Main Menu

যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে সংখ্যালঘুদের জমি দখলের অভিযোগ

pirojpur-photoপিরোজপুর সদর উপজেলার শিকদারমল্লিক ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি রুহুল আমীন সেখের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী, চাঁদবাজী, মাদক ব্যবসা এবং এলাকার সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছে চালিতাখালী গ্রামবাসী।

শুক্রবার সকালে পিরোজপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তণে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে গ্রামবাসীর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সমীরণ মজুমদার। এসময় চালিতাখালী গ্রামের প্রায় শতাধীক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় লুটকারী আ: মজিদ শেখের পুত্র শিকদার মল্লিক ইউনিয়নের চালিতাখালী গ্রামের বাসিন্দা শিকদারমল্লিক ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি রুহুল আমীন সেখ দীর্ঘদিন যাবত এলাকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজনের সম্পত্তি দখল, মুক্তিযোদ্ধা, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের উপর নির্যাতন করে আসছে।

লিখিত বক্তব্যে ৪২ টি অভিযোগের মধ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মন্দিরের যায়গা দখল করে মাছের ঘের তৈরী, সংখ্যালঘুদের যায়গা জমি, সুপারী বাগান, প্রতিপক্ষ ইউনিয়নয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি রাজা আলী সিকদারের বাড়িতে ডাকাতি, তার ছোট ছেলে মিন্টুর পায়ে গুলি, নিজে গাঁজা-ইয়াবা বিক্রি করলেও পুলিশকে ম্যানেজ করে প্রতিপক্ষকে মামলায় ফাঁসানো, বর্তমান সরকারের ১০ টাকা মূল্যের রেশন কার্ডের চাল জামায়ত-বিএনপিসহ নিজের আত্মীয়স্বজনদের দেয়া, নিজে প্রাথমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হয়ে নিজ মামাতো ভাই ও ভাবীকে দিয়ে ইচ্ছেমত ইস্কুল করানো, যার কারণে ১নং চালিতাখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে ২০/২৫ জনের বেশী ছাত্র-ছাত্রী নাই। এসব ব্যাপারে এলাকাবাসী তার বিরুদ্ধে একধিকবার থানায় মামলা দিলেও টাকা দিয়ে ও এমপির দোহাই দিয়ে পুলিশকে ম্যানেজ করে মামলাগুলি বাতিল করে দেয়।

তার বিরুদ্ধে ছিনতাই, ডাকাতি, দেওয়ানীসহ একাধিক মামলা থাকলেও সে পুলিশের সাথে সখ্যতা করে নিয়মিত এলাকায় সন্ত্রাস, চাদাঁবাজী, জবরদখল, মারামারি করে আসছে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন এলাকাবাসী।

সংবাদ সম্মেলনে একাধিক ক্ষতিগ্রস্থ হিন্দু পরিবারের লোকজন কান্না জড়িত কন্ঠে অভিযোগ করেন, স্থানীয় এমপি এ কে এম এ আউয়াল তার মামা বলে পরিচয় দিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন যাবত সে বিভিন্ন অন্যায়-অত্যাচার করে আসছে। মেম্বর রুহুলের অত্যাচারে তার এখন গ্রাম ছেড়ে ভারত চলে যাবার চিন্তা ভাবনা করছেন।

তারা বলেন, এসব ব্যাপারে অভিযোগ নিয়ে সদর আসনের এমপি এ কে এম এ আউয়ালের কাছে একাধিকবার গেলেও এমপি রুহুলকে ডেকে সবার সামনে নিষেধ করলেও এলাকায় রুহুল বহাল তবিয়তে নির্বিঘ্নে তার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে এলাকাবাসী সাংবাদিকদের মাধ্যমে সঠিক ঘটনা তুলে ধরে অবিলম্বে এর প্রতিকার চান প্রশাসনের কাছে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত রুহুল শেখের কাছে জানতে চাইলে মোবাইলে তিনি তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি পরপর দুইবার জনগণের ভোটে নির্বাচিত মেম্বর। আমার সাথে নির্বাচনে হেরে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে এলাকার কিছু লোককে দিয়ে মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগ করেছে প্রতিপক্ষ পরাজিতরা।

মন্দিরের যায়গা দখল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে যায়গায় মাছের পুকুর করা হয়েছে তা তার নিজের খরিদা জমি। আর এখন ওই মন্দিরে কোন পুজাঁ হয় না, পাশের কালী মন্দিরে এলাকাবাসী পুজাঁ করে।

 






Related News

Comments are Closed