Main Menu

সিদ্ধিরগঞ্জ তরুণীকে মিথ্যা বলে ধর্ষনের চেষ্টা, থানায় অভিযোগ দায়ের

u71news_rapeনাসিক ৩ নং ওয়ার্ড নয়াআটি মুক্তিনগর এলাকায় পূর্ব পরিচিত ১৬ বছরের এক গার্মেন্টসকর্মী তরুণীকে মিথ্যা কথা বলে ডেকে নিয়ে একটি কক্ষে আটকিয়ে ধর্ষনের চেষ্টা চালিয়েছে পিক-আপ চালক কাউসার থানায় অভিযোগ দায়ের। আধাঘন্টা পর প্রতিবেশীদের হস্তক্ষেপে তরুণী উদ্ধার। গত সোমবার দুপুর আড়াইটায় এ ঘটনা ঘটলেও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে গতবৃহস্পতিবার।
অভিযোগ জানা গেছে, ৩ নং ওয়ার্ডের নায়াআটি মুক্তিনগর এলাকার সিদ্দিকুর রহমানের বাড়িতে স্ত্রী সন্তান নিয়ে ভাড়া থাকে কুমিল্লা জেলার বুড়িচং থানার কোরপাই গ্রামের আবুল কাশেম। তার ১৬ বছরের এক তরুণী কাজ করে গার্মেন্টস কারখানায়। আবুল কাশেম আগে একই এলাকার মতিন মিয়ার বাড়ীতে ভাড়া থাকতেন। সে সুবাদে মতিনের পরিবারের সাথে তাদের ভাল সখ্যতা গড়ে উঠে। গত সোমবার গার্মেন্টস কর্মী তরুণী বেলা আড়াইটায় মোবাইল ফোনে টাকা লোড করতে বটতলায় যায়। এসময় মতিন মিয়ার নাতি পিক-আপ চালক কাউসার (২৬) তার নানু ডাকছে বলে ওই তরুণীকে মিথ্যা কথা বলে। যেহেতু আগে ওই বাড়ীতে ভাড়া থাকতো সে সুবাদে মতিনের অসুস্থ স্ত্রী ডাকছে সরল বিশ্বাসে ওই তরুণী মতিন মিয়ার বাড়ীতে যায়। এসময় কাউসারও তরুণীর পিছু ধরে। তুরুনী বাড়ীর গেইটের ভিতর প্রবেশ করার সাথে সাথেই কাউসার ও মতিনের আরেক শ্যালক শরিফ তরুণীকে জড়িয়ে ধরে জোর করে বাড়ীর নিচ তলায় কাউসারের থাকার কক্ষে নিয়ে যায়। তখন শরীফ কক্ষ থেকে বের হয়ে বাহিরে পাহারা দিতে থাকে আর কাউসার দরোজা বন্ধ করে তরুণীকে ধর্ষণ করার চেষ্টা চালায়। অপর দিকে প্রতিবেশী এক মহিলা ঘটনাটি অনুমান করতে পেরে মতিন মিয়ার বাড়ীতে গিয়ে আরো কয়েকজন মহিলাকে সাথে নিয়ে কাউসারের থাকার কক্ষের দরোজা খোলার জন্য ডাকা ডাকি করতে থাকে। আনুমানিক আধা ঘন্টা পর কাউসার দরোজা খোললেও ভিতরে কাউকে প্রবেশ করতে নিষেধ করে। তখন ওই মহিলা জোর করে কক্ষে প্রবেশ করে গার্মেন্টসকর্মী উদ্ধার করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই মহিলা জানায়, কাউসার ও তরুণী বাড়ীতে প্রবেশ করছে তা দেখেই আমার সন্দেহ হয়। তাই আমি ছুটে গিয়ে কাউসারের থাকার ঘরের দরোজা বন্ধ পেয়ে ডাকা ডাকি শুরু করি। কাউসার দরোজা খোলার পর ভিতরে গিয়ে কাউসার এবং তরুণী দু’জনকেই মারধর করি। তখন কাউসারের স্বজনরা বিষয়টি কাউকে না জানানোর অনুরোধ করে সালিশ বিচারের মাধ্যমে মিমাংশা করার কথা বলে। পরে খবর দিয়ে পিতার কাছে মেয়েকে বুঝিয়ে দেয়া হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিবেশী আরেক মহিলা জানায়, কাউসারের সাথে ওই তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠার বিষয়টি জানা জানির পর কাউসারের নানা মতিন মিয়া ওই মেয়ের পিতাকে বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দেয়। প্রেমের সম্পর্কের কারণেই তারা ওই কক্ষে এক সাথে মিলিত হয়েছে বলে তিনি ধারনা করছেন।
ভিকটিম তরুণী জানায়, কাউসার তার নানি ডাকছে বলে মিথ্যা কথা বললে আমি সরল বিশ্বাসে তার নানির সাথে দেখা করতে ওই বাড়ীতে যাই। বাড়ীর মেইন গেইটের ভিতরে যেতেই কাউসার ও শরীফ দু’জনে জড়িয়ে ধরে জোর করে আমাকে রুমের ভিতরে নিয়ে শরীফ বের হয়ে পড়ে আর দরোজা বন্ধ করে দিয়ে কাউসার আমার স্পর্স কাতর স্থানে হাত দিয়ে ধর্ষন করার চেষ্টা চালায়। কাউসারের সাথে প্রেমের সম্পর্কের কথা স্বীকার না করলেও সে তার পূর্ব পরিচিত বলে জানায় তরুণী।
এদিকে এ ঘটনায় সালিশ বিচারের কথা বলে কাউসারের নানার বাড়ির লোকজন সময় ক্ষেপন করে। একদিকে গরীব অপর দিকে মেয়ের বভিষ্যতের কথা চিন্তা করে বিচারের অপেক্ষা করছিল বলে ভিকটিমের পিতা জানায়। কিন্তু বিচারের পরিবর্তে কাউসারের স্বজনরা উল্টো ওই তরুণীকে খারাপ বলে অপবাদ দিয়ে ঘটনা আড়াল করার পায়তারা শুরু করেছে। তাই কাউসার ও শরীফের বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ তুলে মেয়ের পিতা বাদী হয়ে গত বৃহস্পতিবার সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। তবে এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেনি বলে বাদী পক্ষ জানায়।






Related News

Comments are Closed