Main Menu

অতিরিক্ত গম বরাদ্দের নামে টাকা দাবির অভিযোগ

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) দাবি করে একটি নাম্বার থেকে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) এর সরকারি মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করে মাদারীপুরের শিবচরে ৫ জন ইউপি চেয়ারম্যানকে অতিরিক্ত গম বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলে টাকা দাবি করেছে এক প্রতারক চক্র। এ ঘটনায় সরকারি ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নতার অভিযোগে পরে ইউএনও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

উমেদপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আ. লতিফ মুন্সী জানান, মঙ্গলবার দুপুর ৩টার সময় +৮৮০১৭৪৪২৯২৩৭২ মোবাইল দিয়ে নিজেকে মাদারীপুরের এডিসি পরিচয় দিয়ে আমাকে ফোন করে। প্রতারকচক্র বলে বন্যায় আপনার ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ জন্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হিসেবে আপনাকে ১০০ টন অতিরিক্ত গম বরাদ্দ দেওয়া যাবে। তবে আপনি প্রতি টন গমের জন্য ১ হাজার করে টাকা দিতে হবে।

এর কিছুক্ষণ পরে আবার শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরান আহমেদের ব্যবহৃত ০১৭৩৩৩৫১৪২৪ নাম্বারটি দিয়ে ফোন করে বলে এডিসি স্যার যেভাবে বলেছেন, সেভাবে কাজ করলে গম বরাদ্দ পাওয়া যাবে। তিনি (ইউপি চেয়ারম্যান) আরও জানান, দুপুরে ওই ফোন পাওয়ার পর শিবচর উপজেলার অপর ইউপি চেয়ারম্যানকে একইভাবে বিভিন্ন পরিমাণে গম বরাদ্দ’ দেয়ার কথা বলে বিপুল পরিমাণ টাকা দাবি করে প্রতারক চক্র।

অন্যান্য চেয়ারম্যানরা হলেন- জাকির হোসেন হায়দার (বহেরাতলা উত্তর), আবুল বাশার মুন্সী (বাঁশকান্দি), শওকত হোসেন নান্নু (ভান্ডারী কান্দি), মো. দেলোয়ার হোসেন হাওলাদার (পাঁচ্চর)।

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে অপর ইউপি চেয়ারম্যানদের সঙ্গে ফোন দিয়ে জানা যায়, উল্লেখিত চেয়ারম্যানরা ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন চেয়ারম্যানদের কাছে প্রতারকচক্র বিভিন্ন পরিমাণে টাকা দাবি করেছে।

জানা যায়, প্রতারকচক্র প্রথমে মাদারীপুরে ডিসি অফিসে টাকা পৌঁছানোর কথা বলে। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে প্রতারকচক্র ওই নাম্বার দিয়ে ফোন দিয়ে বলে কষ্ট করে মাদারীপুর আসতে হবে না। আমরা বিকাশ নম্বার দিচ্ছি। সেই নাম্বারে বিকাশ করলেই হবে।

এ ব্যাপারে শিবচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইমরান আহমেদ জানান, প্রতারক চক্রের ফোন পেয়ে অনেক চেয়ারম্যান আমার সঙ্গে মোবাইলে বিষয়টি জানতে চায়। কিন্তু আমি তো এ ব্যাপারে কোনো ইউপি চেয়ারম্যানকে ফোন দেয়নি। এ ঘটনায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। তাই আমি মঙ্গলবার রাতে শিবচর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নম্বর-১১১৫, তারিখ-২৩-০৮-১৬) করেছি।

শিবচর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আবুল খায়ের মিয়া থানায় জিডির ব্যাপারে সত্যতা স্বীকার করে জানান, এ ব্যাপারে আইন গত প্রক্রিয়া চালানো হবে। প্রতারক চক্রকে সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

এ ব্যাপারে এডিসি পরিচয়ে ব্যবহ্রত +৮৮০১৭৪৪২৯২৩৭২ নাম্বারে একাধিকবার মুঠো ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

– See more at: http://www.bd-pratidin.com/country/2016/08/24/165358#sthash.TrdpvjG6.dpuf






Related News

Comments are Closed