কেশবপুরের বিল ও জলাশয় এলাকার নিশি বকের আগমন

শামীম আখতার, ব্যুরো প্রধান খুলনা: ‘নিশি বক’ এখন কেশবপুরের বিল ও জলাশয় এলাকার মানুষের নিকট আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এ প্রজাতির পাখি এর আগে এলাকায় দেখা যেত না। এবারই শিতের মৌসুমে ঝাক ঝাক নিশি বকের আগমন ঘটেছে। এরা রাতে বিভিন্ন জলাশয়ে পড়ে মাছ শিকার করে বলে জানা গেছে।
এলাকাবাসি ও বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ এলাকায় সাধারণত সাদা দাঁড় বক ও ছোট কুঁচ বক বিচরণ করে থাকে। নিশি বক দেশীয় প্রজাতির হলেও এ এলাকায় তাদের বিচরণ ছিল না। সপ্তাহ ব্যাপি কেশবপুরের বিভিন্ন জলাশয় ও বিল এলাকায় এ প্রজাতির আগমন ঘটেছে। বুক ও দু’পাখার নিচে সাদা এবং পিঠের উপর ধুসর বর্ণের এ পাখির আগমন ঘটায় প্রথমে এলাকাবাসি ধারণা করে বিদেশী পাখি। কিন্তু পাখি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশিয় প্রজাতির নিশি বক নামে এরা পরিচিত। এরা সাধারণত রাতে চলা ফেরা করে জলাশয়ের নিকটে পৌঁছে মাছ শিকার করে থাকে। দিনের বেলা এদের সচারচার চলাফেরা নজরে আসে না।
বিল ও জলাশয় এলাকার মানুষ বলছেন, এ পাখি রাতে জলাশয়ে পানিতে পড়ে মাছ শিকার করে। ভোরে জলাশয় ত্যাগ করে দূরে চলে যায়। খুব ভোরে এদের দেখা মেলে। কেশবপুর পৌর এলাকার এক নম্বর ওয়ার্ডের মাছের ঘের এলাকায় নিশি বকের আগমন ঘটেছে। ওই এলাকার বাসিন্দা কছিম উদ্দিন জানান, এ প্রজাতি পাখির প্রথম এ এলাকায় আগমন হয়েছে। এর আগে কখনও এলাকায় এ প্রজাতির দেখা মেলেনি। উপজেলার মূলগ্রামের বিল বলধালী ধারের পাশের বাসিন্দা কৃষক হযরত আলি বলেন, গত এক সপ্তাহ যাবত বিলের পানিতে ওই জাতিয় পাখির আগমন ঘটেছে।
উপজেলা বনবিভাগ কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, শীত শুরুর আগে বিদেশী পাখি আসার পূর্বেই কেশবপুরের বিল ও জলাশয় এলাকায় দেশি প্রজাতির এ পাখির আগমন ঘটেছে।
এব্যাপারে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের ঢাকা অফিসের পাখি গবেষক শিবলি সাদিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, দেশিয় প্রজাতির বিভিন্ন বকের ভেতর ‘নিশি বক’ও একটি প্রজাতি। এ প্রজাতি পাখির দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিচরণ রয়েছে। এরা সাধারণত সন্ধ্যার আগ থেকে ভোর পর্যন্ত বিচরণ করে এবং রাতে খাদ্য খায়। দিনের বেলা ঝোপ ঝাড়ের ভেতর বসে থাকে।






Related News

Comments are Closed