Main Menu

কাঁচপুর ল্যান্ডিং ষ্টেশন মালখানায় নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ

p-2-mediumসিদ্ধিরগঞ্জ: সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধিন আটি ওয়াপদা কলোনী এলাকায় অবস্থিত কাঁচপুর ল্যান্ডিং ষ্টেশন মালখানায় পরিণত হয়েছে, নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে পাথর বালুর স্তুপ, মালামাল লুড-আনলোড ও বাস ষ্ট্যান্ড গড়ে তুলায় ল্যান্ডিং এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরিণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ইজারা নিয়ে ল্যান্ডিং এলাকায় ইজারাদার বেপরোয়া হয়ে উঠলেও রহস্যজনক কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করছে না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
জানা গেছে,জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের অধিনস্থ শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম পাশে নাসিক ৪নং ওয়ার্ড আটি ওয়াবদা কলোনী এলাকাস্থ কাঁচপুর শুক্ল আদায় ও লেবার হ্যান্ডলিং পয়েন্ট (কাঁচপুর ল্যান্ডিং ষ্টেশন) ১’বছরের জন্য ইজারা নিয়েছে প্রভাবশালী একজন শিল্পপতি। ঐ ইজারাদার নিয়মনীতি ও ইজারার শর্ত অমান্য করে ল্যান্ডিং ষ্টেশন এলাকাকে নিজস্ব সম্পত্তির মত মনগড়া মতে ব্যবহার করছেন। সরকারি সম্পত্তি ক্ষতিসাধন করে ষ্টেশনকে বানিয়েছেন মালখানা। ষ্টেশন অফিসের সামনের খালি জায়গায় গড়ে তলা হয়েছে আদমজী কোমল মিনিবাসের ষ্ট্যান্ড। ষ্টেশন ভবনের সামনের খোলা জায়গায় পাথর বালু রাখা হচ্ছে স্তুপ করে। পাথর বালু লুড-আনলোড ও ট্রাক চলাচল করার কারণে ষ্টেশনের সৌন্দর্যের জন্য সরকারি অর্থে লাগানো বিভিন্ন জাতের গাছ নষ্ট হচ্ছে। সাবেক ইজারাদার নিহত নজরুল ইসলামের শশুর ষ্টেশন মাঠে গরুর হাট আর কয়লা ও পাথর বালুর ব্যবসা চালু করায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইজারা বাতিল করে কোটি টাকার কয়লা জব্দ করে নিলামে বিক্রি করে দিয়েছিল। বর্তমান ইজারাদও একই কায়দায় ল্যান্ডিং এলাকায় ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে সরকারি এ প্রতিষ্ঠানটিকে নিজস্ব সম্পত্তি মনে করে ভোগ দখল ও অনিয়ম করলেও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ ইজারাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করছে না বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ন পরিচালক একে,এম আরিফ উদ্দিনকে ম্যানেজ করে ইজারাদার এসব অনিয়ম করছে। ল্যান্ডিং ছাড়াও নদীর পাড়ে সাধুর ঘাট, সাইলো গেইট, তাজ জুটমিল ও সারুলিয়া (শুকুরসী) এলাকায় অবৈধ ভাবে পাথর বালুর ব্যবসা চলছে নারায়ণগঞ্জ বিআইডব্লিউটিএ‘র অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানা গেছে, ইজরারার শর্ত মতে ইজারাদার এমন কোন কাজ করিতে পারিবে না, যাহার দ্বারা কর্তৃপক্ষের ঘাট, জেটি, পন্টুন বা সম্পত্তির ক্ষতি হয়। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কোন স্থাপনা তৈরী, মালামাল উঠানামার ব্যাবস্থা করলে এবং ওয়াক-ওয়ে ও নদী রক্ষা বাঁধের উপর দিয়ে ট্রাক বা ভারী যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করলে চুক্তিনামার শর্ত ভঙ্গের জন্য ইজারার লাইসেন্স বাতিলসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। সূত্রটি জানায়, দি পোর্ট এ্যাক্ট-১৯০৮ ও পোর্ট রুলস-১৯৬৬ অনুযায়ী নদী বন্দর সংরক্ষক (কনসারভেটর অপ পোর্ট) এর অনুমতি ব্যতীত বন্দর এলাকায় কোন ব্যক্তি/প্রতিষ্টানের কোন কার্যক্রম গ্রহনের এখতিয়ার নেই। কর্তৃপক্ষের অনুমতি/অনাপত্তি (এন ও সি) গ্রহন ব্যতীত তীরভূমি দখল ও ব্যবহার বন্দর আইন, ১৯০৮ এবং অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল অধ্যাদেশ-১৯৭৬ এর সম্পূর্ন পরিপন্থি এবং মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করার সামিল এবং দন্ডনীয় অপরাধ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নদীপথে মাদকের বড় বড় চালান আনা নেওয়া করা হচ্ছে কাঁচপুর ল্যান্ডিং ষ্টেশন দিয়ে। এ ল্যান্ডিং ষ্টেশন অফিসে চলছে নানা অপকর্ম। জুয়াড়ী ও মাদক সেবীদের নিরাপদ আস্তানা এ ল্যান্ডিং ষ্টেশন ভবন। ভবনের দ্বিতীয় তলায় রাতে ভাসমান পতিতাদের আনাগুনা ও জুয়ার আসর বসে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। সন্ধার পর ওই ষ্টেশন এলাকায় কোন লোকজন না থাকায় রাতে ষ্টেশন ভবন এলাকা অপরাধিদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়।






Related News

Comments are Closed