Main Menu

মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে বিধবা পারুল, শাশুড়ি গ্রেফতার

Thakurgaon_Parul_pic-2শাশুড়ি ও ননদের নির্মম নির্যাতনের শিকার ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা ভাউলারহাট এলাকার দুই সন্তানের জননী পারুল আক্তার হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। পুলিশ এ ঘটনায় শাশুড়ি নুরজাহানকে গ্রেফতার করেছে।

গত ৬ মাস আগে স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে পারুলের উপর নির্যাতন শুরু করেন তার শাশুড়ি, ননদ ও দেবর। গতকাল সোমবার ঘর থেকে বের করে দিতে চাইলে পারুল অস্বীকৃতি জানায়। এ কারণে তার উপর চলে নির্মম নির্যাতন। ইট-পাথর ও লাঠিসোঁটা দিয়ে গৃহবধূকে শারীরিক আঘাত করার পর পারুল জ্ঞান হারালে তার মৃত্যু হয়েছে ভেবে শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা পারুলকে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে হাসপাতালে মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছেন পারুল।

পারুলের বাড়ি একই উপজেলা সেনন্দুনা চছপাড়া গ্রামে। তার বাবা লুৎফর রহমান পেশায় দিনমজুর। দরিদ্র পিতা মেয়ের সুখের জন্যে ২০০৬ সালে ধুমধাম করে পারুলকে বিয়ে দেন একই উপজেলার ভাউলারহাট এলাকার কামরুল হাসানের সাথে। বিয়ের সময় পারুলকে বিভিন্ন আসবাপত্রসহ আর্থিক টাকাও উপহার দেন।

দাম্পত্য জীবনে ২টি পুত্র সন্তান জন্ম দেয় পারুল। চলতি বছরের জানুয়ারির ২৪ তারিখ অসুস্থতাজনিত কারণে স্বামী কামরুল হাসান মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর শাশুড়ি  নুরজাহান বেগম, দেবর লাবু, জাহাঙ্গীর ও ননদ আঞ্জুমানের যন্ত্রণা ও নির্মম নির্যাতন শুরু হয় পারুলের উপর। স্বামীর বাড়ি থেকে তাকে বের করে দেওয়ার জন্য চলে ষড়যন্ত্র ও অমানবিক নির্যতিন। দিনে দিনে নির্যাতনের মাত্রা বেড়েই চলতে থাকে।

ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শুভেন্দুনাথ জানান, একটুর জন্য পারুলের বাম চোখটি রক্ষা পেয়েছে। বর্তমানে রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক।

নির্যাতিত পারুল আক্তার বলেন, আমার স্বামীর মৃত্যুর পর আমাকে তারা বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়ে সম্পত্তির ভোগ দখল করতে চায়। আমি সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে সবকিছু সহ্য করি। কিন্তু দিন দিন নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকে। আমি এই নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচার চাই এবং স্বামীর বাড়িতে সন্তানদের নিয়েই থাকতে চাই।

ননদ আঞ্জুমান ইসলাম জানান, ভাইয়ের মৃত্যুর পর সংসারের খরচ আমরাই বহন করি। একটু ভুল বোঝাবুঝির কারণে তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। যেহেতু পারিবারিক বিষয় আমরাই সমাধান করে নিব।

ঠাকুরগাঁও জেলা মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুচরিতা দেব জানান, গৃহবধূর উপর অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। আমরা সংগঠন থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

ঠাকুরগাঁও থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান জানান, নির্যাতনের ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে পারুলের শাশুড়ি নুরজাহানকে গ্রেফতার করা হয়েছে বাকিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে।






Related News

Comments are Closed