Main Menu

মাকে রাসেল ‘আব্বা’ বলে ডাকতো

3d35c29fad45db2ca1c34e38169e0d01-58061505f1b42বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বেশিরভাগ সময় কারাগারে থাকায় শেখ রাসেল পিতৃস্নেহ বঞ্চিত হয়েই বেড়ে উঠছিল। এ মন্তব্য করেছেন তারই বড় বোন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, রাসেল বাবাকে কাছে না পাওয়ায় মাকেই ‘আব্বা’ বলেও ডাকতো। সেই ছোট্ট শিশুটিও খুনীদের হাত থেকে রেহাই পায়নি।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট ছেলে শেখ রাসেলের ৫৩তম জন্ম দিন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আবেগাপ্লুত হয়ে এসব কথা বলেন। শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শেখ রাসেলের বোন ও বঙ্গবন্ধুর বড় মেয়ে শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, জন্মের পর থেকে রাসেল বড় হয়েছে পিতা-মাতা, ভাই সবার স্নেহ নিয়ে। কিন্তু কতটুকু পেয়েছে পিতৃস্নেহ? তাকে বড় হতে হয়েছে পিতৃস্নেহ বঞ্চিত হয়ে।

ছোট্ট রাসেলের স্মৃতিচারণ করে শেখ হাসিনা বলেন, যখনই আমরা কারাগারে যেতাম আব্বাকে দেখতে, রাসেলকে নিয়ে আসা কঠিন ছিল। অনেক কষ্ট করে তাকে নিয়ে আসতে হতো। যখন কথা বলতে শুরু করলো সে বাবাকে খুঁজে বেড়াতো। তখন মা তাকে বলতো আমিই তো তোমার বাবা। মাকে সে সময় রাসেল ‘আব্বা’ বলেও ডাকতো, মা বলেও ডাকতো। এভাবেই ছোট রাসেল বেড়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, খুনীদের হাত থেকে সেই রাসেলও রেহাই পায়নি। আমরা সবাই পিতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত।

শেখ হাসিনা বলেন, ছোট্ট রাসেলের কথা সব সময় মনে হয়, সে আমার চেয়ে অনেক ছোট। ’৬৪ সালে রাসেলের যখন জন্ম হয় আব্বা তখন ভীষণ ব্যস্ত। পাকিস্তানে তখন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। ’৬৬ সালে ৬ দফার প্রচার করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধুকে বার বার গ্রেফতার হতে হয়েছে। এরপর ৮ই মে বঙ্গবন্ধুকে যখন গ্রেফতার করে নিয়ে গেলো, কতই বা বয়স হবে ওর, বড়জোড় ২ বছর। সেই থেকে শিশু রাসেল পিতৃস্নেহ বঞ্চিত ছিল।

৭৫ এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার ঘটনা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, রাসেলতো আমার কোলে পিঠে বড় হয়েছে। তার সঙ্গে কত খেলা করেছি। কত ছবি তুলেছি।

কথাগুলো বলার সময় প্রধানমন্ত্রী বার বার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ছিলেন। রাসেলের নির্মম ভাবে নিহত হওয়ার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ঘাতকের দল রাসেলকেও ছাড়েনি। তাকেও সবার শেষে নির্মম ভাবে হত্যা করে। তাদের একটাই উদ্দেশ্য ছিল, বঙ্গবন্ধুর রক্তের একটুকু চিহ্নও যেন না থাকে। তাছাড়া বাচ্চাটাকে সবার শেষে কষ্ট দিয়ে মারার আর কি মানে হতে পারে? রাসেলের কি অপরাধ ছিলো?’

তিনি বলেন, ‘৭৫ এর ১৫ আগস্ট যে ঘটনা ঘটেছে তা একমাত্র কারবালার ঘটনার সঙ্গে তুলনা করা যায়। কারবালাতেও বোধ হয় শিশুদের হত্যা করা হয়নি।

বঙ্গবন্ধু তার পরিবারের হত্যাকারীদের বিচার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইন করে তাদের বিচারের হাত থেকে রেহাই দেওয়া হয়েছিলো। বিভিন্ন দেশে চাকরি দিয়ে তাদের পুরস্কৃত করা হয়েছিলো।

এ সময় সব শিশু-কিশোরকে মন দিয়ে পড়াশোনার করার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবাইকে মন দিয়ে পড়াশোনা করতে হবে, মানুষের মতো মানুষ হতে হবে। তোমরা সবাই পিতা-মাতা, অভিভাবক, শিক্ষকদের কথা শুনবে, মন দিয়ে পড়াশোনা করবে।

সবাইকে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের পথ থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চাই না এ দেশে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ থাকুক।

দেশের বাইরে থাকায় তারা দুই বোন বেঁচে যান উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, স্বজন হারানোর নির্মম বেদনা নিয়ে দেশে ফিরে এসেছি ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্ন পূরণ করতে, দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে।
শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান রকিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, আয়োজক সংগঠনের মহাসচিব মাহমুদ উস সামাদ, উপদেষ্টা সিরাজুল ইসলাম মোল্লা প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে শিশু-কিশোরদের পক্ষে বক্তব্য রাখে, নাফিস বিন নাদিম। সে সব শিশু কিশোরদের পক্ষ থেকে রাসেলের হত্যাকারীদের প্রতি ঘৃণা ও রাসেলের প্রতি ভালোবাসা জানায়।






Related News

Comments are Closed