Main Menu

হাত-পা বাঁধা, গলায় রশি, ভুরি ফেলে ও ২৫ কেজী ইট বেঁধে নদীতে ফেলা হয় সাত খুনের স্টাইলেই নবির হোসেনকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়

rupgonj-pho-1-dt-22-10-2016রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি ঃ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা ইউনিয়নের হাটাব আতলাশপুর এলাকার দিন মজুর নবির হোসেন (৩৫) কে হাত-পা বেঁধে রেখে, গলায় রশি দিয়ে, পেটের ভুরি বের করে ও ২৫ কেজী ওজনের ইট বেঁধে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলা হয়। আর এ হত্যাকান্ড সাত খুনকেও হারমানায়। শুধু তাই নয়, হত্যাকারীরা হত্যার পর নবির হোসেনের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মিলন মিয়াকে একটি ম্যাসেজ দেয়া হয়। ওই মেসেজে লেখা হয়, ”দয়া করে মিলন কাকা, আমি নবির, ছিটাগাঙ থেকে নেপালের হুয়া জাহাজে যাইতাছি, আমার জন্য ছীনতা করিবেননা, আমার বাবা ও মাকে বলে দেন, আমার ফোন দেয়ার সময় নাই আসি, নবির”। অর্থাৎ এটাই বোঝা যাচ্ছে, হত্যাকারীরা নবির হোসেনকে নির্মম ভাবে হত্যার পর তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ওই মেসেসটি পাঠায়। হত্যাকারীরা হয়তো জানতো, এ লাশের সন্ধান আর কেউ পাবেনা। সবাই জানবে নবির হোসেন বিদেশে চলে গেছেন।
নবির হোসেন হত্যাকান্ডের ঘটনায় তার বাবা আব্দুল্লাহ মিয়া বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় সন্দেহজনক আসামী হলেন, হাটাব এলাকার মৃত আবুল হোসেনের ছেলে কবির হোসেন, ইছাপুড়া এলাকার লিটনসহ আরো অজ্ঞাত ৩ জন। এদের সঙ্গে জমি-জমা বিষয়াদি নিয়ে দের লাখ টাকার ঝামেলা নিয়ে নবির হোসেনের বিরোধ ছিলো।
এছাড়া হাটাব এলাকার শুকুমার চন্দ্রের ছেলে উত্তম চন্দ্রের নামও উল্লেখ রয়েছে। শুক্রবার রাতে সিঙ্গাপুরে পালিয়ে যাওয়ার জন্য বিমান বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা সময় হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত থাকা সন্দেহজনক আসামী কবির হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এদিকে, মামলার দায়েরের আগ থেকেই প্রভাবশালীরা কবির হোসেনকে মামলায় যাতে না জড়ানো হয়, সেজন্য মামলার বাদী ও তার পরিবারকে বিভিন্ন ভাবে চাপ প্রয়োগ করে আসছে। এছাড়া রাতভর কবির হোসেনকে ছাড়াতে বিভিন্ন মহল দিয়ে তদবিরের চেষ্টা চালায়। এতে করে বাদী ও তার পরিবার এখন অসহায় হয়ে পড়েছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রূপগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) জসিম উদ্দিন জানান, গ্রেফতারকৃত কবির হোসেনকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-গ অঞ্চলে পাঠানো হয়। এছাড়া মামলায় উল্লেখ সন্দেহ জনক বাকি আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ময়না তদন্তের পর শনিবার বাদ যোহর যানাজা শেষে সামাজিক কবরস্থানে নবির হোসেনের লাশ দাফন সম্পন্ন হয়।
স্থানীয় সুত্র জানায়, সিঙ্গাপুর প্রবাসী প্রভাবশালী কবির হোসেনের সঙ্গে নবির হোসেনের বাড়ির সীমানা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছিলো। গত এক বছর আগে কবির হোসেনসহ তার লোকজন নবির হোসেনসহ পরিবারের সদস্যদের উপর হামলা চালিয়ে মারধর করে। ওই ঘটনায় প্রতিবাদ করেছিলেন নবির হোসেন এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় একটি মামলাও দায়ের করা হয়। মামলা দায়েরের পর (একটি মাথা কেটে নেবে বলে) হুমকি দিয়ে বিদেশে চলে যায় কবির হোসেন। পুনরায় বিদেশ থেকে দেশে ফিরে আসার তিন দিন পরই নবির হোসেন নিখোঁজ হয়।
এর আগে, শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে চনপাড়া পূর্ণবাসন কেন্দ্রের ৬ নম্বর ঘাটের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে হাত-পা বেঁধে রেখে, গলায় রশি দিয়ে, পেটের ভুরি বের করে ও ২৫ কেজী ওজনের ইট বাঁধা অবস্থায় নবির হোসেনের গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পরিবারের লোকজন নবিরের লাশ সনাক্ত করেন।
নবির হোসেনের ভাই জাকারিয়া জানান, গত ২০ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে নিজ বাড়ি হাটাব আতলাশপুর থেকে কাঞ্চন যাওয়ার কথা বলে একই এলাকার সুকুমারের ছেলে উত্তমের সঙ্গে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর বাড়ি ফিরেনি নবীর হোসেন। আতœীয়স্বজনসহ বিভিন্ন স্থানে খোজাখুজির পরও তাকে পাওয়া যায়নি। নিখোঁজের ২ দিন পর জাকারিয়া বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেন। নবির হোসেন হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, যদি কোন প্রভাবশালী এ হত্যাকান্ডের বিষয়ে মামলার বাদী বা তার পরিবারকে চাপ প্রয়োগ করে থাকেন এবং এর কোন প্রমান মিলে তাহলে ওই প্রভাবশালীকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। এছাড়া হত্যাকারীরা যতই প্রভাবশালী হোকনা কেন হত্যার রহস্য উদঘাটন করে তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে।






Related News

Comments are Closed