Main Menu

সিদ্ধিরগঞ্জের ডি ফাই ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানে নির্যাতিত শিশু শ্রমিকরা

সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধিন হীরাঝিল এলাকায় ডি ফাই ট্রেডিং নামক একটি প্রতিষ্ঠানে নির্যাতনের শিকার শিশু শ্রমিকরা। প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে ফ্রেস মিনারেল ওয়াটার (পানি) এর এজেন্ড নিয়ে শিশু শ্রমিকদিয়ে চালাচ্ছে কার্যক্রম। প্রতিষ্ঠান মালিক মাসুম ও জসিম ক্ষমতাসিন দলের এক সন্ত্রাসীর স্বজন হওয়ায় শ্রমআইনের তোয়াক্কা না করে এসব শিশু শ্রমিকদের ইচ্ছামত খাটাচ্ছে। শিশুদের শারীরিক ক্ষমতার অক্ষমতার কথা বিবেচনা না করে মারধর ও বেতন না দেওয়ার ভয় দেখিয়ে পানির কেইচ ট্রাকে লোড-আনলোড করতে বাধ্য করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, এক সময়ের আদমজীর সন্ত্রাসী কবির ওরফে মোটা কবিরের অন্যতম সহযোগী মাসুম ও জসিম হীরাঝিল এলাকার ১০ নং সড়কে মোঃ দেলোয়ার হোসেনের মালিকানাধিন ভবনের নিচ তলায় ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে ডি ফাই ট্রেডিং নামক একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলেছে। এ প্রতিষ্ঠানে কাজ করছে ১০/১২ জন শিশু শ্রমিক। যাদের বয়স ৮ থেকে ১২ বছরে মধ্যে। প্রতিষ্ঠান মালিক মাসুম ও জসিম ফ্রেস মিনারেল ওয়াটার এর এজেন্ড নিয়ে ব্যবসা করছে। প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছে মাকসুদ নামে এক লোক। এ প্রতিষ্ঠানে কম টাকা মজুরী দিয়ে কাজ করাচ্ছে অত্র এলাকার হতদরিদ্র পরিবারের শিশুদের দিয়ে। এসব শিশু শ্রমিকরা পানির বোতলের কেইচ ট্রাকে লোড-আনলোড করছে। শিশু শ্রমিকদের শারীরিক অক্ষমতার পরও মারধর ও বেতন না দেওয়ার ভয় দেখিয়ে লোড-আনলোড করতে বাধ্য করা হচ্ছে। অতিরিক্ত বোঝার কারণে এসব শিশু শ্রমিকদের জীবন ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে। শারীরিক ক্ষমতা না থাকা সত্তেও এসব শিশুরা পেটের দায়ে কষ্ঠ করে কাজ করছে। সরকারি শ্রম আইনের তোয়াক্কা না করে প্রতিষ্ঠান মালিকরা কম টাকা বেতন দিয়ে শিশু শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিশু শ্রমিক জানায়, তারা কেহ মাসিক নির্ধারিত বেতনভূক্ত শ্রমিকনা। কোম্পানী থেকে পানির গাড়ি আসলে ম্যানেজার মাকসুদ তাদের মধ্যে যে কোন এক জনকে খবর দেয়। পরে তারা একে অন্যের সাথে যোগাযোগ করে সবাই মিলে গাড়ি থেকে মালামাল আনলোড করে গোডাউনে নিয়ে যায়। এতে তারা প্রত্যেককে ২০ টাকা করে দিয়ে ১ টি করে সিঙ্গারা খাওয়ায়। হীরাঝিল এলাকার মোস্তফা মিয়া ছেলে আশিক, আবদুর রহমানে ছেলে কাজেম,মানিক মিয়ার বাড়ীর ভাড়াটিয়া আনোয়ার মিয়ার ছেলে বিজয় সহ ১০/১২ জন এ প্রতিষ্ঠানে লোড-আনলোডের কাজ করছে। তাদের মধ্যে কেহ কেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র। তারা অভাবের তাড়নায় পরা শোনা বাদ দিয়ে কাজ করছে। হীরাঝিল এলাকার এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়,ম্যানাজার মাকসুদ বাচ্চাদের টাকার লোভ দেখিয়ে সন্ধার পর থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত কাজ করাচ্ছে। পানির বোতলের কেইচ ট্রাকে লোড-আনলোড করা অবস্থায় এসব বাচ্চারা যে কোন সময় দুর্ঘটনায় পতিত হতে পারে। তিনি আরো জানান, প্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিক দিয়ে যে ট্রাক আনলোড করতে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা লাগবে সেই ট্রাক শিশুদের দিয়ে মাত্র ২‘শ টাকা দিয়ে আনলোড করছে ম্যানেজার মাকসুদ। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের ম্যানাজার মাকসুদের সাথে কথা হলে তিনি জানান, প্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিক না পাওয়ায় শিশু শ্রমিক দিয়ে কাজ করাতে হচ্ছে। শিশু শ্রমিক দিয়ে কাজ করানো অপরাধ তা জানি। মজুরী কোন বিষয় না প্রকৃত পক্ষে বড় শ্রমিকরা এ কাজ করতে আগ্রহী না থাকায় বাধ্য হয়ে শিশুদের দিয়ে কাজ করাতে হচ্ছে বলে ম্যানেজার মাকসুদের মন্তব্য।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মু: সরাফত উল্লার সাথে কথা হলে তিনি বলেন,এটা আমাদের বিষয় না। ইউনুর সাথে কথা বলেন। সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা আক্তার চৌধুরীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি সংশ্লিষ্ট থানার ওসি সাহেবের সাথে কথা বলবো যাতে, আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করা হয়।






Related News

Comments are Closed