কেশবপুরে ইংরেজি u অক্ষর আকৃতির জলাশয়টি হবে পর্যটকদের আকর্ষণীয় বিনোদনের কেন্দ্র

শামীম আখতার, ব্যুরো প্রধান খুলনা: কেশবপুরে ইংরেজি ট অক্ষর আকৃতির প্রায় ২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে জলাশয় হবে পর্যটকসহ এলাকার মানুষের বিনোদনের অন্যতম কেন্দ্র। উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের প্রায় ৫২ একর জলাশয় বাওড় মর্শিণাকে ঘিরে প্রশাসনের উদ্যোগে আকর্ষণীয় একটি ইকো পার্ক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও বন বিভাগ প্রকৃতির নান্দনিক সৌন্দয্য উপভোগের স্থান হিসেবে বাওড় মর্শিণাকে ইকো পার্ক করার জন্য বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা প্রেরণ করেছেন। দীর্ঘ বছর ধরে ওই বাওড়ে দেশি প্রজাতির মাছ উৎপাদন করা হয়। বন বিভাগ থেকে জানা গেছে, কেশবপুরের এমপি জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক উপজেলার বৃহত্তর ওই জলাশয়টিকে ইকো পার্ক করার জন্য বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়কে অবগত করার পর উপজেলা থেকে প্রস্তাবনা বিভাগীয় বন কর্মকর্তার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করা হয়।
এলাকাবাসী জানায়, বিনোদন প্রিয় এবং ভ্রমণ পিপাষু মানুষ পরিবার পরিজন নিয়ে এখানে বেড়াতে আসেন। ইকো পার্ক তৈরি হলে বিদেশি পর্যকটরাও এখানে আসবেন। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আগমনে এলাকার পরিবেশ আরও উন্নত হবে। বিশেষ করে এ মুক্ত জলাশয় হবে শিক্ষার্থীদের আনন্দ কোলাহলের আকর্ষণীয় স্থান। বাওড়ের পাশের কড়িয়াখালী গ্রামের আব্দুল মতলেব শেখ (৭০) বলেন, তিনি ছোট কালে বাওড়টি অনেক প্রস্থ দেখেছেন। এখন বাওড়ের পাশ দিয়ে বেঁড়ি তৈরি হওয়ায় জলাশয়টি ছোট মনে হয়। এখানে ইকো পার্ক তৈরি হলে এলাকার মানুষেরও উন্নয়ন হবে। একই গ্রামের যুবক আজিজুর রহমান বলেন, ইকো পার্ক হলে এলাকার পরিবেশ উন্নত হবে। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আগমনে এলাকার মানুষের সুস্থ্য সাংস্কৃতিক মননশীলও বৃদ্ধি পাবে।
উপজেলা বন বিভাগ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, উপজেলা সদর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে খাস খতিয়ান ভূক্ত প্রায় ২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ২৫০ মিটার প্রস্থের ইংরেজি ট অক্ষর আকৃতির প্রায় ৫২ একর ওই জলাশয়কে প্রকৃতির নান্দনিক সৌন্দয্য উপভোগের স্থান হিসেবে বাওড় মর্শিণায় ইকো পার্ক করার জন্য ৪টি গোলাকার ঘর, রেস্ট হাউজ, পার্কিং জোনের সঙ্গে ওয়াশ রুম, টয়লেট অত্যাধনিক কনফারেন্স রুম, গেট, টিকিট ঘর, বাইডার বোর্ড, প্যাটেল বোর্ড, মাছ ধরার মাচাং, চিলড্রেন কর্ণার, মুক্ত মঞ্চ, ওয়াচ টাওয়ার, পিকনিক সেড ও লিংক রোড সহ ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নানা ধরণের প্রস্তাবনা উপজেলা থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে। সহকারি বিভাগীয় বন কর্মকর্তা অমিতা মন্ডল জানান, প্রস্তাবনাটি মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানূর রহমান বলেন, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় থেকে বাওড় মর্শিণায় ইকো পার্ক করার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ ছাড়ের পরেই ইকো পার্কের কার্যক্রম শুরু হবে।






Related News

Comments are Closed