Main Menu

রূপগঞ্জের নবির হত্যাকান্ড, মামলা তুলে নিতে বাদীসহ পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি

rupgonj-pho-4-dt-30-10-2016rupgonj-pho-1-dt-22-10-2016রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি ঃ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার হাটাব আতলাশপুর এলাকার আলোচিত সাত খুনের স্টাইলে চা ল্যকর নবির হোসেন হত্যাকান্ডের মামলার বাদীসহ পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে বলে আসামীপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার নবির হোসেনের ভাই জাকারিয়া হুমকির অভিযোগ এনে রূপগঞ্জ থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেছেন। এর আগে, নবির হত্যাকান্ডের আসামী কবির হোসেন ও উত্তম চন্দ্র দাসকে গ্রেফতার করে পুলিশ। হুমকিদাতারা হলেন, গ্রেফতার হওয়া আসামী কবির হোসেনের শ্যালক সেলিম ও উত্তম চন্দ্র দাসের বোন জামাই সুনীলসহ অজ্ঞাত আরো ১০ থেকে ১৫ জন।
জাকারিয়া জানান, ওই দুই আসামী গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই মামলা তুলে নিতে সেলিম ও জামাই সুনীলসহ তাদের লোকজন তার বাবা ও মামলার বাদী আব্দুল্লাহ মিয়াসহ পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে আসছে। এছাড়া এ মামলার তদন্তে পুলিশকে সহযোগীতা করায় আতœীয় স্বজনকে ভয়ভীতি প্রদর্শণ করা হচ্ছে। হুমকির পর থেকে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
পুলিশ জানায়, গত ২০ অক্টোবর রাতে নিখোঁজ হওয়ার পর ২৭ অক্টোবর দুপুরে হাত-পা বাঁধা, গলায় রশি বাঁধা, পেটের ভুরি বের করা ও ২৫ কেজী ওজনের ইট বাঁধা অবস্থায় নবির হোসেনের গলিত লাশ শীতলক্ষ্যা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে পরিবারের লোকজন নবিরের লাশ সনাক্ত করেন। সাত খুনের স্টাইলেই নবির হোসেনকে হত্যা করা হয়। হত্যাকারীরা হত্যার পর নবির হোসেনের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মিলন মিয়াকে একটি ম্যাসেজ দেয়। ওই মেসেজে লেখা হয়, ”দয়া করে মিলন কাকা, আমি নবির, ছিটাগাঙ থেকে নেপালের হুয়া জাহাজে যাইতাছি, আমার জন্য ছীনতা করিবেননা, আমার বাবা ও মাকে বলে দেন, আমার ফোন দেয়ার সময় নাই আসি, নবির”। অর্থাৎ এটাই বোঝা যাচ্ছে, হত্যাকারীরা নবির হোসেনকে নির্মম ভাবে হত্যার পর তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ওই মেসেসটি পাঠায়। হত্যাকারীরা হয়তো জানতো, এ লাশের সন্ধান আর কেউ পাবেনা। সবাই জানবে নবির হোসেন বিদেশে চলে গেছেন।
নবির হোসেন হত্যাকান্ডের ঘটনায় তার বাবা আব্দুল্লাহ মিয়া বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আসামী হলেন, কবির হোসেন, উত্তম চন্দ্র, লিটনসহ আরো অজ্ঞাত কয়েক জন। এদের সঙ্গে জমি-জমা বিষয়াদি নিয়ে দের লাখ টাকার ঝামেলা নিয়ে নবির হোসেনের বিরোধ ছিলো। লাশ উদ্ধার হওয়ার সংবাদ পেয়ে ওই রাতেই সিঙ্গাপুরে পালিয়ে যাওয়ার সময় আসামী কবির হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বর্তমানে কবির হোসেন রিমান্ডে রয়েছেন। এছাড়া ১ নভেম্বর রাতে আসামী উত্তম চন্দ্রকেও গ্রেফতার করে পুলিশ।
স্থানীয় সুত্র জানায়, সিঙ্গাপুর প্রবাসী প্রভাবশালী কবির হোসেনের সঙ্গে নবির হোসেনের বাড়ির সীমানা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছিলো। গত এক বছর আগে কবির হোসেনসহ তার লোকজন নবির হোসেনসহ পরিবারের সদস্যদের উপর হামলা চালিয়ে মারধর করে। ওই ঘটনায় প্রতিবাদ করেছিলেন নবির হোসেন এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় একটি মামলাও দায়ের করা হয়। মামলা দায়েরের পর (একটি মাথা কেটে নেবে বলে) হুমকি দিয়ে বিদেশে চলে যায় কবির হোসেন। পুনরায় বিদেশ থেকে দেশে ফিরে আসার তিন দিন পরই নবির হোসেন নিখোঁজ হয়।
এ ব্যপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রূপগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) জসিম উদ্দিন বলেন, হয়তো অল্প সময়ের মধ্যেই চা ল্যকর নবির হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটিত হবে বলে আশা করছি। আর ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি সন্দেহজনক আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।






Related News

Comments are Closed