণ ক্ষুব্ধ নিহত সাগর সারোয়ারের মা সালেহা মনির। তিনি বলেন, ‘আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এখনও এই জোড়া খুনের ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনই করতে পারলো না। তারা এত কিছু পারে কিন্তু আমার ছেলে ও ছেলে বউয়ের খুনি কে সেটাই খুঁজে বের করতে পারে না। ছেলেকে হত্যার বিচার আর পাবো বলে আশা করি না। এ বিষয়ে কিছু জানতে চাওয়ার অর্থ হল, শুধু শুধু মনের আগুন আবার জ্বালানো।

তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, সরকার একটু সহানুভূতি দেখালে আসল রহস্য বেরিয়ে আসতো।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারে মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি তাদের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন। পরে রুনির ভাই নওশের আলম রোমান রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি দায়েরের পর প্রথমে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেন শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক মো. জহুরুল ইসলাম। এরপর ২০১২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ডিবি উত্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. রবিউল আলম নতুন করে তদন্তভার নেন। এরপর উচ্চ আদালতের নির্দেশে ১৮ এপ্রিল তদন্তভার র‌্যাবকে দেওয়া হয়। ১৯ এপ্রিল র‌্যাব সদর দফতরের সিনিয়র পুলিশ সুপার মো. জাফর উল্লাহ মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করেন। এরপর আবার ২০১৪ সালের ১২ মার্চ  মামলার তদন্তভার পান র‌্যাব সদর দফতরের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. ওয়ারেছ আলী মিয়া। এভাবে কয়েকজন র‌্যাব কর্মকর্তা মামলাটির তদন্তভার নিলেও কেউ তদন্তের কাজ শেষ করতে পারেননি। বর্তমানে মামলাটির তদন্তের ভার রয়েছে র‌্যাবের এএসপি মো. শহিদার রহমানের হাতে।

তদন্ত শেষে কবে নাগাদ অভিযোগপত্র দেওয়া যাবে, সে বিষয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারছেন না বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাবের এএসপি মো. শহিদার রহমান।

তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাবের এএসপি মো. শহিদার রহমান বলেন, তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ডিএনএ রিপোর্ট অনুসারে দুই অজ্ঞাত পুরুষ আসামির সন্ধান করা হচ্ছে। শিগগির এ মামলায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে বলে আশা করছে এ তদন্ত কর্মকর্তা।

বর্তমানে এ মামলায় গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু ওরফে মামুন, মো. কামরুল হাসান অরুণ, বকুল মিয়া, রফিকুল ইসলাম, আবু সাঈদ, এনাম আহাম্মদ ওরফে হুমায়ুন কবির, পলাশ রুদ্র্র পাল ও তানভীর রহমান। এ আসামিদের মধ্যে পলাশ রুদ্র্র পাল ও তানভীর রহমান জামিনে আছেন। বাকি আসামিরা কারাগারে আছেন।






Related News

Comments are Closed