Main Menu

২২ জানুয়ারি থেকে মধুমেলা শুরু

শামীম আখতার, ব্যুরো প্রধান খুলনা: অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক আধুনিক বাংলা কাব্যের রূপকার কেশবপুর সাগরদাঁড়ি কপোতাক্ষ নদ পাড়ে মহাকবি মাইকেল মধুসুদন দত্তের ১৯৫ তম জন্মজয়ন্তী-২০১৯ উদযাপন উপলক্ষ্যে আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে ৭ দিনব্যাপি মধুমেলা। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্বাবধানে মধুমেলা উপলক্ষে কবির জন্মস্থান সাগরদাড়ি বর্ণিল সাজে সজ্জিত করার কাজ সম্পন্নে নানা আয়োজন চলছে।
সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা আমাদের এই বাংলাদেশ। হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিল্প, সাহিত্য সাংস্কৃতিকে বুকে ধারণ করে মাথা উচু করে দাড়িয়ে আছে আমাদের প্রিয় জন্মভূমি, চিরসবুজের দেশ বাংলাদেশ। এই সোনার দেশের ঐতিহ্যবাহি যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার কপোতাক্ষ নদের পাড়ে অবস্থিত সাঁগরদাড়ি গ্রামে ১৮২৪ খ্রি. ২৫ জানুয়ারি প্রভাবশালী জমিদার পিতা রাজনারায়ন দত্ত ও ¯েœহময়ী মাতা জাহ্নবী দেবীর কোল আলোকিত করে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বাংলা সাহিত্যের মহাপুরুষ, প্রাণের কবি, অমর কবি, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক, আধুনিক বাংলা কাব্যের রুপকার মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
শৈশববে ১৮৩০ খ্রি. মাতা জাহ্নবী দেবী ও শিক্ষক হরলাল রায়ের কাছে শৈশবশিক্ষা এবং পার্শ্ববর্তী শেখপুরা গ্রামে মুফতি লুৎফুল হকের কাছে ফরাসি শিক্ষা লাভ করেন। এ পর ১৮৩৩ খ্রি. নিজ গ্রাম ছেড়ে কলকাতার খিদিরপুরের লালবাজার গ্রামার স্কুলে ভর্তি হয়ে ইংরেজী, ল্যাটিন ও হীব্রু ভাষা শিক্ষা গ্রহণ করেন। ১৮৪১ খ্রি. তিনি জুনিয়র বৃত্তি লাভ করেন। ১৮৪২ খ্রি. ইংরেজীতে প্রবন্ধ প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণ করে ‘স্ত্রীশিক্ষা’ বিষয়ে প্রবন্ধ লিখে কলেজ থেকে স্বর্ণপদক লাভ এবং দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশের জন্য লেখা প্রেরণ করেন। ১৮৪৩ খ্রি. পিতৃগৃহ ত্যাগ ও ৯ ফেব্রুয়ারী হিন্দুধর্ম ত্যাগ করে চার্চ অব ইংল্যান্ডের অন্তর্ভুক্ত ওল্ড মিশন চার্চে আর্চ ডীকন ডিয়ালট্রির কাছে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ। ১৮৪৪ খ্রি. নভেম্বর মাসে হিন্দু কলেজে পড়তে না পারায় বিশপস কলেজে ভর্তি হয়ে গ্রীক ও সংস্কৃত ভাষায় জ্ঞানার্জন করেন। ১৮৪৭ খ্রি. বিশপস কলেজ ত্যাগ করে চাকুরির খোঁজে মাদ্রাজে গমন, ১৮৪৮ খ্রি. ১৮ জানুয়ারী মধুসূদন মাদ্রাজ পৌছান এবং পথে বসন্ত রোগে আক্রান্ত হন। এর পর তিনি অনাথ আবাসিক হাইস্কুলে ইংরেজী বিভাগে শিক্ষকতা শুরু করেন এবং ছদ্ধনামে মাদ্রাজের প্রভাবশালী পত্র-পত্রিকায় ‘টিমোথি পেন পোয়েম’ কবিতা প্রকাশিত হয়। ‘মাদ্রাজ সার্কুলেটর’ ‘জেনারেল ক্রনিকাল’ ‘এথেনিয়াম’ এবং স্পেকটেটর পত্রিকায় সাংবাদিকতা ও সম্পাদকীয় বিভাগে কাজও করেন তিনি। মাদ্রাসের “এডভোকেট জেনারেল” এবং মাদ্রাস বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি জর্জ নরটন এর ধর্ম কন্যা পিতৃ মাতৃহীন স্কচ বংশোৎপন্ন পিতৃমাতৃহীন রেবেকা ম্যাকটাভিজ এর সাথে বিবাহ হয়। তার পিতা একজন নীলকর। পিতামহ ডুগাল্ডম্যাকটাভিজ কডাপা জেলার নীল ব্যবসায়ী আরবুথনট কোম্পানীর এজেন্ট ছিলেন। ১৮৪৯ খ্রি. এপ্রিলে প্রথম কাব্যগ্রন্থ ইংরেজিতে লিখিত ‘দ্য ক্যাপটিভ লেডি’ ও ‘রিজিয়া’ কাব্যনাট্য রচনা ও ধারাবাহিকভাবে পত্রিকায় প্রকাশিত হতে থাকে। প্রথম সন্তান কন্যা বার্থার জন্ম। ইউরেশীয়ান পত্রিকার সম্পাদক হিসাবে যোগদান এবং ১৮৫০ খ্রি. ‘মাদ্রাজ হিন্দু ক্রনিকাল’ পত্রিকা সম্পাদকের দ্বায়ীত্ব গ্রহণ। ১৮৫১ খ্রি. মাতার মৃত্যু সংবাদ শুনে কলকাতায় আগমন এবং পিতার সাথে সাক্ষাৎ, দ্বিতীয় কন্যা ফীবির জন্ম, অনাথ আবাসিক স্কুলে প্রধান শিক্ষকের পদ লাভ। ১৮৫২ খ্রি. ‘মাদ্রাজ হিন্দু ক্রনিকাল’ পত্রিকায় ইংরেজ শাসনের তুলনা করে মুসলিম জাতীর স্বপক্ষে ‘গঁংধষসধহং রহ ওহফরধ’ শীর্ষক উপসম্পাদকীয় প্রকাশ। মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের হাইস্কুল বিভাগে শিক্ষক পদ লাভ, তৃতীয় পুত্র জন ম্যাকটাভিসের জন্ম। ১৮৫৩ খ্রি. সহকর্মী জর্জ হোয়াইটের কন্যা হেনরিয়েটার সাথে ঘনিষ্ঠতা। ১৮৫৪ খ্রি. ‘দৈনিক স্পেকটেটর’ পত্রিকায় সহ-সম্পাদক নিযুক্ত ও প্রচার পুস্তিকা ‘দ্য এ্যাংলো সেক্সন এ্যান্ড দ্য হিন্দু’ প্রকাশ। ১৮৫৫ খ্রি. ১৬ জানুয়ারি পিতার মৃত্যু, মার্চ মাসে কনিষ্ঠ পুত্র মাইকেল জেমসের জন্ম, ডিসেম্বর মাসে রেবেকার সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ। পিতার সম্পত্তি রক্ষার্থে কলকাতা আগমনের সিদ্ধান্ত। ১৮৫৬ খ্রি. ০২ জানুয়ারী কলকাতায় আগমন, জুনিয়র পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে কেরানি পদে চাকুরী লাভ। ১৮৫৭ খ্রি. পুলিশ আদালতে দোভাষীর পদে নিযুক্ত। ১৮৫৮ খ্রি. শ্রহর্ষের ‘রতœাবলী’ নাটকের ইংরেজী অনুবাদ, বাংলা নাটকের দুর্দশা মোচনে ‘শর্ম্মিষ্ঠা নাটক’ লিখে বাংলা ভাষায় সাহিত্যচর্চা শুরু এবং নাট্যান্দোলনে মনোনিবেশ। মহারাজ যতীন্দ্রমোহন ঠাকুর, পাইকপাড়ার রাজা ইশ্বরচন্দ্র সিংহ এবং প্রতাপচন্দ্র সিংহের পৃষ্ঠপোষকতা লাভ। এমিলিয়া হেনরিয়েটা সোফিয়া হোয়াইট নামে ইংরেজ কন্যাকে জীবন সঙ্গিনী হিসাবে গ্রহণ। ১৮৫৯ খ্রি. জানুয়ারি মাসে সদর আইন পরীক্ষার প্রস্তুতি। ‘শর্ম্মিষ্ঠা নাটক’ পুস্তকারে প্রকাশ। সেপ্টেম্বর মাসে নাটকটি বেলগাছিয়া রাজাদের রঙ্গমঞ্চে মঞ্চস্থ হয়। আরও নাটক রচনায় মনোনিবেশ। হেনরিয়েটার গর্ভে প্রথম সন্তান কন্যা এ্যালাইজা শর্মিষ্ঠার জন্ম। ১৮৬০ খ্রি. এপ্রিল মাসে ‘পদ্মাবতী নাটক’ প্রকাশ। মে মাসে বাংলা ভাষায় প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দে লেখা তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য প্রকাশ। ‘বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ’ এবং ‘একেই কি বলে সভ্যতা’ নাট্যপ্রসন প্রকাশ ও মহাকাব্য রচনায় মনোনিবেশ। ১৮৬১ খ্রি. জানুয়ারি মাসে ‘মেঘনাদবধ’ কাব্য প্রথম খন্ড প্রকাশ। ফেব্রুয়ারি মাসে প্রখ্যাত সাহিত্যিক কালীপ্রসন্ন সিংহের বাসভবনে অমিত্রাক্ষর ছন্দে মহাকাব্য রচনার জন্যে বিদ্যোৎসাহিনী সভার পক্ষ থেকে সংবর্ধনা প্রকাশ। আগস্ট মাসে বাংলা সাহিত্যের সর্বপ্রথম ট্রাজেডি নাটক ‘কৃষ্ণকুমারী নাটক’ প্রকাশ। কিছুদিনের জন্য ‘হিন্দু পেট্রিয়ট’ পত্রিকা সম্পাদনা। ১৮৬২ খ্রি. জানুয়ারি মাসে পৈত্রিক সম্পত্তির যথোপযুক্ত বিলি ব্যবস্থায় ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সাহায্যে প্রার্থনা এবং সহযোগিতা লাভ। বাংলাসাহিত্যে সর্বপ্রথম পত্রকাব্য ‘বীরাঙ্গনা’ কাব্য প্রকাশ ৪ জুন ‘বঙ্গভূমির প্রতি কবিতা রচনা। ৯ জুন কলকাতায় সম্পত্তির পত্তনি দিয়ে পরিবারের ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করে ইংল্যান্ড গমন। ৩ জুলাই কান্ডিয়া নামক জাহাজে করে ইংল্যান্ডে উপনীত। লন্ডনের গ্রেজইন-এ ব্যারিস্টারি শিক্ষার জন্য ভর্তি ২ ডিসেম্বর। ১৮৬৩ খ্রি. পত্তনিদার ও প্রতিভূগণের নিকট থেকে নির্দিষ্ট অর্থ না পেয়ে সংকটে আক্রান্ত। অন্যদিকে এদের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে স্ত্রী হেনরিয়েটা পুত্র-কন্যাসহ কোনো প্রকার পাথেয় সংগ্রহ করে ২ মে ইংল্যান্ড গমন। নিদারুন আর্থিক অনটনে পরিবারসহ ইংল্যান্ড ছেড়ে প্যারিসে গমন। সেখানকার ভার্সাই নগরীতে দৈন্যাবস্থায় দিনযাপন শুরু হয় তাঁর। ১৮৬৪ খ্রি. ২ জুন ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে অর্থ সাহায্য কামনা করে পত্র প্রেরণের পর আগস্ট মাসে অর্থ সাহায্য প্রাপ্তি এবং আপাতত অভাব মোচন। চতুর্দ্দশপদী (সনেট) কবিতা রচনায় মনোনিবেশ। পুনরায় ইংল্যান্ড গমন এবং ব্যারিস্টারি শিক্ষা শুরু করেন তিনি। ১৮৬৫ খ্রি. জানুয়ারি মাসে বন্ধু রাজনারায়ণ বসুকে কতকগুলি সনেট প্রেরণ। মে মাসে ইতালির কবি দান্তের ষষ্ঠ জন্মশতবর্ষ পূর্তি উৎসব উপলক্ষে ইতালির স¤্রাট ভিক্টর ইমানুয়েল-এর নিকট দান্তের উদ্দেশ্যে বাংলায় লিখিত সনেট (ইতালি ও ফারাসি ভাষায় অনুবাদসহ) প্রেরণ। ১৮৬৬ খ্রি. লন্ডন ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপক পদ গ্রহণের আমন্ত্রণ। পদটি অবৈতনিক হওয়ায় অসম্মতি জ্ঞাপন। ‘চতুর্দ্দশপদী কবিতাবলি’ গ্রন্থ কলকাতা থেকে প্রকাশ। ১৮৬৭ খ্রি. জানুয়ারি মাসে পুত্র-কন্যাকে ফ্রান্সে রাখার ব্যবস্থা করে আর্থিক দুরাবস্থার কারণে ভার্সাই বন্দর হতে স্বদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা। ফেব্রুয়ারি মাসে কলকাতায় এসে হাইকোর্টে ব্যারিস্টারি ব্যবসা শুরুর জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন। মার্চ মাসে হাইকোর্টে প্রবেশাধিকার প্রশ্নে বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হন। এপ্রিলে রাজা কালীকৃষ্ণ ঠাকুর, ইশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর, রাজেন্দ্রলাল মিত্র রমানাথ ঠাকুর প্রমুখ গণ্যমান্য ব্যক্তির সুপারিশক্রমে বিরুপ অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। মে মাসে হাইকোর্টের ফুল বেঞ্চের প্রস্তাবক্রমে ব্যারিস্টার হিসাবে তালিকাভুক্তি ও কলকাতা হাইকোর্টে আইনব্যবসা শুরু। আয় বৃদ্ধি পেলেও অমিতব্যয়িতার কারণে ক্রমাগত ঋণের দায়ে জড়িয়ে পড়েন তিন। পুত্র আলবার্ট নেপোলিয়ের জন্ম। ঋণের দায় মেটাতে পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রি করে ১৮৬৮ খ্রি. বিদ্যাসাগর সহ অনেকের ঋণ পরিশোধ করেন তিনি। ১৮৬৯ খ্রি. মে মাসে স্ত্রী হেনরিয়েটা পুত্র-কন্যাসহ কলকাতায় আগমন এবং লাউডন স্ট্রীটের প্রশন্ত বাড়িতে রাজকীয় সমারোহে বসবাস শুরু। আবারও অর্থকষ্টে আক্রান্ত। ১৮৭০ খ্রি. জুন মাসে ব্যারিস্টারি ছেড়ে হাইকোর্টেও প্রিভিকাউন্সিলে আপীলের অনুবাদ বিভাগে পরীক্ষকের চাকুরী গ্রহণ। ১৮৭১ খ্রি. সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাসাহিত্যের প্রথম গদ্যকাব্য অনুবাদ গ্রন্থ ‘হেক্টর-বধ’ প্রকাশ। হাইকোর্টের চাকুরী ত্যাগ। পুনরায় আইন ব্যবসা শুরু। ১৮৭২ খ্রি. জানুয়ারিতে মামলার তদারকি উপলক্ষে ঢাকায় আগমন এবং ঢাকাবাসীদের সংবর্ধনা। পুরুলিয়ায় অভিনন্দন লাভ। পঞ্চকোট রাজার আইন উপদেষ্টা পদে চাকুরী গ্রহণ। সেপ্টেম্বরে আইন ব্যবসায় প্রত্যাবর্তন। ডিসেম্বরে বেঙ্গল থিয়েটারের অনুরোধে অর্থের বিনিময়ে ‘মায়া-কানন’ নাটক রচনা ও ‘বিষ না ধনুর্গুণ’ নাটক রচনা শুরু। শেষ পর্যন্ত এটি তিনি শেষ করে যেতে পারেননি। ১৮৭৩ খ্রি. এপ্রিলে ভগ্নস্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের জন্য উত্তরপাড়ার জমিদার জয়কৃষ্ণ মুখার্জির সাদর আহবানে উত্তরপাড়া লাইব্রেরি ভবনের দ্বিতলে বসবাস। মে মাসে স্বাস্থ্যের ক্রমাগত অবনতি। বাল্য বিবাহের বিরোধী হয়েও মাত্র তের বছর সাত মাস বয়সে আদালতের অনুবাদক ওয়ালটার ইভানস ফ্লয়েডের সাথে কন্যা শর্মিষ্ঠার বিয়ে দেন মধুসূদন। স্ত্রী হেনরিয়েটাও নিদারুণ জ্বরে আক্রান্ত। বন্ধু-বান্ধবদের সহযোগিতায় মধুসূদনকে খুব পীড়িত অবস্থায় ইন্টালীর বেনেপুকুর ভাড়া বাড়িতে স্থানান্তর ও পরে প্রেসিডেন্সি জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ। জুনের ২৬ তারিখে হেনরিয়েটার মৃত্যু। জুনের ২৮ তারিখ হাসপাতালে মধুসূদন ভগবানের নিকট অপরাধ স্বীকার এবং ক্ষমা প্রার্থনা করেন। জুনের ২৯ তারিখে রোববার বেলা দুটোয় মৃত্যুবরন করেন। বাল্যে যাঁর সেবায় পিতা, মাতা, আত্মীয়-স্বজন, দাস-দাসীগণ ব্যকুল থাকতেন, মৃত্যুর সময় চিকিৎসালয়ের ভূত্য ও শুশ্রুষা কারিণী ভিন্ন আর কেহ ছিলেন না। তার মৃতদেহ অতি সাধারন ভাবে সমাহিত হয়। বহুদিন পর্যন্ত তার সমাধির উপর স্মৃতিস্তম্ভ হয়নি। বাবু উমেচ চন্দ্র দত্ত, বামাবোধিনী এবং যশোর-খুলনা সম্মিলনীর চেষ্টায় তার সমাধীর উপর স্মৃর্তি স্তম্ভ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জানুয়ারি ১৮৫৯ খ্রি. শর্মিষ্ঠা নাটক, জুন ১৮৬০ খ্রি. একেই কি বলে সভ্যতা, জুন ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ, মে ১৮৬০ খ্রি. পদ্মবতী নাটক, ডিসেম্বর, ১৮৬১ খ্রি. কৃষ্ণকুমারী নাটক, মার্চ ১৮৭৪ খ্রি. মায়া-কানন মাইকেল মধুসূদন দত্তের নাটক প্রকাশিত হয়। মে ১৮৬০ খ্রি. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য, জানুয়ারি ১৮৬১ খ্রি. মেঘনাদবদ কাব্য, ১ম খন্ড (মহাকাব্য), জুন ১৮৬১ খ্রি. মেঘনাদবদ কাব্য, ২য় খন্ড, জুলাই ১৮৬১ খ্রি. ব্রজাঙ্গনা কাব্য, ফেব্রুয়ারি ১৮৬২ খ্রি. বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য), আগস্ট ১৮৬৬ খ্রি. চতুর্দ্দশপদী কবিতাবলি মাইকেল মধুসূদন দত্তের কাব্য প্রকাশিত হয়। সেপ্টেম্বর ১৮৭১ খ্রি. হেক্টর-বধ মাইকেল মধুসূদন দত্তের গদ্যকাব্য প্রকাশিত হয় তাঁর।
দূরদূরাত্ব থেকে মহাকবির জন্ম ভূমি সাগরদাঁড়ির মধুপল্লীতে আগত মধুভক্ত চালনা পৌরসভার কাউন্সিলার রুস্তম আলী খানের কাছে জানতে চাইলে তিনি আজকের কালের চিত্র পত্রিকার সাংবাদিককে জানান, সাগরদাঁড়ির মধুপল্লী ঘুরে আশি অভিভুত। এখানকার পরিবেশ ও দর্শণীয় স্থানগুলি খুবই মনমুগ্ধকর। সবুরোননেছা মহিলা ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক আব্দুল জলিল বলেন, কবির স্মৃতি বিজড়িত সাগরদাঁড়িতে আসতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি। পূর্বের তুলনায় বর্তমানের সাগরদাঁড়ি অনেক আধুনিক। মংলা বন্দর এলাকা থেকে আসা শেখ আব্দুর রহিম, সানি ও এস এম তালহা বলেন, মহাকবির জন্মস্থান সাগরদাঁড়ির নাম শুনেছি কিন্তু আসার সুযোগ হয়নি। এবার সাগরদাঁড়িতে আসতে পেরে খুবই ভাল লাগছে। আমি এখানে এসে কবির একটি জীবনি কিনেছি। পড়ে অনেক কিছু জানতে পারব। কিন্তু দূরদূরাত্ব থেকে আগত মধুভক্তদের আকৃষ্ট করতে দৃষ্টি নন্দিত কিছু করার প্রয়োজন। সঙ্গে সঙ্গে প্রর্যটকদের বিশ্রামের জন্য সুন্দর বসার স্থান, খাবার জন্য উন্নতমানের হোটেল, ওয়াশ রুম, বিনোদনের জন্য বিভিন্ন রাইডস, মিউজিয়ামটি আরও আধুনিকায়ন এবং মধুপল্লীকে দর্শক মুগ্ধ করতে ডিজিটালয়ান করার প্রয়োজন। চালনা কিশোর কিশোরী ক্লাবের তন্নি খান উর্মী ও ফারহানা বলেন, এখানে এসে আমি খুব আনন্দিত। এখানকার পরিবেশটা খুবই ভাল লাগছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে শিক্ষাসফরে আসা শিক্ষার্থীরা বলেন, এখানে অনেক শিক্ষনীয় দিক রয়েছে। আমরা এখানে আসায় আমাদের মন ভাল হয়েগেছে। জায়গাটা অনেক সুন্দর। মহাকবির জন্ম ভূমি সাগরদাঁড়িতে আমরা অনেকন কিছু শিখতে ও জানতে পেরেছি।
সাগরদাঁড়ির মধুপল্লীর কাস্টডিয়ান মহিদুল ইসলাম বলেন, আগত মধুপ্রেমী ও দর্শনার্থীদের মনোমুগ্ধ করতে মহাকবির ১৯৫ তম জন্ম জয়ন্তি উপলক্ষে মধুপল্লীকে নতুন রূপে সাজানোর কাজ প্রায় শেষের দিকে। যাতে এখানে এসে মধুভক্তরা স্বাচ্ছন্দে চলা ফেরে করতে পারে তার সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই মধুপল্লীকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে।
এ ব্যাপারে প্রতœতত্ব অধিদপ্তরের খুলনা আঞ্চলিক পরিচালক আফরোজা খান মিতা জানান, মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৯৫ তম জন্ম জয়ন্তিকে ঘিরে দূরদূরাত্ব থেকে আগত দর্শনার্থীদের মনোমুগ্ধ করতে সাগরদাঁড়ির মধুপল্লীতে বিভিন্ন ফুলের গাছ দিয়ে সাজানোর পাশাপাশি মধুপ্রেমীদের কবি সম্পর্কে জানার জন্য গত ২ বছর ধরে মেলার সময় বই এর স্টলের আয়োজন করা হয়। যাতে দর্শনার্থীরা সহজেই তা সংগ্রহ করতে পারে।






Related News

Comments are Closed