Main Menu

দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের নতুন বার্তা দেবেন চীনের প্রেসিডেন্ট

50ac8e9d99431a3692b2eadd83034ff9-57eb47bd0d7feচীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বাংলাদেশ সফরে আসছেন ১৪ অক্টোবর। এই সফরকালে তিনি দু’দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার রাজনৈতিক বার্তা দেবেন বলে মনে করেন সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফায়েজ আহমেদ ও লিয়াকত আলী চৌধুরী। তাদের মতে, ‘এ সফরের মাধ্যমে দু’দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। মঙ্গলবার বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে তারা এমন মন্তব্য করেন।

চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফায়েজ আহমেদ বলেন, ‘কৌশলগত কারণে চীনের কাছে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য চীনের সহযোগিতা প্রয়োজন। এ সফরের মাধ্যমে দু’দেশের নেতৃত্ব আরও ঘনিষ্ঠ হবে।’ তিনি বলেন, ‘ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে ভালো সম্পর্ক আছে। সামনের দিনগুলোতে আরও বাড়বে।’

সাবেক এই কূটনীতিকের মতে, ‘তিনটি দেশ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির জন্য সবচেয়ে জরুরি। দেশগুলো হলো ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য চীনের অবদানের কারণে ঢাকার কাছে বেইজিং গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি বলেন, ‘চীনের সক্ষমতা ও আগ্রহ রয়েছে বাংলাদেশকে সহায়তা দেওয়ার।’

উল্লেখ্য, শি জিনপিং হচ্ছেন চীনের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি, যিনি বাংলাদেশ সফর করছেন। এর আগে ১৯৮৬ সালে চীনের আরেক রাষ্ট্রপতি লি শিয়ানিয়ান ঢাকা সফর করেন।

সাবেক কূটনীতিক মুন্সী ফায়েজ বলেন, ‘যখন কোনও চীনের রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশ সফর করে, তখন একটি বড় অর্থনৈতিক প্যাকেজ ঘোষণা করে।’ তার মতে, ‘বিবেচনায় এবারের বাংলাদেশ সফরের সময়ে এর ব্যতিক্রম হবে না।’ তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, এ সফরের সময়ে অনেকগুলো চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। একটি বড় প্যাকেজ ঘোষণা করা হবে আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য।’  তার মতে, ‘বাংলাদেশ যতটুকু সহায়তা নিতে পারবে, ততটুকুই চীন দেবে।’

ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত লিয়াকত আলী চৌধুরীর মতে,  ‘চীন অত্যন্ত বাস্তববাদী এবং বাংলাদেশ চায় না, এমন কোনও কিছুর জন্য তারা আমাদের বলবে না। চীন তার অবস্থান সংহত করার চেষ্টা করে। কিন্তু যদি তারা বুঝতে পারে এর ফলে অন্যদের সমস্যার কারণ হচ্ছে, তাহলে তারা বিষয়টি নিয়ে জোরাজুরি করে না।’ তিনি  আরও বলেন, ‘চীনের রাষ্ট্রপতির সফর প্রমাণ করে বাংলাদেশের গুরুত্ব। শি জিনপিং এ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলবেন।’

উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে ক্লোজার কমপ্রিহেনসিভ পার্টনারশিপ কো-অপারেশন সম্পর্ক রয়েছে।

২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফরের সময়ে ঘোষিত যৌথবিবৃতিতে বলা হয় দু’দেশ ক্লোজার কমপ্রিহেনসিভ পার্টনারশিপ কো-অপারেশন সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

এ প্রসঙ্গে লিয়াকত আলী চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার চীন এবং ভবিষ্যতে এটি আরও বাড়বে। বেইজিং তার দীর্ঘমেয়াদি কৌশল পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোডনীতি অনুসরণ করছে। বাংলাদেশ এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাংলাদেশকে আস্থায় নেওয়ার জন্য যা-যা করা দরকার, চীন তাই করবে।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে বড় আকারে বিনিয়োগ করতে চায় চীন। এটি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’

সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এ সফরকালে ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের ২৫টি প্রকল্প চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা প্রকল্পগুলো নিয়ে কাজ করছি। আশা করছি এ সফরের আগে দু’দেশের সরকার এগুলো চূড়ান্ত করবে।’






Related News

Comments are Closed