Main Menu

ট্রাম্প এগিয়ে ওহাইওতে, হিলারি শিবিরে নাওয়া–খাওয়া নেই

d6250201392ecaab70a822626be7e070-untitled-91নির্বাচনী উত্তাপটা ওহাইওর কলম্বাসে ঠিক বোঝা যাচ্ছিল না। তবে টের পাওয়া গেল ক্লিভল্যান্ডে। কুইনাহোগা কাউন্টির বোর্ড অব ইলেকশনসের সামনে বহু মানুষকে ভোটার সারিতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেল গত শনিবার সকালে। আর যেটা বোঝা গেল তা হলো, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জিততে হিলারি ক্লিনটন এখন মরিয়া। তাঁর শিবিরের লোকজন নাওয়া-খাওয়া একরকম ছেড়ে দিয়েছেন।
কুইনাহোগা কাউন্টির বোর্ড অব ইলেকশন অফিসে আগাম ভোট গ্রহণ চলছে। গত শনিবার ঢোকার মুখেই দেখা গেল বারাক ওবামার মুখোশ পরে এক ব্যক্তি ভোটারদের হাত নেড়ে অভিবাদন জানাচ্ছেন। কোনদিকে যেতে হবে তা-ও বলে দিচ্ছেন। পাশেই একজন চার ডলারের বিনিময়ে ওবামার পোস্টার বিক্রি করছেন। বোর্ড অব ইলেকশন যে সড়কের ওপর, তার দুপাশেও লোকজন আছেন। যিনিই ভোট দিয়ে বের হয়ে আসছেন তাঁকে হাসিমুখে বলছেন, ‘হিলারি ক্লিনটনকে ভোট দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।’ রিপাবলিকানদের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন এমন লোকজন খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। অবশ্য ন্যাশনাল বোর্ড অব ইলেকশনে দুই দলেরই সমানসংখ্যক লোক আছেন। তাঁদের একজন ব্রেন্ট ললার। তিনিই পরে কথাবার্তা বললেন। অবশ্য এর সবই ভোট গ্রহণ কীভাবে হয় তা নিয়ে।
কথা হচ্ছিল ওবামার মুখোশ পরে ভোটারদের অভিবাদন জানানো মার্কের সঙ্গে। তিনি বলছিলেন, ওবামা যখন নির্বাচন করেছেন, তখনো তিনি একই কাজ করেছেন। এবারও করছেন। বললেন, ‘ক্যাম্পেইন করছি। কারণ ডোনাল্ড ট্রাম্প ভয়ংকর মানুষ। তিনি সবাইকে ঘৃণা করেন। তুমি এসেছ কোথা থেকে, বাংলাদেশ? তোমাকে পেলেও দু-চার কথা শোনাবে।’ আগাম ভোট দিয়ে বের হচ্ছিলেন এমন এক দম্পতিকে পাওয়া গেল। তাঁরা কৃষ্ণাঙ্গ। তাঁরা বলছিলেন, আগেভাগে ভোট দিয়ে ফেলেছেন, এখন অন্যরা যেন ভোট দেন সেই প্রচার চালাবেন। ট্রাম্প এলে কৃষ্ণাঙ্গ, দরিদ্র শ্বেতাঙ্গ, এশীয়, মুসলিম সবাইকে মারা পড়তে হবে।

সেখান থেকে কাছেই ডেমোক্র্যাট স্বেচ্ছাসেবকদের কার্যালয়ে গিয়ে দেখা গেল কারও দম ফেলার ফুরসত নেই। স্বেচ্ছাসেবকেরা পোস্টার, ব্যাজ, রিস্টব্যান্ড কার্টনে ভরে ভরে নিয়ে যাচ্ছেন। বিলি করে ফিরছেন। তাঁদের কাজ এখানেই শেষ নয়। ভোটারদের ল্যান্ডফোন বা মুঠোফোনে তাঁর ভোটকেন্দ্র কোথায়, কী করে পৌঁছাতে হবে, কখন পৌঁছাতে হবে, কটা পর্যন্ত ভোট দেওয়া যাবে—এসব তথ্য দিচ্ছেন। দলে ভাগ হয়ে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ভোট চাইছেন।

কথা হচ্ছিল কুইনাহোগা কাউন্টির ‘ভলান্টিয়ার ডিরেক্টর’ মেরি পাওয়েলের সঙ্গে, তাঁদেরই কার্যালয়ে বসে। মেরি পাওয়েল অবশ্য বসে কথা বলার সুযোগ পাননি। বয়সে প্রবীণ এই নারী বলছিলেন, ‘হিলারি ক্লিনটন মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে আমি রাতে কয় ঘণ্টা ঘুমিয়েছি মনে করতে পারছি না। সামনের এই দুটি দিনে যে কটা বাড়িতে যাওয়া হয়নি, সে কটা বাড়িতে লোক পাঠাতে হবে। আমি নিশ্চিত ভোটাররা যদি বাড়ি থেকে বের হন, হিলারি জিতবেন। কাজেই একজন ভোটারও যেন বাদ না পড়েন, আমরা সেই চেষ্টা করছি।’ বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাঁরা ভোটারদের কী বলছেন এমন প্রশ্নের জবাবে মেরি বলেন, ‘ওই ই-মেইলের বিষয়েই বারবার ভোটারদের বোঝাতে হচ্ছে। এফবিআই তো বলেছেই যে ওখানে তেমন কিছু এখনো পাওয়া যায়নি। তবু এটাকেই ইস্যু বানানোর একটা চেষ্টা চলছে। আমরা চাইছি এ নিয়ে ভোটারদের মনে যে সন্দেহ তা দূর করতে।’

অনেক খোঁজাখুঁজির পর গতকাল একজন রিপাবলিকান ভোটারকে পাওয়া গেল। তাঁর নাম স্টিভ স্টিয়েমভস্কি। পেশায় ব্যবসায়ী। অন্য শহরে থাকেন। ভোট দিয়ে চলে যাবেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এক ব্যালটে সিনেটর ও বিচারকদেরও ভোট দিতে হয়। আমি সবগুলোতে রিপাবলিকান প্রার্থীদের ভোট দিয়েছি। কিন্তু প্রেসিডেন্ট পদে ভোট দিয়েছি হিলারিকে।’

যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের আমন্ত্রণে যে ২৫ জন সাংবাদিক ওহাইওতে, তাঁদের সবাই আসলে রিপাবলিকানদের প্রতিনিধি; সমর্থকদের খুঁজছিলেন তাঁদের প্রচার কীভাবে চলছে জানতে। ওহাইওর কলম্বাসে ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান ডেভিড পেপার অবশ্য আগেই ওই সাংবাদিকদের, রিপাবলিকানদের কার্যালয়ের যে কক্ষ থেকে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়, সেই ছবিও দেখিয়েছিলেন। ফাঁকা ঘর।

রিপাবলিকানদের প্রচার চোখে না পড়লেও ডেমোক্র্যাটদের এত সাজানো-গোছানো একই সঙ্গে শক্তিশালী প্রচারের পরও জরিপ খুব একটা ভালো কথা বলছে না। সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের জরিপে ট্রাম্প হিলারির চেয়ে পাঁচ পয়েন্ট এগিয়ে আছেন বলা হচ্ছে। হিলারির অবশ্য আবার আসার কথা রয়েছে ওহাইওতে।

জিম্বাবুয়েতে বিবিসির সাবেক সাংবাদিক ক্রিস মাজি এখন কলম্বাসে থাকেন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। কিন্তু ‘শাই ভোটার’ আছেন অনেক। যাঁরা ট্রাম্পের উল্টাপাল্টা কথার কারণে নিজেদের পরিচয় গোপন করে আছেন, কিন্তু ভোট তাঁকেই দেবেন। আর হিলারিকে তাঁর আগের পর্বে করা কিছু ভুলের বোঝা নিয়ে ভোটারদের কাছে যেতে হচ্ছে। চোখ বন্ধ করে যে শ্রমজীবী শ্বেতাঙ্গরা ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিয়েছেন, তাঁদের অনেকেই রুষ্ট। তাঁরা মনে করেন তাঁদের শ্রেণির জীবনমান উন্নয়নে সরকার কিছু করেনি। হিলারিও সরকারে ছিলেন। ফলে জিততে হলে তাঁকে বেগ পেতে হবে।






Related News

Comments are Closed