Main Menu

সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড়ের লিথী গার্মেন্টসে নিয়ন্ত্রন নিতে মরিয়া বাদল বাহিনী

17.07এনএনএস২৪, সিদ্ধিরগঞ্জ (১৭’জুলাই ১৬ইং রোজ রোববার) ঃ সিদ্ধিরগঞ্জের মধ্য সানারপাড় এলাকার লিথী গার্মেন্টসের চাঁদাবাজি ও ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রন নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে নাসিক ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহজালাল বাদলের অনুগত সন্ত্রাসী। গার্মেন্টসের কাপড় চুরি করার অপরাধে ফ্লোর ইনচার্জ বাবুলকে মারধর করার ঘটনাকে ভিন্ন খ্যাতে প্রবাহিত করে চাঁদাবাজির মিথ্যা অভিযোগ তুলে শ্রমিক অসন্তোষ ঘটিয়ে যুবলীগ নেতা তোফায়েলকে হঠিয়ে গার্মেন্টসটির নিয়ন্ত্রন নিবার মিশনে নেমেছে সন্ত্রাসীরা। পর্দার আড়ালে থেকে এ মিশন বাস্তবায়নের কলকাঠি নাড়ছে কাউন্সিলর বাদল ও ফ্লোর ইনচার্জ বাবুল।
জানা গেছে, সানারপাড়ের লিথী এ্যাপারেল্স লিমিটেড গার্মেন্টসের ফ্লোর ইনচার্জ বাবুল দীর্ঘ দিন ধরে কাপড় চুরি করে আসছে। কারখানা মালিককে ধোকা দিয়ে ১৯’হাজার পিস মালের পরিবর্তে ৩৮’হাজার পিস মালের বিল আদায় করার অভিযোগ রয়েছে বাবুলের বিরুদ্ধে। গত পবিত্র ঈদুল ফিতরের কয়েকদিন আগে ফ্লোর ইনচার্জ বাবুল কারখানার গেঞ্জির কাপড় চুরি করে বারেক নামের এক লোকের কাছে বিক্রি করে। এ চুরির ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজন যুবক বাবুলকে আটক করে। বিষয়টি জানতে পেরে যুবলীগ নেতা তোফায়েলের সহযোগী মোঃ জসিম বাবুলকে মারধর করে কাপড় চুরির অপরাধে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করার সিদ্ধান্ত নেয়। তখন বাবুল আর চুরি করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষামা চেয়ে রক্ষা পায়। কাপড় চুরির অপরাধে বাবুলকে মারধর করার ঘটনাকে ভিন্ন খ্যাতে প্রবাহিত করার ষড়যন্ত্র করে ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহজালাল বাদলের অনুগত সন্ত্রাসীরা। চুরির অপরাধে মারধরের শিকার গার্মেন্টসের ফ্লোর ইনচার্জ বাবুলকে হাত করে ষড়যন্ত্রকারী চক্র মালিক ও শ্রমিকদের ভুল বুঝিয়ে ঈদের ৪ দিন আগে তোফায়েল ও জসিমকে চাঁদাবাজ আখ্যায়িত করে তাদের গ্রেফতার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সানারপাড় বাস ষ্ট্যান্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে লিথী গার্মেন্টস শ্রমিকরা। পরে শ্রমিকদের আন্দোলনে তোফায়েল ও তার সহযোগীদের প্রতি প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি হয়। এ সুযোগে বাদলের লোকজন লিথী গার্মেন্টসের চাঁদাবাজি ও ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রন নিবার মিশনে নামে। সূত্র জানায়, পর্দার আড়ালে থেকে ইন্দন ও সহযোগীতা করছে তোফায়েলের চির প্রতিদ্বন্ধি ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহজালাল বাদল। ঈদের ছুটির পর গার্মেন্টস খোলা হলে শ্রমিক আন্দলনের আসল রহস্য জানতে পারে গার্মেন্টস মালিকপক্ষ। শ্রমিকরাও বুঝতে পারে ফ্লোর ইনচার্জ বাবুলের কারসাজি।
শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে তোফায়েলের সহযোগী জসিম, শাহ আলম, খোকন ও ইসমাইল শ্রমিকদের বেতন থেকে ১‘শ টাকা করে চাঁদা দাবি করছে এ বিষয়টি ফ্লোর ইনচার্জ বাবুল প্রথম উপস্থাপন করে। ওই চাঁদা দিতে অপত্তি করায় তাকে মারধর করা হয়েছে বলে বাবুল শ্রমিকদের বুঝায়। চাঁদাবাজি প্রতিহত করার জন্য বাবুল শ্রমিকদেরকে আন্দোলন করার পরামর্শ দেয়। শ্রমিক সূত্রে আরো জানা গেছে, বাবুল দীর্ঘ দিন ধরেই গামেন্টসের কাপড় চুরি করছে। তাছাড়া ১৯’হাজার পিস মাল দিয়ে মালিকের কাছ থেকে ৩৮’হাজার পিসের বিল আদায়ের অভিযোগও রয়েছে ফ্লোর ইনচার্জ বাবুলের বিরুদ্ধে।
উল্লেখ্য, আলোচিত ৭ হত্যা কান্ডের পর লিথী গার্মেন্টটি নিয়ন্ত্রন করছে যুবলীগ নেতা তোফায়েল। তার আগে ওই গার্মেন্টস নিয়ন্ত্রন করতো ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহ জালাল বাদল। ৭ হত্যা কান্ডের পর একটানা ১৬’মাস পলাতক থেকে কাউন্সিলর বাদল এলাকায় ফিরে আসলেও লিথী গার্মেন্টসের নিয়ন্ত্রন নিতে পারেনি। তাই গামেন্টসটির নিয়ন্ত্রন নিতে বাদল বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে তোফায়েলকে হত্যার উদ্দেশে হামলাও করেছে বাদল বাহিনী। ভাগ্যগুনে তোফায়েল প্রাণে বেঁচে যায়। হামলার ঘটনায় বাদলকে প্রধান আসামি করে থানায় মামলাও হয়। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একে এম শামীম ওসমানের হস্তক্ষেপে তোফায়েল ও বাদলের বিরোধ মিমাংশা হলেও ভিতরে ভিতরে একে অন্যকে গায়েল করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকে। কাউন্সিলর বাদল প্রকাশ্যে তোফায়েলের সাথে বিরোধে না জড়িয়ে তার অনুগত লোকজনকে মাঠে নামিয়েছে। ##########






Related News

Comments are Closed