Main Menu

দুর্গাপূজার আজ মহা সপ্তমী, চণ্ডীপাঠে মুখর পূজা মণ্ডপ

14449725_10209292617245349_3602454635810018145_nধূপ-প্রদীপের ধোঁয়া শঙ্খ ঘন্টার শব্দ, পূজারীর মন্ত্র উচ্চারণ পবিত্রতার, প্রশান্তির পরশ বুলিয়ে দেয় মনে। দেবীর আয়ত নয়ন মনে দেয় শক্তি, জোগায় বাঁচার আশা। প্রতিমা দর্শন আর শ্রদ্ধা জানিয়ে শক্তি সঞ্চয়ে ভক্তদের আনাগোনায় ভরপুর পূজার মন্ডপগুলো। ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে গতকাল দেবীর অধিষ্ঠান হয়েছে। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খ আর উলুধ্বনির শব্দ দেবীর কৈলাশ থেকে ধরায় আগমনের জানান দিয়েছে। মন্ত্রোচ্চারণ, আরতি আর মাইকের আওয়াজে মুখর এখন দেশের পূজা মন্ডপ গুলো। বাঙালি হিন্দু স¤প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে দেশ জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আনন্দ ও উৎসাহ উদ্দীপনা। বাঙালি হিন্দু স¤প্রদায়ের প্রধান এ ধর্মীয় উৎসব ভারতের অন্যান্য প্রদেশের অবাঙালিরা ভিন্ন ভিন্ন নামে পালন করে থাকে। যেমন কাশ্মীর ও দাক্ষিণাত্রে অম্বা ও অম্বিকা, গুজরাটে হিঙ্গুরা ও রুদ্রানী, কান্যকুঞ্জে কল্যাণী, মিথিলায় উমা এবং কুমারিকা প্রদেশে কন্যাকুমারী নামে এ দেবীর পূজা ও উৎসব পালিত হয়। দুর্গা পৌরাণিক দেবতা। তিনি আদ্যাশক্তি, মহামায়া, শিবানী, ভবানী, দশভূজা, সিংহবাহনা ইত্যাদি নামে অভিহিত হন। দুর্গ বা দুর্গম নামক দৈত্যকে বধ করেন বলে তার নাম হয় দুর্গা। জীবের দুর্গতি নাশ করেন বলেও তাকে দুর্গা বলা হয়ে থাকে। আজ মহা সপ্তমী। ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথেই মাঙ্গলিক অনুষ্ঠাদি শুরু হবে। দুর্গতি নাশিনী দেবী দুর্গার আগমনে ভক্ত পুন্যার্থীরা আজ পূজামন্ডপে সমবেত হবেন আনন্দ ও শ্রদ্ধাকুল চিত্তে। পূজা শেষে সকলে মিলে জগজ্জননী দুর্গার চরণে নিবেদন করবেন পুষ্পাঞ্জলি। সুখ ও সমৃদ্ধি কামনায় সমাগত পুন্যার্থীদের কন্ঠে সম্বস্বরে উচ্চারিত হবে শান্তি মন্ত্র। নানা বয়স ও শ্রেণী পেশার মানুষের উপস্থিতিতে প্রতিটি মন্দির প্রাঙ্গণ পরিণত হবে মহাতীর্থে। বিকেল থেকে প্রতিমা দর্শনার্থীদের ঢল নামবে রাস্তায় রাস্তায়, প্রতিটি মন্দির এলাকা পরিণত হবে জনারণ্যে। দিনব্যাপী বিভিন্ন স্থানে চলবে সদ গ্রন্থাদি পাঠ, ধর্মসভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ইত্যাদি। সন্ধ্যায় রঙ-বেরঙের আলোয় আলোকিত করা হবে পূজামন্ডপ গুলো। সন্ধ্যার পর বিভিন্ন স্থানে আরত্রিকের পাশাপাশি থাকবে ধর্মীয় সঙ্গীতানুষ্ঠান, নাটকসহ অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানমালা। বাংলার সুপ্রাচীন ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ দুর্গোৎসবের আনন্দ কোলাহলে ধর্ম বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে নানা শ্রেণী পেশার মানুষ শামিল হবেন এক কাতারে।






Related News

Comments are Closed