Main Menu

ধর্ষণের শিকার শিশু​ ঢাকা মেডিকেলে

374শিশুটির বয়স মাত্র পাঁচ বছর। ওর গাল, গলা, হাত ও পায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন। শরীরে কামড়ের দাগ। ঊরুতে সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়ার ক্ষত। দিনাজপুরে ধর্ষণের শিকার শিশুটিকে গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস (ওসিসি) সেন্টারে ভর্তি করা হয়।

শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে ওসিসিতে কর্মরত ব্যক্তিরাও মুষড়ে পড়েছেন। সমন্বয়কারী বিলকিস বেগম বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন বিভিন্ন ভিকটিম দেখি। বলতে গেলে আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি। কিন্তু এই শিশুটিকে দেখার পর থেকে স্বাভাবিক থাকতে পারছি না। চিকিৎসক হয়েও নিজেকে সামলাতে পারছি না।’

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক আশরাফুল হক প্রাথমিকভাবে শিশুটিকে দেখেছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, শিশুটির প্রজনন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাথায় আঘাতের চিহ্ন। সারা শরীরে বিভিন্ন ক্ষতচিহ্ন। শিশুটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তার শরীরে ধরলেই ব্যথা পাচ্ছে।

চিকিৎসক বলেন, আজ সকালে শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালোভাবে পর্যালোচনা করা হবে। তারপরই বলা যাবে, তার কতটুকু ক্ষতি হয়েছে বা অস্ত্রোপচার করে কতটুকু ভালো করে তোলা সম্ভব হবে।

গত মঙ্গলবার শিশুটি নিখোঁজ হয়। মাইকিং, মসজিদে ঘোষণা দেওয়াসহ নানাভাবে শিশুটির খোঁজ করে পরিবার। তবে সেদিন আর শিশুটিকে পাওয়া যায়নি। পরের দিন ভোরে শিশুটিকে তার বাড়ির কাছে একটি হলুদখেতে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল, তারপর রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে শিশুটি এখন ওসিসিতে। ওসিসিতে শিশুটির সঙ্গে থাকছেন মা ও নানি।

ওসিসির অফিস কক্ষে কথা হয় শিশুটির বাবা ও এক চাচার সঙ্গে। শিশুটির বাবা জানান, যে ধর্ষণ করেছে, তাকে মেয়ে বড় জ্যাঠা বা বড় আব্বু বলে ডাকত। আর তিনি নিজেও তাকে বড় ভাইয়ের মতোই দেখতেন। কোনো দ্বন্দ্ব বা শত্রুতা ছিল না।

শিশুটি বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। বাবা পিকআপ চালিয়ে সংসার চালান। শিশুটির চাচা জানান, ঢাকায় আনার পর থেকে সে মুখে একটু একটু খাচ্ছে। বাবা-মাকে ডেকে চিৎকার করে শুধু কাঁদে।

শারীরিক বর্ণনা দিয়ে শিশুটির চাচা প্রথম আলোকে বলেন, ভাতিজির যখন জ্ঞান ফেরে, তখন সে শুধু জানায়, তাকে রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কে তাকে ব্যথা দিয়েছে, জানতে চাইলে চুপ করে থাকে। পরিবারের পরিচিত ৩৮ বছর বয়সী একজনের নাম বলতেই মাথা নেড়ে ‘হ্যাঁ’ বলে ভাতিজি অজ্ঞান হয়ে যায়।

ওসিসির সমন্বয়কারী বিলকিস বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ‘শিশুটি একদম কথা বলছে না। আমরা কাছে গেলেও ভয়ে কাঁদছে। ও খুব ভড়কে গেছে। ভাবছে সবাই ওকে ব্যথা দেবে।’

আজ দুপুরে ওসিসিতে গেলে দেখা যায়, ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী, গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন মানুষের ভিড়। সবাই শিশুটিকে দেখতে চায় অথবা শিশুর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে চায়। তবে ওসিসি কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে অন্য সময়ের চেয়েও নিরাপত্তা বাড়িয়েছে। শিশুটিকে বর্তমানে দুধ, ফলের রসসহ তরল খাবার দেওয়া হচ্ছে বলে জানালেন কর্মকর্তারা।

প্রথম আলোর দিনাজপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ঘটনার পর শিশুটির বাবা ২০ অক্টোবর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হলেন সাইফুল ইসলাম ও আফজাল হোসেন কবিরাজ। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা স্বপন কুমার চৌধুরী জানিয়েছেন, ২৪ অক্টোবর রাতে দিনাজপুর শহর থেকে আসামি সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামি জেলহাজতে আছেন। সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। বুধবার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। মামলার তদন্ত চলছে উল্লেখ করে তদন্তকারী কর্মকর্তা এর বাইরে আর কিছু বলতে রাজি হননি।






Related News

Comments are Closed