Main Menu

সিদ্ধিরগঞ্জে সন্ত্রাসী দেলু র‌্যাবের সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত বিপুল পরিমান অস্ত্র গুলি উদ্ধার ৩ সহযোগী গ্রেফতার

02-mediumসিদ্ধিরগঞ্জ: সিদ্ধিরগঞ্জে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী মাষ্টার দেলু র‌্যাবের সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত। বিপুল পরিমান অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার ৩সহযোগী গ্রেফতার। অস্ত্র তৈরী ও মেরামতে পারদর্শী তালিকাভূক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী খুন, ডাকাতি, চাঁদাবাজি,অস্ত্র ও মারামারিসহ ২১ মামলার আসামি ডাকাত সর্দার দেলোয়ার হোসেন দেলু ওরফে মাষ্টার দেলু (৩৯) র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত। তার ৩ সহযোগী গ্রেফতার। নগদ ৩ লক্ষাধিক টাকাসহ বিপুল পরিমান অস্ত্রগুলি উদ্ধার। গত শনিবার দিবাগত রাত পৌনে ৪ টায় সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল বার্মাশীল পদ্মা তেল ডিপু সংলগ্ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মৃত ইসমাইল হোসেনের বাড়ীতে র‌্যাব অভিযান চালালে মাষ্টার দেলু বাহিনীর সাথে বন্দুক যুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এতে র‌্যাবের ২ সদস্য আহত ও মাষ্টার দেলু নিহত হয়। কিছুদিন আগেও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সাথে দু,দফা গুলাগুলি হয় দেলুবাহিনীর। নিহত দেলু মুন্সিগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ি থানার আলদী বাজার এলাকার মৃত মজিদ ব্যপারীর ছেলে। সে নারায়ণগঞ্জ সদর থানার নগর খানপুর এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে বসবাস করে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে আসছিল। গ্রেফতার কৃতরা হলো, ফতুল্লা থানার হাজীগঞ্জ তরুণ সংঘ এলাকার বশির মিয়ার ছেলে মোঃ ফয়সাল হোসেন (২৮) শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া থানার খেজুরতলা গ্রামের মৃত মঞ্জুমিয়ার ছেলে মোঃ আক্তার হোসেন (২৭) ও সোনারগাঁ থানার মৃত এবিএম নূরুল হুদা বেনুর ছেলে মোঃ সাজ্জাদ হোসেন ওরফে শিহাবুল আলম ওরফে আরিফ (৩৪)। এ বন্দুক যুদ্ধে র‌্যাবের এসআই মোঃ আশরাফুল ইসলাম ও কনস্টেবল শহিদ আহত হয়েছে।
সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীতে অবস্থিত র‌্যাব-১১ এর সদর দপ্তরে গতকাল রোববার বিকেল ৩ টায় সাংবাদিক সম্মেলনে র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মোঃ কামরুল হাসান পিএসসি জানান, র‌্যাবের তালিকাভূক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী মাষ্টার দেলু সিদ্ধিরগঞ্জ থানার গোদনাইল বার্মাশীল পদ্মা তেল ডিপু সংলগ্ন ইসমাইল কমান্ডারের বাড়ীতে দলবল নিয়ে অবস্থান করছে গোপন সূত্রে এ সংবাদ পেয়ে শনিবার রাত পৌনে ৪ টায় র‌্যাবের একটি দল অভিযান চালায়। র‌্যাবের এএসপি আলেপ উদ্দিনের নেতৃত্বে পরিচালিত আভিযানিক দলটি প্রথমেই ওই বাড়ীটি ঘেরাউ করে। এসময় তিন তলা বাড়ীর দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে দেলু ও তার সহযোগীরা অবস্থান করছিল। এসময় র‌্যাব সদস্যরা অনেক ডাকা ডাকি করলেও দেলুবাহিনী ঘরের দরজা খোলেনি। এক পর্যায় র‌্যাব সদস্যরা দরজা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করার সাথে সাথে অন্ধকার ঘরে র‌্যাবকে লক্ষ্য করে এলোপাথারি গুলি করে দেলু ও তার বাহিনী। আতœরক্ষার্থে র‌্যাবও পাল্টা গুলি করে। এসময় গুলি করতে করতে সন্ত্রাসী দেল রান্না ঘরে ঢুকে পড়ে। কিছুক্ষণ গুলাগুলির পর মাষ্টার দেলু গুলি বিদ্ধ হয়ে পড়ে যায়। তখন র‌্যাব তার সহযোগী ফয়সাল,আক্তার ও আরিফকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের কাছ থেকে ৩ টি বিদেশী পিস্তল, ১ টি বিদেশী রিভলবার, ৪ টি ম্যাগজিন, ৮ রাউন্ড গুলি, ১৩ টি গুলির খালি খোসা, ২ টি চাইনিজ কুড়াল, ১ টি চাকু, ১ টি চাপাতি, ১ টি ল্যাপটপ, ৭ টি মোবাইল সেট, নগদ ৩ লাখ ১ হাজার ৩‘শ টাকা ও অস্ত্র বানানোর বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনাটি তাৎক্ষনিক টহল অধিনায়ক,সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জকে অবহিত করলে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে গুলিবিদ্ধ দেলুকে নারায়ণগঞ্জ খানপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্মরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করেন বলে র‌্যাব অধিনায়ক নিশ্চিত করেছেন। লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়া চলছে। নিহত দেলুর বিরুদ্ধে খুন, ডাকাতি, চাঁদাবাজি,অস্ত্র ও মারামারিসহ ২১ টি মামলা রয়েছে বলে র‌্যাব জানায়।
উল্লেখ্য যে, নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ মাষ্টার দেলুকে গ্রেফতার করতে অভিযান চালালে দু,বার ডিবি পুলিশের সাথে দেলু বাহিনীর গুলাগুলির ঘটনা ঘটে। সে সময় পুলিশের গুলিতে দেলুর ১ সহযোগী আহত হয়। আহতকেসহ দেলু বাহিনীর ১২ সদস্যকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। তবে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় দেলু।
মাষ্টার দেলুর উত্থান ঃ ১৯৯০ সালে ১০ বছর বয়সে স্বপরিবারে নারায়ণগঞ্জে আসে দেলোয়ার হোসেন দেলু। তার পিতা মজিদ ব্যপারী ছিল ছাগল ব্যবসায়ী। তিনি মুন্সিগঞ্জ থেকে ছাগল কিনে এনে নারায়ণগঞ্জে বিক্রি করতেন। মুন্সিগঞ্জ ছেড়ে নারায়ণগঞ্জে এসে দেলুর পিতা প্রথমে চাঁদমারী বস্তিতে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করে।পরে সেখান থেকে চলে যায় তল্লাতে। সে সময় দেলু খানপুর বার একাডেমী স্কুলে ভর্তি হয়। কিন্তু পড়াশোনায় মনযোগ না থাকায় সে বেশী এগুতে পারেনি। তখন তাকে একটি গার্মেন্টস কারখানায় চাকুরীতে লাগিয়ে দেয় তার পিতা। আর মা সখিনা বেগন বিভিন্ন বাসা বাড়িতে বুয়ার কাজ করে। এলাকার বড় ভাইদের সাথে পরিচয় হওয়ার পর কিশোর বয়সেই দেলু বিভিন্ন মাদক দ্রব্য আনা নেওয়ার কাজ করতো। এ ভাবে জেলার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে তার পরিচয় হয়। একপর্যায় দেলু নিজেই জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে মাদক এনে খানপুর রেল লাইন এলাকায় বিক্রি শুরু করে। মাদক ব্যবসার সুবাধে দেলুর পরিচয় ঘটে শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন অস্ত্র ব্যবসায়ীদের সাথে।এর মধ্যে সে মিশে যায় খানপুরের তৎক্ষালিন ছাত্রদল নেতা জিল্লুর রহমান বুলুর সাথে। পরে ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর দেলু চলে যায় নূরুল আলম মাকসুদের অন্যতম ক্যাডার খানপুরের আফজালের পতাকা তলে। আফজালের শেল্টারে দেলু খানপুর,ব্যাংক কলোনী, হাজীগঞ্জ, ডনচেম্বার, তল্লা, পাঠানুটুলী এলাকার মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করে। এর ফাঁসে দেলু গড়ে তুলে নিজস্ব একটি সন্ত্রাসী বাহিনী। এ বহিনী গড়ে তুলার পর দেলু শুরু করে ডাকাতি। সে নিজেই তার বাহিনীকে ডাকাতির পশিক্ষণ দিতো। তার এ বাহিনীর নাম ছিল ফাইভস্টার। সে থেকেই দেলুকে তার বাহিনীর সদস্যরা মাস্টার বলে ডাকতো। যে কারণে সে মাষ্টার দেলু হিসেবে পরিচিত হয়। গত ২ হাজার ১ সালে চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেলুর পরিবার তল্লা ছেড়ে চলে যায় নগর খানপুর এলাকার লিটনের বাড়ীতে।ওই বাড়ীতে যাওয়ার পর দেলু বিয়ে করে। বিয়ের পর দেলু আফজালের পতাকা ছেড়ে যোগদেয় নগর খানপুর এলাকার ১ ছাত্রদল নেতার দলে। মাদকের টাকার ভাগ বন্টন নিয়ে বিরোধের জের ধরে দেলু খুন করে খানপুর এলাকার মামুন ও কারপুর সরদার পাড়া এলাকার দেলু নামে আরেকজনকে। পরে গত ২ হাজার ৪ সালে জেলা ডিবি পুলিশ মাষ্টার দেলুকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করে। কিন্তু প্রভাবশালী মহলের তদ্ববিরে দেলু ছাড়া পেয়ে যায়। এর পর থেকেই দেলু আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে। এভাবে হয় দেলুর উত্থান।






Related News

Comments are Closed