Main Menu

প্রশাসনের চাপের মূখে অনুষ্ঠান বন্ধ ও তোরন খুলে ফেলেন সিদ্ধিরগঞ্জে দেওয়ানবাগী ও চরমোনাই মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আসঙ্কা

kalerchitro 19.07সিদ্ধিরগঞ্জ : প্রশাসনেসর চাপের মুখে অনুষ্ঠান বন্ধ ও তোরন খুলে ফেলেন দেওয়ানবাগের অনুসারী হাবিবল্লা হবুল। সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধিন শিমরাইল মোড়ে ভন্ড দেওয়ানবাগী ও চরমোনাই সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আসঙ্কা। থানাধিন হীরাঝিল হাবিবুল্লাহ টাওয়ারে নবী করিম(সাঃ) কে নিয়ে বাজে মন্তব্যকারী দেওয়ানবাগীর আস্তানা উদ্বোধন উপলক্ষে ১’অক্টোবরের অনুষ্ঠান প্রতিহত করতে একই দিনে শিমরাইল মোড় ডাচ বাংলা ব্যাংক এলাকায় প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচী ঘোষনা করেছে চরমোনাই অনুসারীরা। তৌহিদী জনতার ব্যানারে আহবান করা তাদের কর্মসূচী সফল করতে লিফলেট বিতরন করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন রাখতে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা ট্রাফিক বিভাগের এ,এসপি ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মুঃ সরাফত উল্লাহ সরেজমিন পরিদর্শন করে দেওয়ানবাগীর গোলাম দাবিদার অনুষ্ঠানের আয়োজক ভন্ড হাবিবুল্লাহ হবুলকে তোরণ ও গেইট খোলে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন। থানার ওসি সরাফত উল্লাহর নির্দেশ মানতে নারাজ দেওয়ানবাগীর গোলাম ভন্ড হাবিবুল্লাহ হবুল। দেওয়ানবাগীর অনুসারীরা অনুষ্ঠান করতে আর চরমোনাইর অনুসারীরা প্রতিহত করতে অনড় থাকায় সংঘর্ষ নিশ্চিত বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এর আগেও বিগত ২’হাজার ৬’সালে শিমরাইল মোড়ে দেওয়ানবাগী ও চরমোনাইর অনুসারীদের মধ্যে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছিল। ঐ সংঘর্ষে পুলিশের গাড়ীতে আগুন গুলাগুলি ও প্রাণ হানির ঘটনা ঘটে। একই ঘটনা যেন আবার না ঘটে সেজন্য আগে থেকেই প্রশাসনিক ভাবে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করা জরুরী বলে মতপ্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
চরমোনাই অনুসারীদের অভিযোগ দেওয়ানবাগী ভন্ড। সে নবী করিম হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে বিভিন্ন বাজে মন্তব্য করে থাকে। তার এসব মন্তব্যের মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হলো,(১) দেওয়ানবাগী বলেছেন, ফরিদপুর থেকে ঢাকা আসার পথে মধ্যেবর্তী স্থানে দেখলাম নবী করিম (সাঃ) বিবস্ত্র অবস্থায় পড়ে আছে (নাউসুবিল্লাহ ), তখন আমার হাতের স্পর্শে তার শরীরে কাপড় আসলো। (২) দেওয়ানবাগী বলে, কাবা শরীফ আমার ভাবে রহমতে চলে আসে বিধায় আমার এবং আমার অনুসারীদের মক্কা শরীফ গিয়ে হজ্ব করার প্রয়োজন নেই। এছাড়াও দেওয়ানবাগী নিজেকে নবী হযরত মুহাম্মদ(সাঃ) এর মেয়ের জামাই দাবি করছে। তাই ওই দেওয়ানবাগীর মত ভন্ড জালেমের আস্তানা নারায়ণগঞ্জে উদ্বোধন করতে দেওয়া হবেনা।
জানা গেছে, দেওয়ানবাগীর নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্নয়কারী সিদ্ধিরগঞ্জের আটি ওয়াপদা কলোনী এলাকার বাসিন্দা বহু বিতর্কিত ভন্ড হাবিবুল্লাহ হবুল তার মালিকানাধীন হীরাঝিলস্থ হাবিবুল্লাহ টাওয়ারে একটি আস্তানা বানিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ আস্তানায় চলছে দেওয়ানবাগী অনুসারীদের বয়ান ও যিকির আসকার। আস্তানাটি আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করা হবে ১’অক্টোবর রাত ৮’ টায়। দেওয়ানবাগী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আস্তানাটি উদ্বোধন করবে বলে জানা গেছে। দেওয়ানবাগীর আগমন ও আস্তানা উদ্বোধন উপলক্ষে ব্যাপক আয়োজন করেছে হাবিবুল্লাহ হবুল। একাধিক তোরণ ও গেইট নির্মাণ করে আস্তানাকে সাজানো হয়েছে অপরূপ সাজে।
অপরদিক দেওয়ানবাগীর আগমন ও আস্তানা উদ্বোধন প্রতিহত করার ঘোষনা দিয়েছে চরমোনাই পীরের অনুসারীরা। তৌহিদী জনতার ব্যানারে তারা প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচী দিয়েছে একই দিনে। আরেক বিতর্কিত নেতা ও তৈল চোর আলহাজ্ব আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সির নেতৃত্বে ঐ প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হবে। নিজ নিজ সিদ্ধান্তে দু’দলই অনড় থাকায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারনা। যেমন হয়েছিল বিগত ২’হাজার ৬’সালে।
এ বিষয়ে হাবিবুল্লাহ হবুলের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আজ(বৃহস্পতিবার) দুপুরে জেলা ট্রাফিক বিভাগের এএসপি ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি সরাফত উল্লাহ এসেছিল। তারা সবকিছু দেখে গেছেন। এএসপি কিছু না বললেও সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মুঃ সরাফত উল্লাহ আমাকে নির্দেশ দিয়েছে অনুষ্ঠান না করার জন্য। এমনকি গেইট খোলে ফেলার কথাও তিনি বলেছেন। তবে আমি ওসির নির্দেশ মানবোনা। যতক্ষণ উপর থেকে নির্দেশ না পাবো ততক্ষণ আমি গেইট খোলা কিংবা অনুষ্ঠান বন্ধ করবোনা(উপর বলতে হাবিবুল্লাহ হবুল দেওয়ানবাগীকে বুঝিয়েছেন)। চরমোনাই অনুসারীরা অনুষ্ঠান প্রতিহত করার ঘোষনা ও প্রতিবাদ সমাবেশ আহবান করায় সংঘর্ষ হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে হবুল বলেন, আমরা কোন সংঘর্ষে জড়াবো না। তারাও মুসলমান আমরাও মুসলমান। তারা এক পীরের অনুসারী আমরা আরেক পীরের। এখানে সংঘর্ষের কোন কারণ নেই। তাছাড়া আমরা অনুষ্ঠান করবো ঘরের ভিতরে। তারা মহাসড়কে প্রতিবাদ সভা বা বিক্ষোভ করলে আমাদের কোন সমস্যা নেই।






Related News

Comments are Closed