Main Menu

সিদ্ধিরগঞ্জে ইভটিজিং অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশের উপর ছাত্রলীগের হামলা আটক-৭

11 (Medium)সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধিন পূর্ব নিমাইকাশারী এলাকায় এক কলেজ ছাত্রীকে ইভটিজিং করার অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসী হাবিবুর রহমান হাবিব বাহিনীর হামলা মারধরের শিকার হয়েছে থানা পুলিশ। আহত হয়েছে এসআই সুমনা পারভীন ও কনস্টেবল জুলকার নাঈম। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১ টায় থানাধিন পূর্ব নিমাইকাশারী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ নাসিক ৩ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আল-মামুনসহ ৭ জনকে আটক করে। আটক করার প্রতিবাদে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা বেলা ১ টায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ঘেরাউ, নারায়ণগঞ্জ-আদমজী শিমরাইল সড়ক অবরোধ, মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে। থানা ঘেরাউয়ের খবর পেয়ে জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মতিয়ার ও সার্কেল এসপি মাসুদ সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ছুটে গিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি মজিবুর রহমানের সাথে দীর্ঘ ১ দেড় ঘন্টা বৈঠক করে। পরে রাজনৈতিক চাপে পুলিশ আটককৃত ৭ জনের মধ্যে ৬ জনকে ছেড়ে দেবে বলে জানায়। আর আল-মামুনকে পুলিশের কাজে বাদা প্রধান করায় গ্রেফতার দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে হামলার শিকার এসআই সুমনা পারভীন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে।
জানা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় রওশন আরা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রী সানজিদা আক্তারকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছে আদর্শনগর এলাকার নোমান(২৭)। এতে সানজিদার মা রাজিয়া সুলতানা নোমানের বিরুদ্ধে ইভটিজিং অভিযোগ দায়ের করে থানায়। ওই অভিযোগের তদন্ত করতে সোমবার সকাল সাড়ে ১১ টায় এসআই সুমনা পারভীন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে নোমানের বাড়ীতে যায়। এসময় নোমানের ছোট ভাই নাসিক ৩ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন পুলিশের সাথে অসদাচরণ করে। তখন পুলিশ আল-মামুনকে আটক করে থানায় নিয়ে যাচ্ছিল। এ খবর পেয়ে ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান, ছাত্রলীগ নামধারী সাকিবসহ ১৫/১৬ জন সন্ত্রাসী পাইনাদী কুয়েতপ্লাজার সামনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পুলিশের গাড়ীর গতিরোধ করে। ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা আল-মামুনকে ছেড়ে দিতে বলে। পুলিশ তাকে ছাড়তে রাজি না হলে কথা কাটাকাটির একপর্যায় ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা এসআই সুমনাকে খিল-ঘুষি মারতে থাকে। এসআই সুমনাকে রক্ষা করতে গিয়ে মারধরের শিকার হয় কনস্টেবল জুলকার নাঈম। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এসআই সুমনা ওয়ারলেসের মাধ্যমে থানায় খবর দেয়ে। খবর পেয়ে এসআই রফিকুল ইসলাম ও এএসআই নূরুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশের উপর হামলাকারী ছাত্রলীগ সন্ত্রাসী হাবিবুর রহমান ও সাকিবসহ ৭ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এদিকে ছাত্রলীগের ৭ জনকে আটক করার খবর পেয়ে শতাধিক ছাত্রলীগ নেতাকর্মী থানায় গিয়ে থানা ঘেরাউ করে তাদের ছেড়ে দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে। একপর্যায় নারায়ণগঞ্জ-আদমজী শিমরাইল সড়ক অবরোধ ও মানব বন্ধন করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এসময় ইভটিজিংয়ের অভিযোগকারী রাজিয়া সুলতানা থানায় উপস্থিত ছিলেন। পরে বেলা ১ টায় আকটকৃত ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের ছাড়াতে থানায় ছুটে যায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি মজিবুর রহমান। শুরু হয় পুলিশের সাথে দেন দরবার। থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মুঃ সরাফত উল্লায় থানায় উপস্থিত না থাকায় বিষয়টি মোকাবেলা করছিলের ওসি তদন্ত মোঃ রফিকুল ইসলাম ও সেকেন্ট অফিসার এসআই মনির হোসেন। তারা সিদ্ধান্ত দিতে না পারায় বেলা আড়াইটায় সার্কেল এসপি মাসুদ ও সাড়ে ৩ টায় জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মতিয়ার সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ছুটে যায়। দীর্ঘ ১ দেড় ঘন্টা দেনদরবার করে রাজনৈতিক চাপে পুলিশ আটককৃত ৭ জনের মধ্যে ইভটিজারের ছোট ভাই ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুনকে গ্রেফতার দেখিয়ে বাকী ৬ জনকে ছেড়ে দেবে বলে জানায়। ধৃত আল-মামুনের বিরুদ্ধে পুলিশের কর্তব্য কাজে বাঁধা ও পুলিশের উপর হামলা,মারধরের অভিযোগে এসআই সুমনা পারভীন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে।
এ বিষয়ে জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মতিয়ার গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, ইভটিজং সংক্রান্ত একটি জিটির তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশের কর্তব্য কাজে বাঁধা প্রদান করার অপরাধে আল-মামুন নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ৭ জনকে আটক করায় থানা ঘেরাউ, সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে মর্মে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ছাত্রলীগ কর্মীদের সাথে পুলিশের ভুল বুঝাবুঝি হয়েছে। তাই তাদেরকে আটক করা হয়েছিল। তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ না পাওয়া ছেড়ে দেওয়া হবে। তবে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে। পুলিশের উপর ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের হমালা মারধরের ঘটনায় পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হলেও রাজনৈতিক চাপে হামলাকারী আকটকৃতদের ছেড়ে দেওয়ায় সচেতন মহলে সমালোচনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। উল্ল্যেখ গত ২৬শে অক্টবর ২’হাজার ১৫ সালে নাসিক ৩নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের নেতা কর্মিরা থানা ছাত্রলীগের আহব্বায়ক ও নাসিক ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহ্জালাল বাদলের বাড়িতে হামলা চালায়, বাদল তাদের নামে থানায় মামলা করে। পরে আদর্শ নগর এলাকায় ডিস ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘস্য হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত( ৯ টা ) ছাত্রলীগ নেতারা থানা হাজতে রয়েছে বলে পুলিশ যানায়।






Related News

Comments are Closed